ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 February 2019, ৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত বাঁশখালী ইকোপার্ক

বাঁশখালী ইকোপার্কের নয়নাভিরাম লেক ও শেড এবং দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু।

মোঃ আব্দুল জাব্বার, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে শীতের আগমনে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর অন্যতম পর্যটন স্পট বাঁশখালী ইকোপার্ক। এই পার্কে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগের বিশাল সুযোগ থাকায় এখানে প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের পর্যটন স্পট বাঁশখালী ইকোপার্কে ২০০৩ সাল থেকে পর্যটকের আগমন শুরু হয়। বিশেষ করে ইকোপার্কের সবুজ বনানী ও সূদূর সাইবেরিয়া থেকে অতিথি পাখির আগমন, পাখির কিচিরমিচির শব্দ, পশু পাখির বিচরণ, এলোমেলো অসংখ্য লেক, আঁকাবাকা রাস্তা, দুইটি ঝুলন্ত ব্রীজ, ৩টি পর্যটন টাওয়ার হতে সূর্যাস্তের দৃশ্য পর্যটকদের নজর কাড়ে। ২০০৮ সালে প্রলয়ংকরী পাহাড়ি ঢলের পানি তোড়ে বাঁশখালী ইকোপার্কের বামের ছড়ার বাঁধ ভেঙে ইকোপার্কের বেশ কিছু স্থাপনা ও হাইড্রোইলেক্ট্রনিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি তছনছ হয়ে যায়। এ সময় ইকোপার্কের বেশ কিছু স্থাপনা ভেঙে গেলে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পায়। তবে ইকোপার্কের ভাঙা বাঁধ সংস্কারের জন্য বাঁশখালী এলজিইডি’র মাধ্যমে যথাযথ বরাদ্দ প্রদান করা হলে ওই বাঁধ নির্মাণ কাজ বর্তমানে সম্পন্ন করা হয়েছে। বাঁশখালী ইকোপার্কে আসা পর্যটকরা জানান, বাঁশখালীতে অবস্থিত এই ইকোপার্কে পরিবারের লোকজন নিয়ে খোলামেলা পরিবেশে ঘুরে ফিরে সময় কাটানো যায়। শিশুরা দোলনায় চড়ে ও ঝুলন্ত সেতুতে দৌড়ে সময় অতিক্রম করে। পাখির শব্দে ভ্রমন পিপাসুদের মন আন্দোলিত হয়।
তাছাড়া বাঁশখালী ইকোপার্কের মত বিশাল এলাকা জুড়ে পর্যটন স্পট আর কোথাও নেই। এই পর্যটন স্পটকে সরকার যদি যথাযথ ভাবে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আরো বেশী কার্যক্রম করে তাহলে পর্যটকদের কাছ থেকে আরো বেশী রাজস্ব পাবে সরকার তাতে কোন সন্দেহ নেই। এদিকে বাঁশখালী ইকোপার্কে আসার একমাত্র সড়ক শীলকূপ মনছুরিয়া বাজার থেকে ইকোপার্ক পর্যন্ত ২-৩ কিলোমিটার সড়কটি অত্যন্ত সরু। তাই পর্যটন স্পটে একমাত্র আগমনের এই সড়কটি আরো প্রশস্থ করার আহবান জানিয়েছেন ইকোপার্কে আসা ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা। বাঁশখালী ইকোপার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিছুজ্জমান শেখ জানান, প্রকৃতি সমৃদ্ধ বাঁশখালী ইকোপার্ক এলাকা স্বচক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না এর বিশালত্ম। তবে এই স্পটটি যথাযথ ভাবে আরো বেশী উন্নয়ন ও পর্যটন উপযোগী করা প্রয়োজন। তাতে করে সরকার আরো বেশী রাজস্ব পেত। প্রচুর পরিমাণ পর্যটকদের আগমনে শান্তি শৃংখলার মধ্যে পর্যটকরা বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ফিরে দেখার জন্য বন বিভাগ থেকে ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ