ঢাকা, মঙ্গলবার 19 February 2019, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চার বছর পর মানসিক ভারসাম্যহীন মা’কে ফিরে পেলেন নোয়াখালীর ছেলে

সাপাহার (নওগাঁ) সংবাদদাতা : চার বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মাকে ফিরে পেয়ে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছিল নওগাঁর সাপাহার উপজেলায়। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার দিঘীর হাট এলাকায় এই দৃশ্যের ঘটনাটি ঘটে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জুন মাসের দিকে দিঘীর হাট বাজার এলাকায় অচেনা মস্তিষ্ক বিকৃত এক বৃদ্ধার আগমন ঘটে। দীর্ঘ সাত-আট মাস ধরে ওই বৃদ্ধা বাজার এলাকার বিভিন্ন দোকান ঘরের ছাউনির নিচে রাত কাটিয়ে দিনের বেলায় যেখানে সেখানে খাবারের সন্ধ্যানে বেরিয়ে পড়ত আবার রাতের বেলায় সে বাজার এলাকায় এসে রাত্রি যাপন করত। মাঝেমধ্যে বাজার এলাকার আরিফ ফটোস্টেট দোকান মালিক মো: রমজান আলী ওই বৃদ্ধার খোঁজখবর নিত। বৃদ্ধা বেশী কথা না বলায় দীর্ঘ দিনের খোঁজ খবরের সাথে সাথে রমজান আলী ওই বৃদ্ধার নিকট থেকে বিভিন্ন সময়ে তার নাম, কোন সময়ে তার গ্রামের নামসহ তার ঠিকানা খোঁজার চেষ্টা করত। অবশেষে গত রবিবার বিকেলে সে তার পূর্ণ ঠিকানা উদ্ধার করে এবং নোয়াখালীর লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ থানায় মোবাইলে কথা বলে বৃদ্ধার দেওয়া ঠিকানা খুঁজে পান। থানার মাধ্যমে সে ওই বৃদ্ধার ছেলের সাথে কথা বলতে সক্ষম হন। সংবাদ পেয়ে বৃদ্ধার ছেলে তৎক্ষণাত নওগাঁর সাপাহারের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। সোমবার সকালে সে সাপাহারে পৌঁছে দিঘীর হাট এলাকায় গিয়ে বৃদ্ধার সামনে দাঁড়ালে মা-ছেলের মধ্যে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত দর্শক হতবাক হয়ে যায় বৃদ্ধা ও তার ছেলের মায়ামমতা দেখে। তারা একে অপরের সাথে দীর্ঘক্ষণ জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।  সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাগল বৃদ্ধার ছেলে সোহেল রানা (২৮) এর সথে কথা বলে জানা যায়। বিগত সাত বছর পূর্বে তার মার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে সে সময় তার মা তার নিজের সন্তান মারিয়ম (৬) নামের এক মেয়ে ও আব্দুল কাদের (৩) বছরের এক ছেলেকে সাথে নিয়ে বাড়ী হতে বের হয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে ছিল। খোঁজাখুঁজির প্রায় তিন বছর পরে ভারতের আসাম রাজ্য থেকে সোহেল রানা তার মাকে উদ্ধার করতে পারলেও বোন মরিয়ম ও ভাই কাদেরকে হারিয়ে ফেলে । তারা আজও নিখোঁজ রয়েছে। ভারত থেকে উদ্ধারের মাত্র কয়েক মাস পর তার মা আমিনা বেগম আবারো বাড়ি থেকে সকলের অজান্তে বেরিয়ে নিরুদ্দেশ হয়। এর পর ছেলে সোহেল রানা ও তার পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করে মাকে আর ফিরে না পেয়ে তাকে খোঁজার হাল ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে বসেই ছিল। হঠাৎ দীর্ঘ চার বছর পরে নওগাঁ জেলার সাপাহার হতে তার মার বর্ণনাসহ মোবাইল ফোন পেয়ে কিছুক্ষণের জন্যও আর স্থির থাকতে পারেনি। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে এসেছেন নওগাঁর সাপাহার উপজেলার দিঘীরহাট এলাকায়। আর এসে ঠিক খুঁজেও পেয়েছেন তার গর্ভধারিনী মাকে। সোহেল রানা তার মাকে খুঁজে পেয়ে ধন্য হয়েছেন। সে আর তার মাকে হারিয়ে যেতে দেবে না চোখের জল মুছতে মুছতে বললেন প্রতিবেদকে। মাও তার ছেলেকে পেয়ে আনন্দে আতœহারা। সে কখন যাবে তার নিজ গন্তব্যে পাগল অবস্থায় নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় এলো-মেলোভাবে বলছিলেন বৃদ্ধা আমিনা বেগম। মস্তিষ্ক বিকৃত বৃদ্ধা মহিলা লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার টামটা গ্রামের মো: শামসুল হক এর স্ত্রী। নিজ ঔরসজাত দু’ সন্তানকে হারিয়ে বর্তমানে এক ছেলে সোহেল রানা ও স্বামী শামসুল হক রয়েছে তার পরিবারে। সোমবার দুপুর দেড়টার সময় তারা দিঘীরহাট এলাকা থেকে রাজশাহীর বাসে উঠে নিজ গন্তব্যে রওয়া হন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ