ঢাকা, বুধবার 20 February 2019, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিকল্প ছাড়া রাজধানীতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা নিষ্ঠুর কর্তৃত্ববাদী শাসনেরই প্রতিফলন

স্টাফ রিপোর্টার : বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া ঢাকা মহানগরীতে ১২ ঘন্টা গ্যাস বন্ধের ঘোষণাকে নিষ্ঠুর কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতিফলন মন্তব্য করে এর নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, মহানগরী ঢাকায় গ্যাস সরবারহ বন্ধ আছে। এই বন্ধ আজকেই (মঙ্গলবার) শুধু নয়, আরো কয়েকদিন এই ধরনের বন্ধ চলছে। বলা হচ্ছে প্রায় অর্ধেক মহানগরীতে গ্যাস সরবারহ আজকে বন্ধ থাকবে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে ঢাকা মহানগরীতে গ্যাস সরবারহ বন্ধ ঘোষণা নিষ্ঠুর কর্তৃত্ববাদী শাসনেরই প্রতিফলন বলে আমরা মনে করি। এক ব্যক্তির শাসনের হুকুমের শাসন জারি আছে বলেই জনগনের চাহিদাগুলোকে পদদলিত করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
রিজভী বলেন, এই যে উঁচু তলা বিল্ডিং, ঢাকাতে অন্যকোনো অপশন নেই। তাহলে কী করে তাদের চুলা জ্বলবে ? সুষ্ঠু ভোটের সরকার থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই মহানগরীতে গ্যাস সরবারহ বন্ধ করতো অন্য কোনো উন্নয়নের কাজে। কিন্তু এই সরকারের তো কোনো ভোটের দরকারই নেই। তাদের তো মধ্য রাতে ভোট হলেই চলে। এই ধরনের সরকার কোনোদিনই জনদুর্ভোগকে গুরুত্ব দেবে না। মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণ কাজের কারণে মঙ্গলবার গ্যাস পাবেন না ঢাকার বড় একটি অংশের বাসিন্দারা।
 মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণ কাজের কারনে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরীর অর্ধেক অংশে গ্যাস সরবারহ বন্ধ রাখা হয়েছে। তিতাসের জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তা গোলাম মোস্তাফা বলেন, মঙ্গলবার মেট্রোরেল প্রকল্পের আওতায় পাইপলাইন স্থানান্তরের পর টাই-ইন কাজ চলেছে। এদিন ঢাকার প্রায় অর্ধেক অংশজুড়ে গ্যাসের চাপ একেবারেই কম ছিল। অনেক এলাকায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও সিএনজি গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। ফলে সাধারণ জনগণের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছে।
এই এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মিরপুর, শ্যামলী, মনিপুরীপাড়া, আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, ধানম-ি, গণভবন, জাতীয় সংসদ ভবন, কলাবাগান, হাজারীবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, শাহবাগ, গ্রীনরোড, বঙ্গভবন, গোপীবাগ, স্বামীবাগ, রামপুরা, দক্ষিণ বনশ্রী, নন্দিপাড়া, মগবাজার, সিদ্ধেশ্বরী, সেগুনবাগিচা, মিন্টু রোড, তেজগাঁও, খিলগাঁও, বাসাবো, মতিঝিল, কমলাপুর ও পুরান ঢাকার পুরো এলাকা।
আরো তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ব্যাংক লুটের কারনে দেশের ব্যাংকগুলোর যখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা তখন আবারো নতুন তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন ব্যাংক লুটের পথকে আরো প্রসারিত করলো। বর্তমানে অনুমোদনকৃত তিনটি ব্যাংকসহ দেশের অধিকাংশ ব্যাংকের মালিকানায় রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা কিংবা স্বজনরা। যখন পূর্বের ঢালাওভাবে অনুমোদিত ব্যাংকগুলো ধসে পড়ছে তখন আবারো তিনটি ব্যাংকের অনুমোদনে এটি সুস্পষ্ট যে, জনগন ও দেশের সর্বশেষ সঞ্চয়টুকু শোষন করতেই মিড নাইট সরকারের খয়ের খাঁদের নতুন তিনটি ব্যাংক দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। হয়তবা এরাই নানাভাবে শাসকগোষ্ঠীকে উপকৃত করেছে অবৈধ কর্মকান্ডে, সেজন্য তাদেরকেই এই ব্যাংকগুলো দেয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি ধবংস করে নিশীথ রাতের ভোটে সৃষ্টি আওয়ামী সরকার নিজের আখের গোছাতেই এখন রীতিমতো ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
শাজাহান খানের নেতৃত্বে সড়ক কমিটি গঠন হাস্যকর মন্তব্য করে রিজভী বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার নামে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানকে আহবায়ক করে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তা রীতিমতো হাস্যকর। এই শ্রমিক নেতার কারনে যতো প্রাণহানি ও বিশৃঙ্খলা ঘটেছে। ঘটনাটাকে এইরকম দাঁড়াচ্ছে না যে, চোরের কাছে চুরির বিচার দেয়া। এ রকমই তো দাঁড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, যথনই সড়কের বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্দোলন হয়েছে তখনই এই শাজাহান খানরাই বাঁধার সৃষ্টি করেছে। মূলত সড়কে দুর্ঘটনা ও মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য এই নেতাই অনেকাংশে দায়ী।কাজেই তাকে (শাজাহান খান) আহবায়ক করে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তা জাতির সঙ্গে তামাশা মাত্র। মিডনাইট সরকারের এটি জনগনের সাথে আরেকটি শ্রেষ্ঠ প্রহসন। এতে সড়কে বিশৃঙ্খলা ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কত যে পৃনরাবৃত্তি হবে তা বলাই বাহুল্য।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব  সেয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ