ঢাকা, বুধবার 20 February 2019, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

৮৭ ভাগ মানুষ নিরাপদ পানি সুবিধার আওতায়

সংসদ রিপোর্টার : স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ৮৭ শতাংশ জনগণ নিরাপদ পানি সুবিধার আওতাভূক্ত। সেই হিসেবে দেশে মোট ১৩কোটি ৯২ লাখ মানুষ নিরাপদ পানি সুবিধা ভোগ করে থাকে। এ ছাড়া দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ মৌলিক স্যানিটেশনের অন্তর্ভূক্ত। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ জন উন্নত লেট্টিনের আওতাভূক্ত, অবশিষ্ট ২৮ শতাংশ যৌথ লেট্রিন এবং ১০ শতাংশ অনুন্নত লেট্টিন ব্যবহার করেন। এই হিসেবে বর্তমানে উন্নত স্যানিটেশন ব্যবহারকারী সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৯ কোটি ৭৬ লাখ।
সংসদে প্রশ্নোত্তরে গতকাল মঙ্গলবার আনোয়ারুল আজীমের (ঝিনাইদহ-৪) এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। 
এম, আবদুল লতিফের ( চট্টগ্রাম-১১) এর এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, দেশব্যাপী বিটুমিনের পরিবর্তে কনক্রিটের সড়ক নির্মানের বিষয়টি এখনও পরীক্ষাধীন রয়েছে। এই সড়ক নির্মানের ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। যেমন: কনক্রিটের  রাস্তা নির্মানের ক্ষেত্রে  কনক্রিট ঢালাইয়ের পরে কিউরিং এর জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন এবং ঐ সময়ে রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। প্রতি কিলোমিটার কনক্রিটের রাস্তা নির্মাণ খরচ বিটুমিনাস রাস্তা নির্মান খরচের চেয়ে ২.২ থেকে ২.৫ গুণ বেশি।  কনক্রিটের রাস্তা নির্মানে পাথর ব্যবহার করতে হয় যা আমদানি নির্ভর এবং এই ধরণের সড়ক নিমাণে পর্যাপ্ত  যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে।
তবে মন্ত্রী জানান, দেশের হাওড় ও নীচু এলাকায় যে সকল সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে যেতে পারে সে সকল রাস্তায় এই ধরণের কনক্রিটের রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে যা বর্ষাকালে  ডুবে থাকে এবং শুস্ককালে সড়ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।  এছাড়া বাজার এলাকায়  ফ্লেক্সিবল পেভমেন্টের যে অংশ  দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সুবিধার অভাবে নষ্ট হয়, মেরামতের সময় সড়কের সে অংশে রিজিড পেভমেন্ট নির্মান করা হয়। বর্তমানে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। 
নুরুন্নবী চৌধুরীর ( ভোলা-৩) এক প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলম জানান, ঢাকা শহরে ৯৩০কিলোমিটার সুয়্যারেজ লাইন আছে যার মধ্যে ৩০হাজার ঢাকনা আছে। ৩৫০ কিলোমিটার ড্রেনেজ লাইনে প্রায় ৭হাজার ঢাকনা আছে। সবগুলো ম্যানহোলের ঢাকনা বিপদমুক্তভাবে লাগানো। কোনটি নষ্ট হলে তা তাৎক্ষনিকভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়।এজন্য ঢাকা ওয়াসার ১০টি মডস জোন পরিচালন ও রক্ষনাবেক্ষনে নিয়াজিত আছে এবং সার্বিক তদারকির বিষয়ও তাদের ওপর ন্যাস্ত।
হাজী মো: সেলিমের (ঢাকা-৭) এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান,  ঢাকা উত্তর  দক্ষিন সিটি করপোরেশনে মোট ৪৩টি পার্ক ও ৪টি শিশু পার্ক রয়েছে। এর মধ্যে  উক্তর সিটি করপোরেশনে  ২৩টি পার্ক ও ৪টি শিশু পার্ক রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন ২০টি পার্ক রয়েছে।  পার্কগুলোর উন্নয়নে উভয় সিটি কর্পোরেশনেরই  প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং আগামী ২০২১ সালের  মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানান।
দেশে গ্রাম পুলিশ ৪৫হাজার ৭১০ : হাজী সেলিমের অপর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে  ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫শত ৭১টি। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ১০ জন গ্রাম পুলিশ রয়েছে। সে অনুযায়ী সারাদেশে বর্তমানে গ্রামপুলিশের সংখ্যা ৪৫হাজর ৭শ’ ১০ জন।
মন্ত্রী জানান, গ্রাম পুলিশদের ৪র্থ শ্রেণির ন্যায় সমস্কেলে ভাতা প্রদানের বিষয়ে ২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়। সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ হতে বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশদের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ন্যায় সম স্কেল প্রদানের অবকাশ নেই বলে জানিয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত দফাদারদের বেতন ৩৪০০ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকায় এবং মহল্লাদের বেতন ৩ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৬ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ