ঢাকা, বুধবার 20 February 2019, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

তিতাসের মেরামত কাজ শুরু খাবার সংগ্রহে হোটেলে ভোক্তার দীর্ঘ লাইন

স্টাফ রিপোর্টার : গ্যাস পাইপলাইনের স্থানান্তর, মেরামত ও লিকেজ ঠিক করতে ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে বাসা বাড়িতে রান্না বান্না বন্ধ রয়েছে। একইভাবে অনেক হোটেলও বন্ধ রয়েছে। খোলা থাকা হোটেলে গ্রাহকের দীর্ঘলাইন দেখা গেছে। অনেক স্থানে পাউরুটি কলা আর বিস্কুট খেয়ে খাবার চাহিদা মিটাতে দেখা গেছে। এ অবস্থা আজ বুধবার সকাল ৭টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
সন্ধ্যা ঠিক ছয়টায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে গ্যাস পাইপলাইনের স্থানান্তর, মেরামত ও লিকেজ ঠিক করার কাজ শুরু করেছে তিতাস গ্যাস কোম্পানি। এতে করে ঢাকার একটি বড় অংশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হলেও পাইপলাইনে জমে থাকা গ্যাসের কারণে ৮টা /সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কিছু কিছু এলাকায় কিছু কিছু গ্যাস পাওয়া যাবে। আজ সকাল ৬টায় আবার এসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হবে।
মেট্রোরেলের কাজ, গ্যাসের ভালব প্রতিস্থাপন এবং লিকেজ মেরামতের কারণে এই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এলাকাগুলো হচ্ছে মিরপুর, শ্যামলী, আগারগাঁও, মোহম্মদপুর, ধানম-ি, কলাবাগান, হাজারীবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, শাহবাগ, গ্রিনরোড, পুরান ঢাকার পুরো এলাকা, মিন্টু রোড, বঙ্গভবন, গণভবন, জাতীয় সংসদ ভবনসহ আশেপাশের এলাকা, নন্দীপাড়া, গোপীবাগ, স্বামীবাগ, রামপুরা, বনশ্রী, মতিঝিল, কমলাপুর, মনিপুরী পাড়া, সিদ্ধেশ্বরী, সেগুনবাগিচা, তেজগাঁও, বাসাবো।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত মোট ১২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে এই অঞ্চলে। আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও সিএনজিসহ সব ধরনের গ্রাহকদের গ্যাস বন্ধ থাকবে। এর প্রভাবে ওই সময় এর আশেপাশের এলাকায়ও গ্যাস সরবরাহ কম বা স্বল্প থাকতে পারে।
মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের জন্য শাহবাগ মোড় এলাকায় তিতাস গ্যাস বর্তমানে যে ৮ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন আছে তা সরিয়ে নতুন করে পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। যার দুই প্রান্ত বিদ্যমান লাইনের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া বা টাই ইন করা প্রয়োজন। এ কাজের জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এই পাইপলাইন সারা ঢাকা শহরে প্রধান লাইন হিসেবে বিস্তৃত। একইসঙ্গে ধানমন্ডি, মগবাজার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গ্যাস ভালব প্রতিস্থাপন এবং খিলগাঁও এলাকায় ১২ ইঞ্চি ব্যাসের উচ্চচাপ বিশিষ্ট পাইপলাইন লিকেজ মেরামতের কাজও করা হবে। গতকাল তিতাস কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানায়।
তিতাসের পরিচালক (অপারেশন) মো. কামরুজ্জামান জানান, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ঠিক সন্ধ্যা ছয়টায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। সকাল থেকেই গ্যাসের লাইন ঠিক করার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে জায়গা ঠিক করে মাটি খনন কাজ করে রাখা হয়েছে। এখন পাইপগুলো বসানোর কাজ শুরু করা হবে। তবে পাইপলাইনে যতক্ষণ গ্যাস থাকবে ততক্ষণ অগ্নিকা-ের ভয়ের কারণে ওয়েল্ডিং এর কাজ করা হবে না।
তিনি জানান, গ্যাস সরবরাহ বন্দের কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত পাইপলাইনে জমে থাকা গ্যাস থাকবে। ফলে অনেকের স্বল্পচাপে গ্যাস পাবেন। দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা পর অর্থাৎ আটটা সাড়ে আটটা নাগাদ আমরা ওয়েল্ডিং এর কাজ শুরু করবো। তিনি বলেন, যত দ্রুততার সঙ্গে সম্ভব কাজগুলো করা হবে। ভোট ৬টা নাগাদ আমরা গ্যাস সরবরাহ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু কাজ আগে শেষ করতে পারলে আগেই সরবরাহ শুরু করা হবে। তবে গ্যাস সরবরাহ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সব গ্রাহক গ্যাস পাবেন না। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দুপুর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শান্তিনগর, মালিবাগ, খিলগাঁও, মগবাজার, মিরপুর, মোহম্মদপুর এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। ঢিমে-তালে চুলায় আগুন জ্বলছিল।
যে সকল এলাকায় আগে থেকেই গ্যাস লাইনে সমস্যা ছিল সে সব এলাকায় গতকাল কোন গ্যাসই ছিল না। এতে করে এসব এলাকার অধিকাংশ হোটেলই বন্ধ ছিল। যে সব হোটেল এলপি গ্যাস রান্না হয় শুধু মাত্র সেসব হোটেল চালু রয়েছে। এতে করে শত শত মানুষকে দীর্ঘ লাইনে থেকে খাদ্য সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। খাদ্য সংগ্রহ করতে না পেরে অনেকেই পাউরুটি আর কলা বিস্কুট নিয়ে বাসায় যেতে দেখা গেছে। এতে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের উন্নয়নের জন্য না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। তাতেও যদি উন্নতি হয় ভালো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ