ঢাকা, মঙ্গলবার 19 February 2019, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

তাবলিগ ইজতিমার দ্বিতীয় পর্বের মোনাজাত আজ

টঙ্গী তুরাগ তীরে তাবলীগ জামায়াতের দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় বয়ান শুনছেন আগত মুসল্লিরা। গতকাল সোমবার তোলা ছবি -সংগ্রাম

টঙ্গী ও গাজীপুর থেকে গাজী খলিলুর রহমান ও রেজাউল বারি বাবুল : টঙ্গী তুরাগ নদীর তীরে গতকাল সোমবার তাবলীগ ইজতেমার দ্বিতীয় দিন তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বিদের গুরুত্বপূর্ণ বয়ান ও নফল নামাজ, তাসবিহ তাহলিল, জিকির-আসগারের মাধ্যমে অতিবাহিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে মোনাজাতের মাধ্যমে এবারের ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি ঘটবে। আজ মঙ্গলবার দুপুরের আগেই বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দিল্লীর নিজামুদ্দিন মারকাজের শীর্ষ মুরব্বি ও ইজতেমার জিম্মাদার মাওলানা শামীম আহমদ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করবেন।
বৈরী আবহাওয়া ঠান্ডা কনকনে বাতাস আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে মুসল্লীরা ময়দানের দিকে ছুটছেন ভিজে একাকার বিছানাপত্র, কাপড়-চোপড় নিয়ে। কাদাময় পথ চরম পিচ্ছিল, ময়দানে পানির স্রোত, এমনি বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতির মধ্যে রোববার থেকে শুরু হয়েছে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের মাওলানা সা’দ পন্থীদের ইজতেমা। বাদ ফজর ভারতের মাওলানা মো. ইকবাল হাফিজের আম-বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার দ্বিতীয় অংশের আনুষ্ঠানিকতা। এ বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা আবদুল্লাহ মুনসুর।
ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে নিয়ে বিভক্ত দাওয়াতে তাবলিগ। এবারের ইজতেমার প্রথম অংশ আয়োজন করেন মাওলানা মুহাম্মদ জোবায়েরপন্থী (সাদবিরোধী) মুরব্বিরা। শনিবার সকালে এ অংশের আখেরি মোনাজাতের পর মধ্যরাতে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রশাসন। পরে মাঠ বুঝিয়ে দেয়া হয় সাদপন্থী মুরব্বিদের। তখন থেকে তাবলিগের সাদ সমর্থক ও সাধারণ মুসল্লীরা ময়দানে ঢুকতে শুরু করেন। রোববার বাদ ফজর ইজতেমার কার্যক্রম (আম-বয়ান) বয়ান শুরু হওয়ার পরপরই বজ্রসহ শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস শুরু হলে দুর্ভোগে পড়েন মুসল্লীরা। প্রায় ২ ঘণ্টা চলে এ ঝড়-বৃষ্টি। এর মধ্যেই মুসল্লীরা আ’ম বয়ান শুনতে থাকেন। রোববার দুপুর থেকে গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৩৫টি দেশের ৫ শতাধিক বিদেশী মেহমান এসেছেন।
গতকাল সোমবার বাদ ফজর বয়ান করেন মাওলানা মুরসালিন, নিজামুদ্দিন মারকাজ। বাংলায় অনুবাদ করেন মাওলানা আবদুল্লাহ মনসুর কাসেমি। সকাল সাড়ে ৯টায় তালিমের মুয়াল্লীমদের উদ্দেশে বয়ান করেন মুফতি রিয়াছত আলী, নিজামুদ্দিন মারকাজ। সকাল ১০টায় প্রতি খিত্তায় তালিম শুরু হয়।
বাদ জোহর বয়ান করেন মুফতি শাহজাদ, নিজামুদ্দিন মারকাজ। বাংলায় অনুবাদক করেন মাওলানা মনির বিন ইউসুফ। বাদ আছর বয়ান করেন, সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, আহলে শুরা, বাংলাদেশ।
বাদ মাগরিব বয়ান করেন, মাওলানা শওকত, নিজামুদ্দিন মারকাজ। বাংলায় তরজমা করেন মাওলানা মুফতী জিয়া বিন কাসেম।
আগেরদিন রোববার বাদ ফজর ভারতের মাওলানা ইকবাল হাফিজ উর্দুতে বয়ান করেন, তা বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা আবদুল্লাহ মুনসুর। বাদ জোহর বয়ান করেন নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরব্বি মাওলানা আবদুল বারী। বাংলায় তরজমা করেন মাওলানা মুনির বিন ইউসুফ। বাদ আসর বাংলাদেশের মাওলানা মোশাররফ হোসেন। বাদ মাগরিব বয়ান করেন দিল্লীর মাওলানা শামীম আহমদ। অনুবাদ করেন বাংলাদেশের মাওলানা আশরাফ আলী।
আজ মঙ্গলবার বাদ ফজর বয়ান করবেন, ইকবাল হাফিজ, নিজামুদ্দিন মারকাজ। বাংলায় তরজমা করবেন, মুফতি উসাম ইসলাম।
ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে এক মুসল্লীর মৃত্যু
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেয়া মো. ইসমাইল হোসেন (৬০) নামে এক মুসল্লীর মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে বার্ধক্যজনিত রোগে তিনি নিজ খিত্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই মুসল্লীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। তিনি বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার লেবু খানের ছেলে। এই নিয়ে দুই পর্বের ইজতেমায় ৭ মুসল্লীর মৃত্যু হলো।
আয়োজকদের অন্যতম মুরব্বি মো. হারুন-অর রশিদ জানান, সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত শুক্রবার বাদ ফজর জোবায়েরপন্থীদের ইজতেমা (প্রথম অংশ) শুরু হয়। গত শনিবার আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম পর্ব। মোনাজাত শেষে মুসল্লীরে ব্যবহৃত জিনিসপত্র, উচ্ছিষ্ট খাবার ও আবর্জনা ফেলেই মাঠ ত্যাগ করেন তারা। স্থানীয় প্রশাসন মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিলেও স্বল্প সময়ে প্রশাসনের পক্ষে মাঠের পুরো আবর্জনা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এ পরিবেশের মধ্যে রোববার ফজরের সময় মুসল্লীরা মাঠে ঢোকেন। সকাল হতে না হতেই শুরু হয় বজ্রসহ বৃষ্টি।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, শনিবার মধ্যরাতে ইজতেমা ময়দান সাদপন্থী মুরুব্বিদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। মাঠে টুকটাক সমস্যা থাকলেও তা রোববার সকালেই সমাধান করা হয়েছে। তবে ইজতেমা এলাকায় আইনশৃঙ্খলাসহ সব ব্যবস্থাপনা আগের মতোই বহাল রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল সোমবার আখেরি মোনাজাত হওয়ার কথা থাকলেও মাঠ পরিস্থিতি ও বৈরী আবহাওয়াসহ কয়েকটি কারণে ইজতেমার সময় ১ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন মুরব্বিরা। পরে এ বিষয়ে আবেদন করেন প্রশাসনের কাছে। ইজতেমার অন্যতম মুরুব্বি আশরাফ আলী বলেন, মাশোয়ারার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইজতেমার মোনাজাত আজ মঙ্গলবার নির্ধারণ করা হয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান জানান, ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের সার্বিক নিরাপত্তা, যানজট নিরসনসহ সার্বিক বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। ইজতেমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
ট্রেন সার্ভিস : টঙ্গীর রেলওয়ে স্টেশনের কর্মকর্তা মো. হালিমুজ্জামান জানান, আখেরি মোনাজাতের দিন মুসল্লীদের সুষ্ঠুভাবে যাতায়াতের জন্য ১১ জোড়া বিশেষ ট্রেনসহ ১২০টি ট্রেন টঙ্গীতে যাত্রাবিরতি করবে।
যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা : পুলিশ জানিয়েছে, আখেরি মোনাজাতে মুসল্লীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচলে গাজীপুর ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সোমবার মধ্যরাত থেকে আজ মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত আবদুল্লাহপুর থেকে ভোগড়া বাইপাস এবং মীরের বাজার থেকে টঙ্গী স্টেশন রোড পর্যন্ত উভয়মুখী রাস্তায় সব প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, ২ দিনের লাখো মুসল্লীর ফেলে যাওয়া আবর্জনা পরিষ্কারসহ পানি, গ্যাস এবং পয়ঃনিষ্কাশন করে মাঠ প্রস্তুত করেছেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: বিশ^ ইজতেমা চলাকালীন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ভোক্তা সংরক্ষণ আইন ও মটর যান আইনে অভিযান চালিয়ে নগদ ৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ