ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 February 2019, ৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ফেসবুকে পরিচয় এরপর প্রেম-বিয়ে ॥ চার মাসের মাথায় খুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো : ফেসবুকে পরিচয়। এরপর প্রেম-ভালবাসা। তারপর বিয়ে। অতপর মাত্র চার মাসের মাথায় খুন। বগুড়ার মেয়ে আশা আক্তারের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. শামীমের ফেসবুকে পরিচয় হয়েছিল। শামীম খুন হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে আশা আক্তারকে বগুড়া থেকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম নিয়ে আসার পর এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সাংবাদিক সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) কুসুম দেওয়ান বলেন, এক বছর আগে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে চার মাস আগে বিয়ে হয় শামীম ও আশা আক্তারের। বিয়ের পর আশা আক্তার জানতে পারেন, শামীম আগেও বিয়ে করেছেন এবং তার দুইটি বাচ্চা আছে। সেই ক্ষোভ থেকে শামীমকে খুনের পরিকল্পনা করে আশা আক্তার।
আশা আক্তার বগুড়া জেলার সদর উপজেলার ঠনঠনিয়া পাড়ার আব্দুল আজিজের মেয়ে এবং মো. শামীম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্যামন্তগড় এলাকার আবু কালামের ছেলে। পেশায় বাবুর্চি শামীম প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে খুলশী থানার ডেবারপাড় এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
ডিআইজি কুসুম দেওয়ান বলেন, আশা আক্তার আগে কখনও চট্টগ্রাম আসেন নি। ১৬ ফেব্রুয়ারি শামীমের সঙ্গে প্রথম এসেছিলেন। সেদিনই শামীমকে ঘুমের মধ্যে খুন করে বগুড়া পালিয়ে যান। হত্যাকান্ডে ব্যবহার করা ছুরিটি বগুড়া থেকে কিনে নিয়ে এসেছিলেন আশা আক্তার।
তিনি বলেন, শামীমকে বগুড়াতে স্যাটেল (স্থায়ী) করার জন্য এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি ইজিবাইক কিনে দিয়েছিলেন আশা আক্তার। কিন্তু শামীম আশা আক্তারকে না বলে চট্টগ্রাম চলে আসায় ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। এর পরই খুনের পরিকল্পনা করে। শামীম ফোনে আশা আক্তারকে চট্টগ্রাম চলে আসার জন্য বললে তিনি রাজি হয়ে যান। পরে শামীম গিয়ে আশা আক্তারকে নিয়ে আসেন এবং ভাড়া বাসায় উঠেন। কুসুম দেওয়ান বলেন, শামীমকে একাই খুন করেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে আশা আক্তার।
সাংবাদিক সম্মেলনে সিএমপির উপ-কমিশনার (পশ্চিম) ফারুক উল হক, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কামরুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (পাহাড়তলী জোন) পংকজ বড়ুয়া, পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন।
স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খুন হওয়ার পর পাহাড়তলী থানাধীন আবদুল আলী নগর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তদন্তের দায়িত্ব পান পাহাড়তলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অর্ণব বড়ুয়া।
একটি ফোন কলের সূত্র ধরে প্রথমে ভিকটিম শামীমের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। পরে শামীমের সঙ্গে কথোপকথনের সূত্র ধরে শনাক্ত করা হয় আশা আক্তারকে। শামীমের পরিবারের কেউ আশা আক্তারকে চিনতেন না, কখনও দেখেননি। না চিনলেও শামীমের সঙ্গে এক মেয়ের মোবাইল ফোনে কথা হয় এমন তথ্য পুলিশকে দেন শামীমের পরিবার। আশা আক্তারের পরিচয় পেয়ে পুলিশ দুইদিন বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে সদর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
এসআই অর্ণব বড়ুয়া বলেন, বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য বাড়ির মালিকের মেয়ের মোবাইল নাম্বারে কল দিয়েছিলেন শামীম। সেই নাম্বারের সূত্র ধরে শামীম ও আশা আক্তারের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। বগুড়ায় আশা আক্তারের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহার করা ছুরি ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে আশা আক্তারকে আদালতে চালান দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ