ঢাকা, সোমবার 18 February 2019, ৬ ফাল্গুন ১৪২৫, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গণতন্ত্র রক্ষা করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে

এইচ এম আব্দুর রহিম : এ দেশে গণতন্ত্র টিকে থাকবে কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মতো যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজন তা গড়ে উঠছে না। বিশ শতকের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। ভবিষ্যতে গণতন্ত্রের অবস্থা কেমন হবে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। গণতান্ত্রিক বিশ্বের কয়েকটি দেশ অভাবিত সাফল্যের পথে এগিয়ে গেছে। সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া বিস্ময়কর অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে। গণতন্ত্র যদি জনগণের শাসন হয়, তাহলে জনসাধারণের জীবনের মান উন্নয়নই রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মৌল লক্ষ্য হওয়া প্রয়োজন। উন্নত জীবনমান বলতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোঝায় না। তার সঙ্গে জড়িয়ে ব্যক্তির জন্মগত অধিকারগুলোর সংরক্ষণ, সমাজে পূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, সুশিক্ষার বিস্তার, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহনশীলতার উচ্চমাত্রা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ইত্যাদি। এদিক থেকে বলা চলে, গণতস্ত্রই হলো ভবিষ্যত রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার আলোকবর্তিকা স্বরূপ এবং নাগরিকদের নৈতিক ক্ষমতার উৎস। কিন্তু গণতন্ত্র অর্থপূর্ণ হয় সৃজনশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্পর্শে। সৃজনশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্মোহনী পরশেই গণতন্ত্রের ধারায় সমাজ জীবনের উপত্যকা প্লাবিত হয়। একুশ শতব্যাপি এর প্রথম ভাগতো বটেই, গণতন্ত্রের ঘনিষ্ঠসহচর ও সহযাত্রী থাকবে অবাধ মুক্তবাজার অর্থনীতি। গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতি বর্তমানে প্রায় সমার্থক। কিন্তু বাজার অর্থনীতির সাফল্যের মুলে বারি সিঞ্চন করে খানিকটা ‘আমি’ বা ‘আমিত্বের’ দৃষ্টিভঙ্গি এবং গণতন্ত্রের জন্য উপযোগী নয়। এ সব সমস্যা নেতৃত্বে সঠিকভাবে অনুধাবনে ব্যর্থ হলে গণতন্ত্র লাভ করবে না তার কাঙ্খিত উচ্চতা, এমনকি অনিশ্চয়তা ও সিদান্তহীনতার চোরাবালিতে গণতন্ত্র নিক্ষিপ্ত হতে পারে। উন্নয়নশীল বিশ্বে এ সম্ভাবনা প্রচুর। কেননা জনগণের প্রত্যাশা আকাশ চুন্বি। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রস্ততি অপ্রতুল। অর্থনৈতিক দুর্দশা সীমাহীন, কিন্তু রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা ও ‘মোটিভেশন’ অত্যন্ত সীমিত। এ সমাজে গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতি দুইই নতুন। দু’টির একটি ও যুগোত্তীর্ণ হয়নি। সীমিত অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে গণতন্ত্র এসব সমাজের আকাক্সক্ষা বাড়িয়েছে। অর্থনীতি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন মিটাতে সক্ষম হয়নি। তাই সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ, বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাস। বাজার অর্থনীতি প্রানবন্ত হলে জনগণ, বিশেষ করে রাজনৈতিক দিক থেকে জনগণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাজার অর্থনীতির আনুগত্য স্বীকারে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। একুশ শতকের গণতন্ত্রের জন্য শঙ্কার হেতু এখানেই। দলীয় নেতৃত্বের জাতীয় নেতৃত্বে উত্তরণ না ঘটলে এ আশংকা থেকে যায়। এ প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক প্রস্ততির কেমন হওয়া উচিত এ বিষয় চিন্তাবিদদের চিন্তা আকৃষ্ট হওয়া উচিত। উন্নত বিশ্বের গণতন্ত্রের কথা স্বতন্ত্র। এসব সমাজে বাজার অর্থনীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ও সেবা রাজনৈতিক নেতৃত্বে জনসমষ্ঠির মধ্যে সুবিন্যস্ত করে গণতন্ত্র ও মুক্ত অর্থনীতির মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছে। উন্নয়নশীল বিশ্বের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনো গণতন্ত্রের প্রথম পাঠ সমাপ্ত করেনি। বিরোধীতা তাদের কাছে এখন অসহ্য। রাজনৈতিক নেতারা তাদের প্রতিপক্ষকে শত্রুহিসেবে চি‎িহ্ন‎ত করতে অভ্যস্ত এবং শত্রু দলনে এদের জুড়ি নেই। তারা যা বোঝেন তাই সঠিক। অন্যের মতামত কে কোন অবস্থায় প্রাধান্য দেন না। ব্যক্তিগত বুদ্ধি দ্বারা পরিচালিত হয়। সমষ্টিগত আলোর কোনো প্রভাব গড়েনি। জনসাধারনের কথা ক্ষমতায় আসেন বটে;তাদের কাজ কর্মে জনগনের আশা আকাংখ্যার প্রতিফলন ঘটে না। দলীয় নেতা থেকে জাতীয় নেতা উত্তরণের কোন প্রয়াস তাদের নেই। তাই জাতীয় স্বার্থকে উপেক্ষা করে দলীয় স্বার্থকে তারা প্রধান্য দিয়ে থাকে। ফ্রান্সের স¤্রাট চর্তুদশ লুইয়ের মতো তারা শুধু মুখে বলেন না বটে, মনে মনে বিশ্বাস করেন তারাই ‘রাষ্ট্র’। বর্তমানের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য ইতিহাসের ছেড়া পাতায় তারা মুখ ঢাকেন। জাতীয় ঐক্যের কথা বললেও কাজ কর্মে প্রতিনিয়ত জাতিকে বিভক্ত করার প্রয়াসে তারা লিপ্ত জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে রাখতে পারলে তাদের ক্ষমতার ভীত স্থায়িত্ব লাভ করতে পারবে। কাজ করার পরিবর্তে বির্তকিত বক্তব্যকে স্থাপন করার জন্য অধিক চেষ্টা চালিয়ে থাকে। তাই বাচালতা হয়ে উঠে তাদের মুলধন। আইনের শাসন সহস্রবার উল্লেখ করে ও ব্যক্তিগত প্রভাবকে মুখ্য করেন তারা। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত পাশ কাটিয়ে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে দলীয় স্বার্থে, কোন কোন সময় ব্যক্তি স্বার্থকে দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরের প্রভাবশালী মহলের সাথে গাটছাড়া বাঁধেন। এই অবস্থায় আর যাইহোক ভবিষ্যতে গণতন্ত্রের ধারা আর প্রানবন্ত হবে না। যদিও গণতন্ত্রের ধারা বা আবেদন বর্তমানে হয়ে উঠেছে বিশ্বজনীন। তাই একুশ শতকের গণতন্ত্রের ধারা সুরক্ষার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নতুনভাবে সজ্জিত হতে হবে। নতুনভাষায় রাজনৈতিক নেতাদের কথা বলা শিখতে হবে। অতীত থেকে ফিরে এসে বর্তমানকে মুখ্য হ্জম করতে হবে এবং ভবিষ্যতের রঙিন সুরে বুকভরে নি:শ্বাষ নিতে হবে। পুরানো দিনের ভাব-ভাষা ঝেড়ে মুছে নতুন দিনের জটিলতা সর্ম্পকেঅবহিত হওয়ার প্রয়োন রয়েছে। রাজার অর্থনীতির কার্যকারিতার জটিল জালে গণতন্ত্রের প্রবাহ যেন আটকে না যায়। হাজারো জটিলতার মধ্যে গণতন্ত্রের গতিশীলতা যেন স্থবির না হয়। বিশেষ করে বাজার অর্থনীতির অর্জিত প্রভাব ,বৈভব যেন জনগনের কয়াত্ত হয়, সে কৌশল আয়ত্বে আনা প্রয়োজন। গণতন্ত্রের মুল নিহিত রয়েছে জোর প্রয়োগে নয়। বরং শান্তিপূর্ন মুল্য বোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠামুল্যবোধে সংকট সমাধানের উদ্যেগে গভীর বিশ্বাসে। প্রকৃত পক্ষে গণতন্ত্র হচ্ছে আলোচনা পর্যালোচনা। এ জন্য প্রয়োজন হয় অনুধাবনের এমন এক কাঠামো,এখানে তারা শুনবেন অনুভব করবেন,এবং সাধারন স্বাংস্কৃতির প্রতি অনুগত থাকবেন। এক অর্থে গণতন্ত্রে নেই কোন শাসন,নেই কোন শাসক। গণতন্ত্রে বিদ্যমান থাকে বিভিন্ন স্তর ও শ্রেণির মধ্যে যৌক্তিকতাপূর্ন যোগাযোগ। এই যোগাযোগের মধ্যে কার্যকর থাকে সমস্যা সমাধানকল্পে প্রশাসন এবং তার আইনের শাসনের কাঠামো নেতা নন প্রবল পরাক্রমশালী ব্যক্তি। তিনি হলেন সমস্যাপীড়িত জনতার মধ্যে তাঁদের মুখপাত্র, যুক্তিবাদী প্রাজ্ঞ যোগাযোগকারী, যুক্তবাদীতার প্রতিনিধি। নেতৃত্বে এমন রুপান্তর না ঘটলে গণতন্ত্রে ভবিষ্যত অন্ধকারাচ্ছন্ন। বাজার অর্থনীতিতে রয়েছে নিজস্ব গতি। রাজনৈতিক নেতৃত্¦ের প্রধান ভূমিকা এ ক্ষেত্রে সে গতিকে জনকল্যানের প্রতি প্রযুক্ত করা। গণতন্ত্রে রয়েছে বৈশিষ্ঠপূর্ণ আবেদন। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ক্ষেত্রের আবেদন হল, সে আবেদনকে সমাজ জীবনে প্রতিফলন করা এবং গণতান্ত্রিক মুল্যবোধ কে শক্তিশালী করা। বাজার অর্থনীতিতে অগ্রগতি লাভ করে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক সমাজ তার অর্ন্তভুক্ত। কিন্তু গণতন্ত্র অর্থপুর্ন হয় বৈষম্যের মাধ্যমে, সাম্য ও সৌভ্রাতিৃত্বের চিরন্তন আবেদন সৃষ্টি করে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজন হয় ব্যক্তিগত অথবা গ্রুফ পর্যায়ে মুনাফা অর্জনের জন্য বাধঁ ভাঙা জোয়ারের শক্তি। কিন্তু গণতন্ত্রের শ্রী বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন হয় সমষ্টিগত প্রজ্ঞা বা সমাজে ধীরে ধীরে উন্নত গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির আবহ সৃষ্টি করা। এসব কারণে বলা যায়, সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া গণতন্ত্রের আকাশ কুয়াশামুক্ত হয় না। প্রয়োজন হয় সজ্ঞান ও সচেতন রাজনৈতিক নেতৃত্বের। এ নেতৃত্বের পথ আমাদের সমাজ প্রশস্ত হোক। সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সীমাহীন অনিয়মের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন প্রত্যাখান করেছেন। তারা এ অনিয়মের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। তাদের দাবী হল এ নিবাচনের ফলাফল বাতিল করে তিনমাসের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। কিন্তু সরকার এ বিষয়টি কোন আমলে নিচ্ছে না। এদিকে আওয়ামী লীগ নতুন সরকার গঠন করেছেন। তাদের মন্ত্রিসভা থেকে ৩৬ জন হেভিওয়েট নেতাকে বাদ দেয়া হয়েছে। ৩১জন তরুণ সংসদ সদস্যকে মন্ত্রীত্ব দিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ছাপ জানিয়ে দেয়া হয়েছে এ সরকারে সংসদে ৭জন সংসদ যোগ দিবেন না। তবে তারা তিন মাসের মধ্যে শপথ না নিলে তাদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে। কেননা সংবিধানের ৬৭(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ভোটে জয়ী হয়ে যদি কেউ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেন, তাহলে সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিন থেকে ৯০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তাঁর আসনটি শূন্য হবে। এবার সব দলের অংশ গ্রহনের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্নহলে ইসি একটি নিরপেক্ষ,সুষ্ঠনির্বাচন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা কলঙ্কজনক অধ্যায়ের অবতারনা ঘটেছে। এমনটি হবে দেশবাসী কখন আশা করেনি। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এটা একটা বিরল ঘটনা। এ নির্বাচনে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। ফলে দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব নয় তা শতভাগ প্রমানিত হল। তবে আগামীতে ২০ দলে জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। শোনা যাচ্ছে জামায়াত নিষিদ্ধ হচ্ছে। খালেদা জিয়া জেল খানায়। তার মুক্তির ব্যাপারে আশার আলো আপাতত দেখা যাচ্ছে না। তারেক রহমান যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত। আপতত: মির্জা ফকরুল ইসলাম দলের নেতৃত্বে আছেন। তার চেয়ে অনেক সিনিয়র নেতা দলে আছে। এমতাবস্থায় দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি হওয়ার আশংকা রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের সকল রাজনৈতিক নেতা কর্মীকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে যেতে হবে নইলে দলের জন্য মহা বিপর্যয় আসার সম্ভাবনা একবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারে অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না। বিগত দশম সংসদে বিএনপির অবর্তমানে জাতীয় পার্টি সরকারি দলে ছিল আবার বিরোধী দলে ছিল। । একটা বড় দলের জন্য এটা কোন মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। একাদশ সংসদে সরকারী দলের চাপে বিরোধী দলের ভুমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে । শক্তিশালী বিরোধীদল না থাকায় সরকার একদলীয় হয়ে যায়। গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না। প্রধানমন্ত্রী নিজেই আক্ষেপ করেছেন একাদশ সংসদে শক্তি শালী বিরোধী দল না থাকায়। ঐক্যফন্টের ৭জন নিয়ে যেমন শক্তিশালী বিরোধী দল হয় না,ঠিক তেমনি জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে থাকলে ও তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। দশম জাতীয় সংসদে ভোটার বিহীন নির্বাচন করারপর মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বলা হয়েছিল। বিগত ৫ বছরে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের দাবির মুখে একাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ হওয়ার আশ্বাষ দিলেও বাস্তবে তা হয়নি। ঐক্যফ্রন্ট সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি করেছিল কিন্তু একটি দাবিও মানা হয়নি। তার পরও তারা নির্বাচন গিয়ে ছিল কিন্তু নুন্যতম সৌজন্যবোধ তারা দেখায়নি। তফশীল ঘোষণার পরও এগার সহস্রাধিক নেতা কর্মী সহ প্রায় ২ডজন ধানের শীষের প্রার্থীকে আটক করা হয়। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। নির্বাচনের পর কিছু লোমহর্ষক ঘটনা গোটা জাতীর বিবেক কে নাড়িয়ে দিয়েছে। ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে নোয়াখালির সুবর্নচরে চার সন্তানের জননীকে স্বামী সন্তানদের সামনে নরপশুরা ধর্ষনের ঘটনা ঘটায়, রাজশাহী কলমা গ্রামের ধানের শীষে ভোট বেশি পড়ায় পুরো গ্রামের সব মানুষকে শাস্তির আওতায় আনার পদ্ধতি হিসেবে গ্রামটিকে একটি বিছিন্ন জনপদে পরিণত করা; গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা, সেচ ব্যবস্থা, ডিসের লাইনসহ জীবন যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ বন্ধ করে, জীবনযাত্রা রুদ্ধ করে দেয়। আজ সমাজ রাষ্ট্রে মিথ্যাবাদী, লম্পট, কপট, ধোঁকাবাজী, অত্যাচারী, ব্যাভিচারী, অর্থলোভী, দাম্ভিক, কর্কশ, রুক্ষভাষী, আত্মকেন্দ্রিক, র্দুনীতিবাজ ঠগবাজি লোক এখন সমাজে বেশি। অথচ এই সমাজের প্রয়োজন ছিল সত্যবাদী, জনদরদী,  নি:স্বার্থ, উদার, মিষ্টভাষি, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়পরায়ণ, সৎ অনাড়ন্বর জীবন যাপনকারী, কোমল প্রাণ, দায়িত্বশীল, সদাশয়, এবং সদালালাপি ইত্যাদি গুনের অধিকারী। তবে প্রশংনীয় শাসক পেতে হলে যে গুনটি তার মধ্যে থাকা লাগবে তাহল আল্লাহর ভয় ও পরকালের প্রতি বিশ্বাষ। জনপ্রতিনিধিরা জনগনের শাসক হবেন না, তারা হবেন জনগনের সেবক। জনপ্রতি নিধিরা একথা টুকু বেমালুম ভুলে গেছে। মহানবীর পর খলিফা নিযুক্ত হন হযরত আবু বকর (রা:) প্রথম খলিফা নিযুক্ত হন। খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর হযরত আবু বকর (রা:) তাঁর প্রথম ভাষনে বলে ছিলেন, ‘আমি আপনাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ নই। আপনাদের সাহায্য ওপরামর্শ আমার কাম্য। আমি ন্যায় ও সত্যের পথে থাকলে আপনারা আমাকে সমর্থন করবেন। বিপদগামী হলে আমাকে উপদেশ দিবেন। আমি বরণ করব সত্য, বর্জন করব মিথ্যা। আমার চোখে ধনী নির্ধন সবল-দুর্বল সকলেই সমান। আপনারা আমাকে ততক্ষণ মেনে চলবেন, যতক্ষণ আমি আল্লাহ তাঁর রাসূলকে মেনে চলি। অন্যথায় আপনাদের নেতা হওয়ার অধিকার থাকবে না। হযরত আবু বকর (রা:) মুসলিম ও সেনাবাহিনীকে দশটি উপদেশ দিয়ে ছিলেন। কাউকে প্রতারিত করো না ,ব্যাভিচার করো না, বিশ্বাষঘাতকতা করোনা,কারো অঙ্গচ্ছেদ করো না, স্ত্রী লোক ও বৃদ্ধকে হত্যা করো না, খেজুর গাছ নষ্ট করো না,ফলবান বৃক্ষ নষ্ট করো না,শস্য ক্ষেত নষ্ট করো না,প্রয়োজন ব্যতিত গবাদি পশু হত্যা করো না। সত্যবাদিতা হযরত আবু বকরের প্রথম পরিচয়। সত্যবাদিতার জন্য তিনি সিদ্দিক উপাধি পেয়ে ছিলেন।
লেখক : সাংবাদিক ও গবেষক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ