ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 February 2019, ৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জামায়াত কখনোই বলেনি যে তারা ২০ দলীয় জোটে নেই

স্টাফ রিপোর্টার : ২০ দলীয় জোটে কোনো পরিবর্তন ঘটে নাই মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নহরুল ইসলাম খান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী একটা আলাদা রাজনৈতিক দল। সেখানে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার তো সুযোগ আছে তাদের, অধিকার আছে, ক্ষমতা আছে। তারা তাদের সুবিধা মতে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে ইচ্ছা করলে। কিন্তু আমাদের জানা মতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমাদের কখনোই বলা হয়নি যে, তারা ২০ দলের সাথে থাকবে না। গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
একাত্তর সালের ভুমিকা নিয়ে জামায়াতের ভেতরে দাবি উঠেছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য- আপনারা কী বলবেন? জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত- এই দাবি সকলেরই।  প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এই দাবিতো সকলেরই। খালি জামায়াত নয়, যারাই স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছে সেজন্য তাদের দুঃখ পাওয়া উচিত বা লজ্জা প্রকাশ করা উচিত বা ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত- এটা যেমন যুক্তিসঙ্গত দাবি। স্বাধীনতাবিরোধী যারা কাজ করেছে আমরা নিশ্চয়ই তাদের শাস্তি চাই, বিচার চাই- সবই চাই।
তবে নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, এই যুক্তিসঙ্গত দাবি ছাড়াও এরকম আরো অনেক যুক্তিসঙ্গত দাবিও আছে। এই বাংলাদেশে যারা গণতন্ত্র হত্যা করেছে, স্বাধীনতার সূবর্ণ ফসল যে গণতন্ত্র, সেই গণতন্ত্র যারা হত্যা করেছে তারা তো আজ পর্যন্ত জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। আমরা মনে করি, যারাই অপরাধ করবে তাদের সবারই ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। আমরাও যদি কোনো দোষ করি জনগণের কাছে, আমাদেরও উচিৎ জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। কিন্তু আমাদের দেশে এই রীতিরই প্রচলন নাই দুর্ভাগ্যক্রমে।
জামায়াত বিলুপ্ত হয়ে নতুন একটি দল গঠন করার বিষয়ে তারা কমিটি গঠন করেছে- এরকম প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এগুলো তাদের নিজস্ব ও অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমার মন্তব্য করার সুযোগ নাই।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক এই জামায়াতে ইসলামী বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি আসছিলো যে, আপনাদের (বিএনপি) সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর থাকার কারণেই আন্দোলনে সফল হতে পারছেন না। এর মধ্যে গণমাধ্যমে খবর এসেছে যে, জামায়াত আপনাদের সঙ্গে নেই, ২০ দলে নেই। জোটের সমন্বয়ক হিসেবে কী বলবেন প্রশ্ন করা হলে নজরুল বলেন, আমার তো জানা মতে ২০ দলীয় জোটে কোনো পরিবর্তন ঘটে নাই। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমাদের কখনোই বলা হয়নি যে, তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা ২০ দলের সাথে থাকবে না। জামায়াত একটা আলাদা রাজনৈতিক দল। সেই দলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার তো সুযোগ আছে তাদের, অধিকার আছে, ক্ষমতা আছে। তারা নিতে পারে ইচ্ছা করলে। কিন্তু আমাদের জানা মতে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আমরা শুনি নাই।
প্রধান নির্বাচন কমিশন বলেছেন উপজেলা নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে- এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের এই সিইসি যা বলেন বাংলাদেশের জনগণ তাতে ছি: ছি: করেন। কাজেই এই সিইসির যে বক্তব্য এই বক্তব্যের ওপর কোনো আস্থা দেশের কোনো মানুষের আছে বলে আমার মনে হয় না। যারা সুবিধা পায় তারাও অপছন্দ করে কারণ লোকটা ভালো না। ভালো না ইন দি সেন্স যে, তার দায়িত্ব পালনের তিনি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তারপরও তারা খুশি হয় যে, তাদের পক্ষে যায় তার আচরণ। সারা বাংলাদেশের মানুষ তাকে একজন অযোগ্য মানুষ ও একটা দলের পক্ষ হয়ে নির্বাচনের মতো একটি অনুষ্ঠানকে কুলষিত করার জন্য অভিযুক্ত করেন। আমরা এই নির্বাচন কমিশন ও সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া অর্থহীন বলে বিবেচনা করেছি।
সকাল ১১টায় জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের নিয়ে নজরুল ইসলাম খান শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করেন। এ সময়ে তাঁতী দলের সহসভাপতি মজিবুর রহমান, আবদুল মতিন চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক গোলাপ মঞ্জু, সাংগঠনিক সম্পাদক জে এম আনিসসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিনেন। পরে নেতৃবৃন্দ মরহুম নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
তাঁতী দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতৃবৃন্দ সকাল ১০টায় শেরে বাংলা নগরে জিয়ার সমাধিস্থলে গেলে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে নেতা-কর্মীদের সেখানে থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। পুলিশ জানায়, অনুমতি নেই  আজকের অনুষ্ঠানের। এখানে কেউ থাকতে পারবে না। পরে নেতৃবন্দৃ কবর প্রাঙ্গনের বাইরে অবস্থান নেন। সেখানে ঘন্টাখানেক দাঁড়িয়ে থাকার পর পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে অনুষ্ঠানটির বিষয়ে মহানগর পুলিশের কাছে দেয়ার চিঠি অনুলিপি দেখানোর পর নেতা-কর্মীদের ১১টা ০৫ মিনিটে  অনুষ্ঠানস্থলে  যেতে দেয়া পুলিশ। ১৯৮০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তাঁতী দল প্রতিষ্ঠা করে জিয়াউর রহমান। এবছর ১৮ ফেব্রুয়ারি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার কারণে ওইদিন তাঁতী দলের নেতারা প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচি করতে পারেনি। একদিন পর আজকে তারা দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ