ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 February 2019, ৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাগেরহাটে বিএনপি নেতা আক্তার চেয়ারম্যান হত্যার ঘটনায় ১০/১২ জনকে আসামী করে মামলা

বাগেরহাট সংবাদদাতা : রামপাল আলোচিত বিএনপি নেতা খাজা মঈন উদ্দিন আক্তারকে নৃশংসভাবে বোমা মেরে হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৫ জনসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামী করে রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার রাতে নিহতের শশুর ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব সাহেব আলী আকুঞ্জী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ওই নৃশংস হত্যার ঘটনায় গত ৫ দিনেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি এবং উদঘাটিত হয়নি খুনের মোটিভও। দীর্ঘ ১০ বছর পর বোমা বিষ্ফোরণে জনপ্রতিনিধি হত্যার ঘটনায় রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধা সাড়ে ৭ টায় উপজেলার ভরসাপুর বাসস্টান্ডে দূর্বৃত্তদের বোমার আঘাতে নৃশংসভাবে খুন হন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জনপ্রিয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খাজা মঈন উদ্দিন আক্তার। ওই ঘটনার ৫ দিন পর উপজেলার কদমদী গ্রামের আঃ বারিক শেখের পুত্র বর্তমানে রূপসার বাসিন্দা আজিম শেখ, কদমদী গ্রামের মৃতঃ আশরাফ শেখের পুত্র আহাদ শেখ, শ্রীকলস গ্রামের আমিন উদ্দিন ব্যাপারির পুত্র বাকি বিল্লাহ, ঝালবাড়ি গ্রামের মৃত আছির উদ্দিন কাজীর পুত্র বাবুল কাজী ও একই গ্রামের বাবরের পুত্র শিবলু আকুঞ্জীসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে ওই মামলায় আসামী করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা খুনের মোটিভ উদঘাটনে রাতদিন কার করে যাচ্ছেন। তারা আসামীদের পূর্বের অপরাধ মূলক কর্মকান্ডসহ তাদের সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখছে। সূত্র জানায়, আসামী বাকি বিল্লাহর বিরুদ্ধে তিনটি ডাকাতি, একটি ডাকাতি মার্ডার, একটি অস্ত্র মামলাসহ প্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। তার সহযোগী কুমলাইয়ের মুক্ত, শ্রীকলসের নুর মোহাম্মাদ মিয়া, ভাগার নজরুল সরদার, বেলাল বেপারী, মৃনাল, অজয়, রাজ্জাক, লুৎফর, বাচ্চু সরদার, বাবুল হাওলাদার, লিঠু মন্ডল, শীবনগরের লুৎফর, সোনাতুনিয়ার জাহিদ মল্লিক, একই গ্রামের ইমদাদ মোল্যা ও কালেখারবেড় গ্রামের ইমরান হোসেনসহ অনেকের বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সম্পৃক্ততার বিষয়ে খতিয়ে দেখছে। মামলার অন্যতম আসামী আজিমের আপন বড় ভাই আঃ হাকিম নিষিদ্ধ ঘোষিত জনযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। নিহত হাকিমের বিরুদ্ধে মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান পিন্টু রায় হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামী ছিল। নিহত হাকিমের ছোট ভাই আজিমের ধারনা তার ভাইকে আক্তার চেয়ারম্যান পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিল। এ ঘটনার পর জনপ্রিয় বিএনপি নেতাকে হত্যা করার জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে হত্যার ছক কষছিল। আক্তার চেয়ারম্যান বিরোধী একটি গ্রুফ সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে হত্যা করতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে। জন্যে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে তৎপর রয়েছে। পরিকল্পিত ওই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের খুজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় এর নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান অব্যহত রেখেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রামপাল থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ