ঢাকা, সোমবার 18 February 2019, ৬ ফাল্গুন ১৪২৫, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়া বজ্রবৃষ্টি

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের উত্তরাঞ্চলসহ কয়েকটি এলাকায় শনিবার রাত থেকে বৃষ্টি ঝরছিল। রোববার সকালে ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টি হয়। এতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বজ্রপাতে দুই শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
নোয়াখালী: গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের ভাওরকোট গ্রামে চাচা নোমান হোসেন (৪৫) ও সাইফুল ইসলাম ওরফে রাব্বি (১২) শ্যালো পাম্প দিয়ে খেতে সেচ দিচ্ছিল। হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে তারা দ্রুত সেচ পাইপ সরিয়ে আনতে যান। এ সময় বিকট শব্দে বজ্রপাত হয়। ঘটনাস্থলেই চাচা-ভাতিজার মৃত্যু হয়।
মৌলভীবাজার: মেঘলা দিনে বেলা তিনটার দিকে রিফাত মিয়াসহ চার শিশু-কিশোর কমলগঞ্জ মাঠে ক্রিকেট খেলছিল। এ সময় আচমকা খেলার মাঠেই রিফাত মারা যায়। সঙ্গে থাকা তিন শিশু-কিশোর উত্তর রাসটিলা গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে কাওছার মিয়া (১৭), জালাল মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়া (১০) ও আনোয়ার মিয়ার ছেলে ওয়াকিল মিয়া (১২) আহত হয়েছে। হতাহতদের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিফাত মিয়াকে মৃত ঘোষণা করে। রিফাত কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের উত্তর রাসটিলা গ্রামের দিন মজুর জসিম উদ্দীনের ছেলে। সে বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
নারায়ণগঞ্জ: সকাল থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। এরই মধ্যে আটটার দিকে ঢাকায় ইজতেমা থেকে বাসায় আসে মুক্তার হোসেন। পরে বাড়ির পাশে মেঘনা নদীতে গোসল করতে গেলে বজ্রপাতে আহত হন তিনি। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মুক্তার পেশায় কৃষিজীবী ছিলেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে শিলা ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুই এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি হলেও দিন ও রাতের বেলা তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
আবহাওয়াবীদ রুহুল কুদ্দুস জানান, ধীরে ধীরে মেঘ কেটে যাবে এবং সন্ধ্যার পর থেকে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে। পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উপ-হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। ভোরের দিকে দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেতে পারে। উত্তর পশ্চিমাংশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া অন্যত্র তা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। সকাল ৬ টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭৩ শতাংশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ