ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 February 2019, ৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ছোট-বড় সবগুলো নদীর জীবন রক্ষা করা হবে ---ডেপুটি স্পিকার 

গাইবান্ধা সংবাদদাতা : জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার এ্যাড. ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি বলেছেন, নদী, খাল এবং জলাশয়ের পানির উপর নির্ভর কৃষকের চাষাবাদ। ভরাট হওয়ার কারণে পানিশূন্য হয়ে চাষাবাদ ব্যহত হচ্ছে। দেশের ৬৪ জেলার অভ্যান্তরস্থ্য ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় সেই সব নদী, খাল এবং জলাশয়গুলো পুনঃখনন করে কৃষি জমিগুলো সেচের আওতায় এনে চাষাবাদের উপযোগী করা হবে। ছোট-বড় সবগুলো নদীর জীবন রক্ষা করতে বর্তমান সরকার মহা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এজন্য পানিকে সম্পদে রূপান্তর করা হবে।

গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার তেনাছেড়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন  উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকালে গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর আয়োজনে জুমারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। আলোচনা সভায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রোস্তম আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তোফায়েল আহম্মেদ, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান, সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জল কুমার ঘোষ, উপজেলা প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলাম, উপজেলা আ’লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজমুল হুদা দুদু, জেলাপরিষদ সদস্য সাখাওয়াত হোসেন, আব্দুল হাই প্রমূখ।

প্রধান অতিথি ডেপুটি স্পীকার এ্যাড. ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি এর আগে সাঘাটার পূর্ব আমদিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব নির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন। চাহিদা ভিত্তিক নতুন জাতীয় করণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এলজিইডি এ বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে।

স্মারকলিপি প্রদান

এমপিওভুক্তির জন্য নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা মঙ্গলবার মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে আসাদুজ্জামান বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন, জেলা কমিটি দেড় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনের কর্মসূচি পালন করে।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি টিআইএম মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম সরকার, সদর উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান, প্রধান শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, তুলসীঘাট কাশিনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কুমুদ রঞ্জন পাল, ফুলছড়ির উদাখালী মডেল কলেজের অধ্যক্ষ এনামুল হক, উদাখালী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শফিউল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, এমপিওভুক্ত না হওয়ার কারণে দীর্ঘ ১০ থেকে ২৫ বছর যাবৎ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী সরকারের আর্থিক সুবিধা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা ধারদেনা করে পরিবার নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। এমপিওভুক্তির জন্য বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মতর্কারা দাবি পূরণের প্রতিশ্র“তি দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ গত বছরের ১৮ জুন শিক্ষক-কর্মচারীরা ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান ও পরে অনশন কর্মসূচি পালন করেন। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করে। কিন্তু এর কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না দেখে নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

মানববন্ধন শেষে মিছিলসহ শিক্ষক-কর্মচারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে অবিলম্বে এমপিওভূক্তির প্রতিশ্রতি বাস্তবায়নের দাবি সম্বলিত প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করেন।

স্বেচ্ছাশ্রমীদের সাথে যুক্ত হলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতা 

আর বাঁধা রইলো না সুন্দরগঞ্জের সেই স্বেচ্ছাশ্রমে কাঠের ব্রিজ নির্মাণে। ফলে নদী পারাপারের দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেলেন উপজেলার বেলকা, তারাপুর, দহবন্দ ও হরিপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিজেই উপস্থিত থেকে এ ব্রিজ নির্মাণের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এসময় নদীর পারে ব্রিজ বাস্তবায়নের অন্যতম সদস্য ও বেলকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মজির সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুন, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম আব্দুস সোবহান, জেলা পরিষদ সদস্য ইমাদাদুল হক নাদিম, জামিউল আনছারি লিংকন, মাজেদা বেগম, বেলকা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ, বেলকা জাপার সভাপতি মফিদুল হক মন্ডল, স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াজুল ইসলাম ও সাবেক কাউন্সিলর আলম মিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম। আলোচনা শেষে উপস্থিত সকলেব্রিজ নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করেন। উল্লেখ, সুন্দরগঞ্জ পৌর সভার তিস্তা শাখা নদীর উপর রামডাকুয়া ব্রিজ। ব্রিজটি ডেবে যাওয়ায় জনদুর্ভোগের কথা ভেবে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে ঐস্থানে কাঠেরব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। গত বুধবারব্রিজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয়রা। ব্রিজ নির্মাণের স্থানটি জেলা পরিষদের জায়গা হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সোলেমান আলী পুলিশসহ গত সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁধা দেন। পরে গতকাল মঙ্গলবার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নদী পারের মানুষদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে এ ব্রিজ নির্মাণে বাঁধা না দিয়ে উদ্বোধন করেন। ফলে আর বাঁধা রইলো না স্বেচ্ছাশ্রমে কাঠের ব্রিজ নির্মাণে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ