ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 February 2019, ৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনার মুজগুন্নী পার্ক বন্ধ ঘোষণা

খুলনা অফিস : খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) মালিকানাধীন নগরীর মুজগুন্নী পার্ক থেকে ইজারাদারকে উচ্ছেদ করে পার্কটি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়ে বিকেলে শেষ হয়। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করায় গত ২২ জানুয়ারি পার্কের ইজারা বাতিল করে কেডিএ। কেডিএ কর্মকর্তারা জানান, সংস্কারের জন্য পার্কটি সাময়িক বন্ধ থাকবে। এটি সংস্কার করে আধুনিক মডেল শিশু পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কেডিএ’র সিনিয়র বৈষয়িক কর্মকর্তা জি এম মাসুদুর রহমান জানান, মুজগুন্নী আবাসিক এলাকায় অবস্থিত প্রায় ৮ দশমিক ৬৭ একর জমির ওপর নির্মিত পার্কটি ২০০৭ সালের ১৮ এপ্রিল এস এস ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়া হয়। ইজারার অন্যতম শর্ত ছিলো পার্কটির ভেতরে মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি এবং আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজন করে একটি আধুনিক শিশু পার্ক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু প্রথম থেকেই ইজারাদার সে শর্ত মানেননি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া পরিশোধ না করা, পার্কটি সাব লিজ দেওয়া, অনুমোদন ছাড়াই যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণ করে পরিবেশ নষ্ট এবং অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একাধিকবার ইজারা গ্রহীতাকে সতর্ক করা হয়। এতেও কাজ না হওয়ায় বৈঠকে নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গিকারানামা চাওয়া হয়। ইজারাদার শর্ত মেনে চলার অঙ্গীকারও করেন। এরপরও ভাড়া পরিশোধ না করায় কেডিএ’র পক্ষ থেকে জেনারেল সার্টিফিকেট আদালতে মামলা করা হয়। তিনি জানান, তারপরও বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ওই প্রতিষ্ঠানের ইজারা বাতিল করা হয়। তাদের ১৫ দিনের মধ্যে মালামাল সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু ইজারা গ্রহীতা কেডিএ’র বিরুদ্ধে যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন এবং ইজারা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চান। কিন্তু গত ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতে শুনানি শেষে ওই আবেদন নামঞ্জুর হয়। কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম বলেন, পার্কটিকে আধুনিক শিশুপার্ক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এজন্য প্রকল্প তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সংস্কারের পর এটি হবে খুলনা বিভাগের সবচেয়ে আধুনিক শিশু পার্ক।

খুলনা সরকারি কলেজের সীমানা প্রাচীর ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ

খুলনা সোনাডাঙ্গা থানার ১৭নং ওয়ার্ড হাসানবাগ ছোট বয়রা খুলনা সরকারি কলেজের সীমানা ঘেঁষে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কলেজের সীমানা প্রাচীর ভেঙে এ কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মো. আব্বাস উদ্দিন নামের একজন গ্যারেজ ব্যবসায়ী এ অভিযোগ করেছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে খুলনা জেলাপ্রশাসক বরাবর চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে কলেজের জমির সীমানা চিহ্নিত করার জন্য সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। কলেজের পক্ষ থেকে সোনাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। খুলনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ যশোর বোর্ডের সাবেক সচিব প্রফেসর ড. মোল্লা আমির হোসেন বলেন, কলেজটির জমির পরিমাণ ১ একর ৪৭ শতাংশ দাগ ২১৪৩ ও ২১৪৭, খতিয়ান নং ১৭৯৬, মৌজা-ছোট বয়রা এর সীমান্ত বাউন্ডারির পূর্বপাশে ও কলেজের জমি ৪ ফুট দশ ইঞ্চি রয়েছে। অথচ কোনো প্রকার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ওয়াল ঘেঁষে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন মোঃ আব্বাস উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী। যার ফলে কলেজের ৫০ ফিট ওয়াল ধসে পড়ে যায়। পরবর্তীতে দেখা যায় তার নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকি কলেজের জমির ভেতর স্থাপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের এল.এ (সা.) শাখা থেকে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহার নির্দেশে কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আব্দুল হালিমকে নিয়োগ করেন জমির সীমানা নির্ধারণ করার জন্য। তাছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর জাবের মোঃ সোয়াইব খুলনা সরকারি কলেজের জমির ভেতর বাড়ি নির্মাণকারী আব্বাস উদ্দিন এর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষর চেয়ারম্যান বরাবর গত ৮ ফেব্রুয়ারি চিঠি পাঠান। সেই সাথে বিল্ডিং নির্মাণ কোড আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন। অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মো. আবাবাস উদ্দিন বলেন, আমি পরবর্তীতে বুঝতে পেরে সেপটিক ট্যাংকি ভাঙার চেষ্টা করেছি। একই সাথে ধসে যাওয়া ওয়াল নির্মাণ করতে চেয়েছিলাম। কলেজ থেকে বলেছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যেটা জানাবে সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ