ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 February 2019, ৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পর্নোগ্রাফির কারণসমূহ : ক্ষতি এবং তার প্রতিকার

-মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান
[পাঁচ]
পবিত্র কুরআনে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, “নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না। প্রকাশ্যে হোক কিংবা অপ্রকাশ্যে। ‘‘আল-কুরআন ৬ : ১৫১”। ‘সমকামিতা’ যে মারাত্মক ধরনের সীমালঙ্ঘন এবং অশ্লীল কাজ তা পবিত্র কুরআনের (৭:৮০,৮১) এবং ২৬:১৬৬) নং আয়াতে স্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে। সে সাথে এই ধরনের কুকর্মের সাথে জড়িতদের (২৯:৩০)নং আয়াতে ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী অর্থাৎ দুষ্কৃতিকারী এবং (২৯:৩১)নং আয়াতে জালিম হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাই ‘সমকামিতাকে’ ব্যভিচারের সাথে সম্পৃক্ত না করে সন্ত্রাস বা বিপর্যয় সৃষ্টিকারী কারণগুলোর সাথে বিবেচনা করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।
ইসলামী চিন্তাবিদগণ রসূলুল্লাহ সা: এর হাদীস ও সীরাত থেকে সমকামিতার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান দিয়েছেন। রসূলুল্লাহ সা: কয়েকটি হাদীসে সমকামিতাকে অভিশাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দু’জনের জন্য মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি ঘোষণা দিয়েছেন। রসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘‘কোথাও তুমি মানুষদেরকে লূতের জাতির মত পাপ করতে দেখলে তাকে হত্যা করবে। যে এটা করে এবং যে এটাকে সাহায্য করে দুই জনকেই হত্যা করো। ‘‘ইমাম ইবনে মাজাহ, আস-সুনান, অধ্যায় : আল-হুদুদ, পরিচ্ছেদ: মান ‘আমিলা’ আমলা কাওমি লূত, প্রাগুপ্ত, পৃ: ৬২৭’’ ইমামগণ সমকামিতার শাস্তি বর্ণনায় বিভিন্ন মত উল্লেখ করেছেন। অধিকাংশ মুসলিম দেশে সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয় এবং শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। সৌদি আরব, ইরান, মৌরিতানিয়া, উত্তর নাইরেজিয়া, সুদান, ইয়েমেনে সমকামিতার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। আফগানিস্তানে সমকামিতার শাস্তি জেল ও অর্থদ-ে নামিয়ে আনা হয়েছে। ইউনাইটেড আরব আমিরাত ও বাংলাদেশে সমকামিতার বিরুদ্ধে আইন স্পষ্ট নয়। অনেক মুসলিম দেশ যেমন বাহরাইন, কাতার, আলজেরিয়া, উজবেকিস্তান ও মালদ্বীপে সমকামিতার শাস্তি হিসেবে জেল, অর্থদন্ড ও শারীরিক শাস্তি দেয়া হয়। মিশরে সমকামিতার বিরুদ্ধে কোন আইন নেই। কিন্তু সমকামিতা সেখানে বৈধ নয়। এর জন্য শাস্তি হিসেবে জেল জরিমানা রাখা হয়েছে।
নারী-পুরুষের গোপনাঙ্গ দেখা নিষিদ্ধকরণ : পোশাক পরিধান করা মানব সভ্যতার পরিচায়ক। আল্লাহর শত্রু শয়তান আদম আ. ও হাওয়া আ. কে আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘনে প্রলুব্ধ করে উভয়কে বিবস্ত্র করার মাধ্যমে তাদের গোপনীয়তা প্রকাশ করে দিয়েছিল। আল্লাহ বলেন, “হে বনী আদম! শয়তান যেন তোমাদের আবার ঠিক তেমনিভাবে বিভ্রান্তির মধ্যে নিক্ষেপ না করে যেমনভাবে সে তোমাদের পিতা-মাতাকে জান্নাত থেকে বের করেছিল এবং তাদের লজ্জ্স্থাান পরস্পরের কাছে উন্মুক্ত করে দেবার জন্য তাদেরকে বিবস্ত্র করেছিল। সে ও তার সাথীরা তোমাদেরকে এমন জায়গা থেকে দেখে যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না। এ শয়তানদেরকে আমি যারা ঈমান আনে না তাদের অভিভাবক করে দিয়েছি। ‘‘আল কুরআন : ৭ : ২৭’’ পবিত্র কুরআনের নারী-পুরুষ উভয়কে পোশাক পরিধানের শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, “হে বনী আদম! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, সাজসজ্জার বস্তু হিসেবে এবং তাকওয়ার পোশাক-এটি সর্বোত্তম। ‘‘আল-কুরআন, ৭ : ২৬’’ নারী-পুরুষের পোশাকের ক্ষেত্রে শালীন ও মার্জিত পোশাকই তাকওয়ার পোশাক। আল কুরআনের সূরা আন-নূর ও সূরা আল-আহযাবে মুসলিম নারীদের জাহেলি যুগের ন্যায় নিজেদের রূপ-সৌন্দর্যের প্রদর্শন করে বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। ঘরের বাইরে যাওয়ার সময় চাদর দিয়ে নিজেদের দেহকে আবৃত করে রাখতে বলা হয়েছে। এসব আদেশের ক্ষেত্রে নারীদের ঘরে আটকে রাখার কথা বলা হয়নি; বরং তাদের সৌন্দর্য আবৃত করে রাখার কতা বলা হয়েছে। ঘরের বাইরে পুরুষদেরও নগ্ন হওয়ার জাহেলী নিয়ম-কানুন নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়।
নারী ও পুরুষ উভয়কেই নিজেদের লজ্জাস্থানের সংরক্ষণের আদেশ প্রদান করা হয়েছে। সূরা আন-নূরের ৩০ নম্বর আয়াতের তাফসীরে বলা হয়েছে যে, ‘দৃষ্টি নত রাখার অর্থ দৃষ্টিকে এমন বস্তু থেকে ফিরিয়ে নেয়া যার প্রতি দেখা শরীয়তে নিষিদ্ধ ও অবৈধ। ‘‘আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ আল-বাগাবী, মা’আলিমুত-তানযীল, আল-কুরআন: ২৪:৩০ এর তাফসীর, বৈরূত: দারুল-মা’রেফা, ১৯৮৭, খ, ৪, পৃ: ৩৩’’ ইবনে কাসীর এবং ইবনে হাইয়ান ও তাফসীরই করেছেন। নারীর প্রতি দৃষ্টি নিষিদ্ধ। কোন নারী অথবা পুরুষের গোপনীয় অঙ্গের প্রতি দেখাও এর অন্তর্ভূক্ত। তবে অবশ্যই চিকিৎসা ইত্যাদির কারণে প্রয়োজনীয় অঙ্গ দেখা ব্যতিক্রম। এছাড়া কারো গোপন তথ্য জানার জন্র তার গৃহে উকি মেরে দেখা এর অন্তর্ভূক্ত। যৌনাঙ্গ সংযত রাখার অর্থ কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার যত পন্থা আছে, সবগুলো থেকে যৌনাঙ্গকে সংযত রাখা। এ আয়াতের উদ্দেশ্য অবৈধ ও হারাম পন্থায় কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা এবং তার সমস্ত ভূমিকাকে নিষিদ্ধ করা। তন্মধ্যে কাম প্রবৃত্তির প্রথম ও প্রারম্ভিক কারণ হচ্ছে দৃষ্টিপাত করা এবং সর্বশেষ পরিণতি হচ্ছে ব্যভিচার। ‘‘সংক্ষেপিত: ইবনে কাসীর, তাফসীরুল কুরআনুল আযীম, মিশর: মু’আসসাসাহ করডোবা, ২০০০, খ, ১০, পৃ: ২১২-২১৭’’ রসূলুল্লাহ সা: বলেন, “দুই চোখ ব্যভিচার করে। চোখের ব্যভিচার হচ্ছে দেখা। ‘‘ইবনুল জাওযী, যাম্মুল হাওয়া, অধ্যায়: আয-যাম্মুল হাওয়া, পরিচ্ছেদ: আস-সালিশ আশারা, প্রাগুক্ত, পৃ: ৭৫’’ এ দু’টকে স্পষ্টত: উল্লেখ করে হারাম করে দেয়া হয়েছে। এতদুভয়ের অন্তর্বতী ভূমিকাসমূহ যেমন কথাবার্তা শোনা, স্পর্শ করা ইত্যাদি প্রসঙ্গক্রমে এগুলোর অন্তর্ভূক্ত।
যে নারী স্বামী ছাড়া অন্য কাউকে পোশাক ছেড়ে অনাবৃত হয়ে সৌন্দর্য প্রদর্শন করে সে মূলত আল্লাহর সাথে তার সম্পর্ক ছিন্ন করে। রসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, “কোন নারী বাড়িতে স্বামী ব্যতীত অন্য কারো সামনে পোশাক-পরিচ্ছদ ছেড়ে অনাবৃত হয়ে কাউকে তার সৌন্দর্য প্রদর্শন করলে সে যেন আল্লাহ ও তার মধ্যকার বন্ধন পর্দাকে ভেঙ্গে ফেলল। ‘‘ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান, অধ্যায়: আল-আদাব, পরিচ্ছেদ: মা যাআ ফি দুখুলিল হাম্মাম, প্রাগুক্ত, পৃ: ১০৩২’’ এর মাধ্যমে মূলত স্ত্রী স্বামীর বিশ্বাস ভঙ্গের দায়ে দোষী হয়ে নিজেকে অপমানিত করে। ফলে আল্লাহও তাকে লজ্জিত ও অপমান করবেন। এমন নারী আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে। রসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, “দুই শ্রেণীর দোযখবাসীকে আমি এখনও দেখিনি তাদের এক শ্রেণীর হাতে গরুর লেজের মত লাঠি থাকবে এবং তা দিয়ে মানুষকে প্রহার করবে এবং ঐসব স্ত্রীলোক যারা পোশাক পরিধান করেও উলঙ্গ থাকে। পর-পুরুষকে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করবে। তাদের মাথা বড় উটের মাথার মত হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং তার ঘ্রাণও পাবেনা। ‘‘ইমাম মুসলিম, সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: আল-লিবাস ওয়ায যিনাহ, পরিচ্ছেদ: আন-নিসা আল-কাসিয়াত আল-আরিআত আল-মাইলাত আল-মুমীলাত, প্রাগুক্ত, খ, ১৪, পৃ: ১১৪’’ কারণ তারা তাদের দেহের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে যুব সমাজের যৌন অনুভূতিকে এমন এক সুড়সুড়ি তৈরী করে, যা এক প্রকার যৌন প্রতারণা।
নারী পুরুষের উগ্র চালচলন সমাজে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করে। ফলে নারীদেরকে সুগন্ধি মেখে মসজিদে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। হাদীসে উল্লেখ আছে, “প্রত্যেক চোখ যিনা করে। মেয়েলোক যখন সুগন্ধি মেখে কোন বৈঠকের পাশ দিয়ে অতিক্রম কর, সেও যিনাকারিণী। ‘‘ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান, অধ্যায়: আল-আদব, পরিচ্ছেদ: মা যাআ ফি কারাহিয়্যাতি খুরুযিল মারআ মুআত্তারাহ, প্রাগুপ্ত, পৃ: ১০২৮’’ যে নারী অনিয়ন্ত্রিত নগ্ন জীবন যাপন করে, সে শুধু নিজের সর্বনাশই করে না, তার চালচলনের প্রভাব তার ভবিষ্যত বংশধরের ওপরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয়ভাবেই পড়ে। ইসলাম জাহিলী যুগেও অন্যান্য জাতির নারীদের এ নগ্নপনাকে মুসলিমদের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ‘‘ইমাম আবূ দাউদ, আস-সুনান, অধ্যায়: আল-হাম্মাম, পরিচ্ছেদ: আদ-দুখুল ফিল হাম্মাম, সিরিয়া: দারুল-ফিকর, তা.বি. পৃ: ১০৭৯’’
একইভাবে তা পুরুষের বেলায়ও প্রযোজ্য। পুরুষকে তার গুপ্তাঙ্গ সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। আসহাবে সুফ্ফার সদস্য যারহাদ রা. বর্ণনা করেন, “রসূলুল্লাহ সা: আমাদের সামনে বসা ছিলেন তখন আমার উরু উন্মুক্ত ছিল। তিনি বলেন, তুমি কি জান না যে উরুও গোপন অঙ্গ। ‘‘ইমাম দারেমী, আস-সুনান, অধ্যায়: আল-ইসতিযান, পরিচ্ছেদ: ফি আন্নাল ফাখযা ‘আওরাহ, বৈরূত: দারুল-কুতুব আল-আরাবী, ১৪০৭, পৃ: ৬১৩’’ মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ বলেন, আমি একটি ভারী পাথর বহর করে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে আমার কাপড় পড়ে গিয়েছিল। রসূলুল্লাহ সা: বললেন, তোমার কাপড় ধর, নগ্ন হয়ে পথ চলবে না। ‘‘ইমাম আবূ দাউদ, আস-সুনান, অধ্যায়: আল-হাম্মাম, পরিচ্ছেদ: মা যাআ ফিত তা’আররুয়ি, প্রাগুক্ত পৃ. ১০৮১’’
পুরুষের সতর নাভী হতে হাটু পর্যন্ত। তবে গোসলের সময় পুরুষরা উল্লেখিত অঙ্গ খোলা রাখতে পারে। তবে পর্দার আড়ালে গোসল করা উত্তম। ইয়ালা ইবনে মুরবা রা. বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সা: খোলা স্থানে এক ব্যক্তিকে গোসল করতে দেখলেন। তিনি এই দৃশ্য দেখে মসজিদের মিম্বারে উঠে আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অত:পর বললেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ লজ্জাশীল ও পর্দাকারী। তিনি লজ্জা ও পর্দা করাকে ভালবাসেন। অতএব যখন তোমাদের কেউ গোসল করে, তখন সে যেন পর্দা করে। ‘‘ইমাম নাসাঈ, আস-সুনান, আস-ছুগরা, অধ্যায়: আল-গুসল ওয়াত তায়াম্মুম, অনুচ্ছেদ: আল-ইসতিতার ‘ইনদাল ইগতিসাল, বৈরূত: দারুল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৯৯৪, পৃ: ১০৪’’ বাহয ইবনে হাকীম রা. থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের লজ্জাস্থান কতটুকু ঢেকে রাখব এবং কতটুকু খোলা রাখতে পারব? তিনি বলেন, “তোমার স্ত্রী এবং তোমার দক্ষিণ হস্তের মালিকানাধীন নারীরা ব্যতীত সবার দৃষ্টি থেকে তোমার গোপনাঙ্গকে সংরক্ষণ করবে। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, পুরুষ লোকেরা একত্রে অবস্থানরত থাকলে? তিনি বলেন, যতদূর সম্ভব কেউ যেন তোমার আবরণীয় স্থান না দেখতে পারে তুমি তাই কর। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, মানুষতো কখনো নির্জন অবস্থায়ও থাকে। তিনি বললেন, আল্লাহ তো লজ্জা করার ক্ষেত্রে বেশি অধিকারী। ‘‘ ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান, অধ্যায়: আল-আদাব, অনুচ্ছেদ: বাবু মা যাআ ফি হিফযিল আওরাহ, প্রাগুক্ত, পৃ: ১০২৩’’
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, “আল্লাহ বলেছেন, দৃষ্টিপাত শয়তানের একটি শর। যে ব্যক্তি মনের চাহিদা সত্ত্বেও দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়, আমি তার পরিবর্তে তাকে সুদৃঢ় ঈমান দান করব, যার মিষ্টতা সে অন্তরে অনুভব করবে। রসূলুল্লাহ সা: বলেন, “হঠাৎ কোন পর নারীর প্রতি দৃষ্টি পতিত হলে সেদিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও। ‘‘ইমাম মুসলিম, সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: আল-আদাব, পরিচ্ছেদ: বাবু নাযরিল ফাযাআহ প্রাগুপ্ত, পৃ: ১৫১০’’ আলী রা. এর হাদীসে আছে, প্রথম দৃষ্টি মাফ এবং দ্বিতীয় দৃষ্টি গোনাহ। ‘‘ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান, অধ্যায়: আল-আদাব, অনুচ্ছেদ: মা যাআ ফি হিফযিল আওরাহ, প্রাগুপ্ত, পৃ: ১০২৫’’ এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, প্রথম দৃষ্টিপাত অকস্মাৎ ও অনিচ্ছাকৃত হওয়ার কারণে ক্ষমার্হ। নতুবা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রথম দৃষ্টিপাতও ক্ষমার যোগ্য নয়। রসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, “কোন পুরুষ অপর কোন পুরুষের গুপ্তাঙ্গ এবং কোন নারী অপর কোন নারীর গুপ্তাঙ্গ দেখবে না। কোন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ অন্য পুরুষের ও কোন নারী অপর নারীর গুপ্তাঙ্গ দেখবে না। কোন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ অন্য পুরুষের ও কোন নারী অপর কোন নারীর সাথে এক কাপড়ে শয়ন করবে না। ‘‘ইমাম আবূ দাউদ, আস-সুনান, অধ্যায়: কিতাবুল হাম্মাম, পরিচ্ছেদ: মা যাআ ফিত তা’আরুয়ি, প্রাগুপ্ত, পৃ: ১০৮১’’ তাছাড়া কোন নারী পুরুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষা দিতে অনুমতি ছাড়া কারো ঘরে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। রসূলুল্লাহ সা: কোন ব্যক্তির একান্ত পারিবারিক অন্তরঙ্গ মূহূর্তে বিনা অনুমতিতে ঘরে প্রবেশ করা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। রসূলুল্লাহ সা: বলেন, কেউ যদি তোমার গৃহে অনুমতি ব্যতীত হঠাৎ করে উপস্থিত হয় তবে তুমি যদি তাকে কোন পাথর নিক্ষেপ কর; যাতে তার চোখ দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলে। এতে তার কোন অপরাধ হবে না। ‘‘ইমাম তাবারানী, আল-মু’জাম, অধ্যায়” রিওআয়াতুহু আনিল মাক্কিয়ীন, পরিচ্ছেদ: শুআইবুন আর আবিয যিনাদ আবদিল্লাহু, বৈরূত: মুআসসাহতুব-রিসালাহ, ১৯৮৪, পৃ: ১০১০’’
অশ্লীলতা প্রতিরোধে মদ নিষিদ্ধকরণ : মদ মানুষের মৃত্যুসহ বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি মানুষের ভয়ঙ্কর দুর্দশার কারণ। সমাজের অসংখ্য সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে মদ। অপরাধ প্রবণতার তীব্র উর্ধ্বগতি, ক্রমবর্ধমান মানসিক বিপর্যয় এবং সংসার ভাঙ্গনের জীবন্ত প্রমাণ বহন করছে। কুরআনে মদ পানের নিষিদ্ধতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, “হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, পাশা খেলা ও তীর ছুঁড়ে ভাগ্য জানা এগুলো শয়তানের নিকৃষ্ট ধরনের জঘন্য কারসাজি। এসব পরিহার করে যেন তোমরা সফলকাম হতে পার। ‘‘আল-কুরআন, ৫:৯০’’ মানুষ যখন মদ পান করে, তখন তার বিবেকবোধ স্থবির হয়ে পড়ে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ