ঢাকা, সোমবার 18 February 2019, ৬ ফাল্গুন ১৪২৫, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

৫৬ ইঞ্চির দম্ভ!

ভারতের আসামে বিজেপির ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ বানানোর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হবে না বলে মন্তব্য করেছে ‘অল অসম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসসু)’। বিজেপি আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। রাজ্য সভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটি এ মন্তব্য করেছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি পার্সটুডে পরিবেশিত খবরে বলা হয়, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বাতিল হওয়ার বিষয়ে ‘আমসুর’ উপদেষ্টা আইনজীবী আজিজুর রহমান রেডিওতে বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এটা বিজেপির সম্পূর্ণ পরাজয়। নরেন্দ্রমোদি বলেন যে, উনি ৫৬ ইঞ্চি ছাতির মানুষ, উনি যে কোন কাজ করতে পারেন। কিন্তু অসমবাসী ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলবাসী গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে বিরোধী দলসমূহের সহযোগিতায় ৫৬ ইঞ্চির দম্ভকে প্রতিহত করেছে। আর কোন কারণেই আগামী দিন ৫৬ ইঞ্চি ছাতির দক্ষতা থাকবে না, তা প্রমাণিত হয়ে গেছে।’ আমসুর উপদেষ্টা আজিজুর রহমান আরও বলেন, ‘ভারতবাসী জানেন ভারতের যত জ্ঞানী মানুষ তারা সংবিধান প্রষয়ন করে গেছেন এবং সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী ভারতবর্ষ চলবে। এখানে কোন ৫৬ ইঞ্চির দম্ভ চলবে না। এর ফলে বিজেপির ‘হিন্দুরাষ্ট্র’ বানানোর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হবে না। এরই মধ্যে অসম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যের মানুষ বিজেপির কুচক্রান্ত বুঝে গেছেন। এ জন্য তারা মোদির ৫৬ ইঞ্চির ছাতির সঙ্গে নেই। ভারতের যে হিন্দু বলয়, সেই ছত্তিসগড়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশÑ এসব রাজ্যের মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সে জন্য ওনারা যতই ৫৬ ইঞ্চি ছাতির কথা বলুক না কেন, ওনারা আগামী দিনে আর সরকারে আসতে পারবেন না। ভারতবাসী এবার সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা ও মহাত্মা গান্ধীর যে স্বপ্ন ছিল তার পক্ষে থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।’
আমসু নেতা আজিজুর রহমান তো আশাবাদের কথা বললেন। কিন্তু অসমের অর্থ, স্বাস্থ্য ও পূর্তমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্বশর্মা বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পেশ না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন। একে অসমবাসীর পরাজয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিল পাস না হলে রাজ্যের ১৭টি নির্বাচন কেন্দ্র বাংলাদেশী মুসলমানদের হাতে চলে যাবে। এমন বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে আজিজুর রহমান বলেন, এখানে বাংলাদেশের কোন লোক এসে বিধায়ক হতে পারবেন না। এটা হিমন্ত বিশ্বশর্মার হতাশার বহিঃপ্রকাশ। এখন দেখার বিষয় হলো, ভারত কোন পথে যায়। মহাত্মা গান্ধীর পথে, নাকি মোদির পথে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ