ঢাকা, বুধবার 20 February 2019, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পাকিস্তান থেকে ভারতে না গিয়ে দেশে ফিরলেন সৌদী যুবরাজ

ইকোনোমিক্স টাইমস/বিবিসি : পাকিস্তান থেকে ভারতে না গিয়ে দেশে ফিরে গেছেন সৌদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। গত সোমবার রাতে পাকিস্তান সফর শেষে রিয়াদ ফিরে যান যুবরাজ।
আজ বুধবার ভারতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যুবরাজের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সৌদী যুবরাজের এই সফরে বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ এবং আবাসন খাতে দিল্লী ও রিয়াদের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথা ছিল। এরপর সেখান থেকে তাঁর চীন সফরে যাওয়ার কথা ছিল। আর চীন সফরের মাধ্যমেই তাঁর এশিয়া সফর শেষ হওয়ার কথা।
গত সোমবার পাকিস্তান সফর শেষে ভারতে না গিয়ে রিয়াদ ফিরে যান সৌদি যুবরাজ। ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কাশ্মীর ও সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে ভারতের কৌশলগত অবস্থান সম্পর্কে আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে চায় রিয়াদ। ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বে ভারতের সংবেদনশীলতা মাথায় রেখে ভারতে যাওয়ার আগে পাকিস্তান থেকে সৌদি আরব ফিরে গেছেন মোহাম্মদ বিন সালমান।
ইকোনমিক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে একঘরে করার প্রচেষ্টার মধ্যে সৌদী প্রিন্স পাকিস্তান সফর করেন, একে বিপত্তি হিসেবে দেখছে না ভারত। কারণ, তাঁর এই সফরের পরিকল্পনা পুলওয়ামার হামলার আগেই নেয়া হয়।
উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করবে সৌদি আরব
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করবে বলে জানিয়েছে সৌদি আরব। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের দিল্লী সফরের আগে এ ঘোষণা দিল দেশটি।
গত সোমবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবের বলেছেন তাদের উদ্দেশ্য হল, “দুই দেশ, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং তাদের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যায় কি না তা দেখা।”
গত সপ্তাহে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় দেশটির আধা সামরিক পুলিশের ৪৪ জওয়ান নিহত হওয়ার পর দিল্লি-ইসলামাবাদের শত্রুতা নতুন করে উস্কে উঠে।
পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ হামলার দায় স্বীকার করে। কিন্তু এই হামলায় তাদের কোনো ভূমিকা নেই বলে দাবি পাকিস্তানের। পাকিস্তানের দাবি উড়িয়ে দিয়ে এ হামলায় দেশটি সহযোগিতা করেছে বলে জোরালো অভিযোগ করেছে ভারত।
এর প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবেশী পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে ‘একঘরে’ করার ঘোষণা দিয়েছে নয়াদিল্লি। পাকিস্তানকে দেয়া ‘সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের’ মর্যাদা প্রত্যাহার করে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা পণ্যের শুল্ক বাড়ি ২০০ শতাংশে উন্নীত করেছে তারা।
ভারত-পাকিস্তান উভয়েই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের পুরো ভূখ-ের মালিকানা দাবি করে আসছে, কিন্তু এর একটি অংশই শুধু নিয়ন্ত্রণ করছে। ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকেই কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ