ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 February 2019, ৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চৌহালীতে ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে পরিবেশ দূষিত

আব্দুস ছামাদ খান, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: চৌহালী উপজেলার সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের খামার গ্রামে সুতা-রং ও প্রক্রিয়াজাতের প্রায় ১১টি কারখানা অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। পরিশোধনাগার না থাকায় এসব কারখানায় ব্যবহৃত কেমিক্যালের বিষাক্ত বর্জ্য প্রকাশ্যে পাইপের সাহায্যে যমুনা নদী ও ফসলের মাঠে ফেলা হচ্ছে। এ কারণে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পঁচা দুর্গন্ধের কারণে ওই এলাকার বাসাবাড়িতে টিকে থাকা ও পথচারীদের যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, খরচ বাঁচাতে বা বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) তৈরি না করে পরিবেশ অধিদফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এ কাজ করে যাচ্ছে প্রভাবশালী কারখানা মালিকরা।
জানা যায়, যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত চৌহালী উপজেলার খামার গ্রামে গড়ে ওঠা রহমান হাজীর ফিরোজা ও প্রসেস মিল, ইসলাম হাজীর ফিরোজা মিল, সেনা দালালের প্রসেস মিল, জাদুকর ছালামের প্রসেস মিল, ডায়না প্রসেস মিল, মনির ডাইং, লাবু হাজীর প্রসেস মিল ও বেতিলের গণির ফিরোজা ও প্রসেস মিলসহ এলাকার প্রায় ১১টি সূতা প্রসেস; ফিরোজা মিল ও এনায়েতপুরের কয়েকটি সুতা-রং করার কারখানায় বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহার করে সুতা মাচরাইজ ও ফিরোজাসহ বিভিন্ন রং করা হচ্ছে। এসব কাজে এসিড, কস্টিক সোডা,এ্যাটিক এসিড, ব্লিচিং পাউডারসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, সুতা-রং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার কেমিক্যাল বর্জ্যরে কোনো শোধনাগার নেই। নেই বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য কোনো সংরক্ষিত হাউস। বয়লার ও রঙের কারখানা থেকে দূষিত বর্জ্য নির্গত হয়ে সবুজ ধানের ক্ষেতে পড়ছে। এই বর্জ্য ক্ষেতের ড্রেনের সাহায্যে যমুনা নদীতে গিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে জমির ফসলাদির ক্ষতি সাধিত হচ্ছে,নদীর মাছ মরে ভেসে উঠছে। এসব ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যরে কটুগন্ধে পরিবেশ দূষিত হয়ে শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ