ঢাকা, সোমবার 18 February 2019, ৬ ফাল্গুন ১৪২৫, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রক্তপাতের অবসান চান নিহত জওয়ানের স্ত্রী

১৭ ফেব্রুয়ারি, আনন্দবাজার : সামরিকতায় আচ্ছন্ন জম্মু-কাশ্মীরে দেশরক্ষার পেশাগত দায়িত্বের বলি হয়েছেন তার একান্ত স্বজন। বৃহস্পতিবার জঙ্গী হামলায় প্রাণ হারানো সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স’র  ৪৪ জন সদস্যের মধ্যে ছিলেন তার স্বামী বাবলু সাঁতরাও। তবুও প্রতিশোধের উন্মত্ততা নেই স্বামীহারা স্ত্রী মিতার মধ্যে। জঙ্গী দমনের নামে রক্তপাত কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ চান না তিনি। স্বামীহারা মিতার কাছে প্রতিশোধ মানেই নতুন রক্তপাতের আশঙ্কা। যুদ্ধ মানেই উন্মত্ততা। তাই শান্তিপূর্ণ পথে কাশ্মীর সংকট সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানালেন নিহত বাঙালি জওয়ান বাবলু সাঁতরার স্ত্রী মিতা।

পুলওয়ামার হামলায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দুই জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন। হাওড়ার চক কাশী গ্রামের বাবলু সাঁতরা ছাড়াও জঙ্গী হামলার বলি হয়েছেন নদিয়ার সুদীপ বিশ্বাস। শনিবার ভারতীয় সময় বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তাদের মরদেহ নিয়ে দমদম বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমান। বৃহস্পতিবারের জঙ্গী হামলাকে প্রথমত নিরাপত্তাজনিত ঘাটতি হিসেবে দেখছেন মিতা। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘তেমন নিরাপত্তা ছিল না, থাকলে এমন ঘটনা দেখতে হতো না’ । ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, পুলওয়ামা হামলার কঠোর জবাব দিতে যে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে। মিতার মত, ‘এই ভাবে কোনও সমাধান হতে পারে না। যতোটা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা যায় সেই চেষ্টা করুক সরকার।’ তবে  স্বামী হারিয়েও রক্তপাতের বিরুদ্ধে সোচ্চার মিতা। সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘শুধু তো আমাদের দেশে তো নয়, সারা বিশ্বে কতো তাজা প্রাণ শেষ হয়ে যাচ্ছে তার হিসেব নেই। আজ যদি নতুন করে যুদ্ধ বাঁধে, তাহলে আমাদের দেশের না হলেও অন্য দেশের এমনই কোনও ছেলে মারা যাবে। এমনই কোনও মায়ের কোল খালি হবে। এমনটা হোক তা চাই না।’

পশ্চিমবঙ্গের আজকাল পত্রিকা তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, মুখ কালো শালে ঢাকা, শোকে পাথর হয়ে গিয়েও যেন বিশ্ব মানবতার কথা ভুলে গেলেন না সদ্য স্বামীহারা যুবতী। বারবার মনে করিয়ে দিতে চাইলেন, যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই। সংঘাতের পথে কোনও সমাধান সম্ভব নয়,  আবারও মনে করিয়ে দিলেন তিনি।  আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কফিনবন্দি হয়ে বাবলু তার গ্রামের বাড়ি রাজবংশীপাড়ায়  ফেরার পর সালোয়ার-কামিজের উপরে কালো চাদরে অর্ধেক মুখ ঢেকে মিতা জুতাহীন অবস্থায় মরদেহের সামনে আসেন। মাথা ঠুকতে ঠুকতে কফিনেই ভাঙেন দু’হাতের শাঁখা। ছ’বছরের পিয়াল তখন তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে। চারপাশে যা হচ্ছে, তা বোঝার বয়স হয়নি মেয়েটির। উল্লেখ্য, হিন্দু নারীরা রীতি অনুযায়ী স্বামীর মৃত্যুর পর তাদের হাতে পরা শাঁখা ভেঙে ফেলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ