ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 February 2019, ৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বইমেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে উপন্যাস

ইবরাহীম খলিল : আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২১তম দিন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত  পাঠক-দর্শনার্থীতে জমে উঠবে বইমেলা। থাকবেন লেখকরাও। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের ঢল নামবে প্রাণের এই মেলায়। তবে গতকাল ২০ ফেব্রুয়ারি অসংখ্য পাঠক-দর্শনার্থী এসেছিলেন। কয়েকজন পাঠকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়  তাঁরা বই কিনতে এসেছেন। চাহিদা অনুযায়ী বইয়ের তালিকা করে স্টলে স্টলে পছন্দের বই কিনতে সন্ধান করেছেন অনেক সৌখিন পাঠক। আর অন্যরা যার যার ইচ্ছে মত বই কিনছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বইমেলা শেষ হওয়ার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভিড় বাড়ছে মেলা প্রাঙ্গণে। আর নতুন নতুন বইও আসছে স্টলগুলোতে। গতকাল ২০ ফেব্রুয়ারি বুধবার মেলায় নতুন বই এসেছে ১৩৮টি। এর আগের দিন ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট বই জমা পড়ে দুই হাজার ৮২৯টি বই। গল্প-উপন্যাস-কবিতা-প্রবন্ধ-অনুবাদ-শিশুসাহিত্য সব ধরনের বই আছে এ তালিকায়। বাংলা একাডেমির হিসাবে, গত ১৫ তারিখ পর্যন্ত বই জমা পড়ে, গল্প ৩১৮টি, উপন্যাস ৩২৬টি, প্রবন্ধ ১১৯টি, কবিতা ৬০২টি, গবেষণা ২৯টি, ছড়া ৪৫টি, শিশুতোষ ৫৬টি, জীবনীগ্রন্থ ৬১টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ ৫২টি, নাটক ১৬টি, বিজ্ঞানবিষয়ক বই ৩০টি, ভ্রমণকাহিনি ৩৩টি, ইতিহাসমূলক ৩০টি, রাজনীতিবিষয়ক ১৯টি, চিকিৎসাসংক্রান্ত ১২টি, রম্য ১৪টি, ধর্মীয় ৮টি, অনূদিত বই ১০টি, সায়েন্স ফিকশন/গোয়েন্দা ২৩টি এবং বাকিগুলো অন্যান্য।
এবার মেলার শুরু থেকেই নতুন বইয়ের সঙ্গে বইপ্রেমীরা যেমন আসছেন, তেমনই প্রকাশিত হচ্ছে নতুন নতুন গল্প-কবিতা-উপন্যাস-প্রবন্ধ-সহ শিশু-কিশোর উপযোগি বই। এসব প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে এবারের বইমেলায়ও এগিয়ে আছে কবিতা (৮৩৮টি), আছে গল্পগ্রন্থ (৪৩৭টি), এর পরেই আছে উপন্যাস; যার সংখ্যা ৪২৮টি। তবে অন্যবারের মতো এবারও বিক্রিতে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে-উপন্যাস। মেলার অধিকাংশ প্রকাশনার সঙ্গে কথা বলেই জানা গেছে এমন তথ্য।
প্রকাশকরা বলছেন-সংখ্যাগত দিক থেকে নতুন বইয়ের মধ্যে কবিতার বই বেশি থাকলেও বিক্রির ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে উপন্যাস। এরপরই আছে ছোট গল্প, নাটক, কবিতা, মহীয়সীদের জীবনী ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী। সবমিলিয়ে বলা চলে অন্যবারের মতো এবারও ঔপন্যাসিকদেরই জয়জয়কার।
তারা বলছেন, নতুন উপন্যাসের চেয়ে পুরনো ও জনপ্রিয় লেখকদের উপন্যাসেরই কদর বেশি। তাদের ভাষায়, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে পাঠকের রুচি-চাহিদার কিছুটা পরিবর্তন হলেও এখনও উপন্যাসের প্রতিই পাঠকের ঝোঁক বেশি। আর এই উপন্যাস বিক্রির দৌড়ে এবারও এগিয়ে জনপ্রিয় কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলনসহ পরিচিত ঔপন্যাসিকরা। হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাসগুলো। বলা যায়, এই দুইজনের উপন্যাস অনেকটা প্রতিযোগিতার সঙ্গেই বাজারে কাটতি হচ্ছে। ভালো বিক্রি হচ্ছে উপমহাদেশের অন্যতম শক্তিমান কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের প্রগাঢ়চিন্তা-চেতনা কিংবা দর্শনের উপন্যাসও। এছাড়াও বরাবরের মতো পাঠকের তুমুল ঝোঁক দেখা গেছে-মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হক, সেলিনা হোসেন, সৈয়দ শামসুল হক, হোসেনউদ্দিন হোসেন, রাবেয়া খাতুন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, নাসরিন জাহান, সুমন্ত আসলাম, মোশতাক আহম্মেদ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার-সহ প্রমুখের প্রতি।
‘কেন উপন্যাসের দিকে ঝোঁক?’-এমন প্রশ্নের জবাবে বইপ্রেমীরা বলছেন, একটা উপন্যাসে সমাজিক চিত্র বিভিন্ন দিক যেমন উঠে আসে, তেমনই অনেক উপন্যাসে একটি রাষ্ট্রের, কখনও জাতি-গোষ্ঠীর বিভিন্ন দিকও উঠে আসে। পড়তে গিয়ে কবিতা কিংবা গল্প-প্রবন্ধের মতো বেশি চিন্তা করা লাগে না। অতি সহজে বইটিতে লেখক কি বলতে চাচ্ছেন, তা বোধে যেমন সহজে নেয়া যায় অন্যকোন বিষয়ের বইয়ে সেইভাবে নেয়া যাই না।
প্রতিদিন বইমেলার মূলমঞ্চে বিকেল ৪টায় শুরু হয় আলোচনা পর্ব। আলোচনার বিষয় ছিল, সওগাত পত্রিকার শতবর্ষ : ফিরে দেখা। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ইসরাইল খান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন হাবিব আর রহমান, সোনিয়া নিশাত আমিন, আমিনুর রহমান সুলতান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. মুহাম্মদ সামাদ। এরপর একইমঞ্চে শুরু হয় কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি ও সংগীত সন্ধ্যা।
মেলার ২০তম দিনে মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে মোড়ক উন্মোচন করা হয় ১৮টি বইয়ের। গত ১৯দিনে প্রায় সাত শতাধিক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয় বইমেলার এই মঞ্চে।
লিটলম্যাগ স্টলগুলোর চেয়ে বাইরের এসব স্টলে পাঠকের ভিড় বেশি। উন্মুক্ত স্টলের নামে বাংলা একাডেমি কাদের এখানে বসিয়েছেন এমন প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারেননি একাডেমির কর্মকর্তারা। আজ বৃহস্পতিবার  অমর ২১ ফেব্রুয়ারি। গ্রন্থমেলা শুরু হবে সকাল ৮টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ