ঢাকা, মঙ্গলবার 19 February 2019, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সংসদ নির্বাচনের মতোই সিটি নির্বাচনে একই পরিবেশ থাকবে -সিইসি

স্টাফ রিপোর্টার: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন রেকর্ডে রাখার মতো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ দাবি করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, উপজেলা ও ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনেও একই পরিবেশ থাকবে বলে আশা করি। একই সঙ্গে, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা-বিষয়ক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কে এম নূরুল হুদা।
জাতীয় নির্বাচনে তেমন কোনো সহিংস ঘটনা না ঘটায় পুলিশের প্রশংসা করেন এবং তাদের ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান সিইসি। একই সঙ্গে ঢাকা সিটি ও উপজেলা নির্বাচনেও কার্যকরী ভূমিকা রাখার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেন।
বিভিন্ন বাহিনীর উদ্দেশে সিইসি বলেন, ‘সকল ভোটার যেন নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারে সে বিষয়ে ভূমিকা রাখতে হবে। নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেজন্য আপনাদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে। প্রার্থীর এজেন্টদের নিরাপত্তা দিতে হবে।’
উপজেলা ও সিটি নির্বাচনে বিএনপিসহ অন্য অনেক দল অংশ না নেয়া প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘সব দল অংশগ্রহণ না করলে ইসির কিছু করার নাই। তবে তারা অংশ না নিলেও নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে আশা করি।’
 বৈঠকে সশস্ত্রবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, মহাপুলিশ পরিদর্শক, র‌্যাব মহাপরিচালক, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃংখলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা, দফতর ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে উপ-নির্বাচন ও নুুন ১৮টি ওয়ার্ড এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নুুন ১৮টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের নজরে রাখতে নির্দেশনা
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীরা যাতে কোনও ধরনের গ-গোল করতে না পারেন সেজন্য তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে যে তারা কড়া নজরদারি রাখবেন। বিশেষ করে কাউন্সিলর প্রার্থী যারা আছেন, তারা যাতে কোনও ধরনের গ-গোল বা অন্য কোনও বিষয়ে চিন্তা না করতে পারেন তাই আগেই তাদের মুভমেন্টগুলো ফলো করা হবে। সেরকম কোনও কিছু দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
গতকাল সোমবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন ও দুই সিটির ৩৬ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
সিটির ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা
ইসি সচিব বলেন, ‘আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন এবং নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন ও নির্বাচনের পরবর্তীকালে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ২২ এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে পুলিশের মোবাইল টিম থাকবে ২৭টি, স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে ১৮টি, র‌্যাবের মোবাইল টিম থাকবে ২৮টি এবং বিজিবির মোবাইল টিম থাকবে ২৭টি। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে পুলিশের মোবাইল ফোর্স থাকবে ৯টি, স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে ৬টি এবং র‌্যাবের মোবাইল টিম থাকবে ৯ টি এবং বিজিবির মোবাইল টিম থাকবে ৯টি। এছাড়াও র‌্যাব ও বিজিবি আলাদা ভাবে কিছু মোবাইল টিম ওয়েটিংয়ে রাখবেন। প্রয়োজন হলে যাতে তারা মুভ করতে পারেন।’
কোনও হুমকি নেই
ইসি সচিব জানান, ‘গোয়েন্দা বাহিনীর পক্ষ থেকেও আমাদের বলা হয়েছে, ভোট বিঘিœত হতে পারে এমন কোনও থ্রেট উনারা এখন পর্যন্ত পাননি বা এই ধরনের কোনও আশঙ্কা নেই।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনাররা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্বাচনের পরিবেশ সঠিক রাখার জন্য এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সেই পরিবেশ সৃষ্টির জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রধানরা আছেন, তারা নিশ্চিত করেছেন এবং নির্বাচন কমিশনকে আশ্বস্ত করেছেন এমন কোনও পরিবেশ সৃষ্টি হবে না যার কারণে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন। সে জন্য কোনও আশঙ্কা নেই। ভোটের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক আছে।’
দিক নির্দেশনা
সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনের বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনও নির্দেশনা ছিল কিনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এর আগে সম্প্রতি আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে বলা হয়েছে। আর এটা যেহেতু একটা মেগা সিটি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের ভোটাররা এখানে বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করেন, তারা যাতে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সে ব্যাপারে উনারা (নির্বাচন কমিশনাররা) দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’
তিনি জানান, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলেছেন, উনারা সর্বোচ্চ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবেন। যেহেতু হাতের কাছেই ভোটকেন্দ্র তারা সুন্দর সমন্বয় করে এই নির্বাচনটিকে তারা তুলে নিয়ে আসবেন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ