ঢাকা, মঙ্গলবার 16 July 2019, ১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চকবাজার অগ্নিকাণ্ড: ভয়াবহ আগুনে নিহত ৭৮

সংগ্রাম অনলাইন : রাজধানী ঢাকার পুরনো অংশের চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা: সোহেল মাহমুদ বেলা সাড়ে এগারটায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, তারা ৭৮টি মৃতদেহ পেয়েছেন।

যদিও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কন্ট্রোল রুম থেকে বিবিসি বাংলাকে মৃতের সংখ্যা ৭০টি বলা হয়েছে।

এর আগে পুলিশ মহাপরিদর্শক জাভেদ পাটোয়ারি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছেন, ৭০জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং আরও মৃতদেহ থাকতে পারে।

কিভাবে মৃতদেহ পাবেন স্বজনরা?

বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা ফারহানা পারভীন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাাতালে ডা: সোহেল মাহমুদের ব্রিফিংএ ছিলেন।

মিস্টার মাহমুদ বলছেন, যেসব লাশ তাদের স্বজনরা সহজেই সনাক্ত করতে পারছেন সেগুলো আজই যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে হস্তান্তর করা হবে।

কিন্তু যাদের সনাক্ত করা যাচ্ছেনা তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে সনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

যদি সেটিতে সনাক্ত হয়ে যায় তাহলে সেগুলোও স্বজনরা গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু যেসব লাশ একেবারেই সনাক্ত করা যাচ্ছেনা সেগুলো ডিএনএ পরীক্ষার পর দেয়া হবে এবং এজন্য কিছুটা সময় লাগবে।

গত রাত সাড়ে ১০টার পরে পুরনো ঢাকার চকবাজারে শাহী মসজিদের কাছে 'ওয়াহিদ ম্যানসন' নামের একটি ভবনে আগুন লাগার পর তা আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

পরে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট একযোগে কাজ শুরু করে তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত কিছু বলেনি কর্তৃপক্ষ।

অনুমতি নেই রাসায়নিক রাখার

২০১০ সালের জুনে পুরনো ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিকের কারখানায় আগুন ধরে ১২৪ জন নিহত হয়েছিলেন।

এরপর পুরনো ঢাকার আবাসিক এলাকায় রাসায়নিকের কারখানা বা সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

তাহলে কিভাবে চকবাজারে রাসায়নিকের গুদাম থাকতে পারে?

বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে মিঃ খান বলেন, "নিষেধাজ্ঞার পরেও অনেকে হয়ত চোরাইভাবে রেখে ব্যবসাবাণিজ্য করে।

কর্তৃপক্ষের অগোচরে কাজ করে তারা। কিন্তু এর পরিণতি হচ্ছে এ ধরণের ঘটনা।"

ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের উদ্ধার করা হচ্ছে।

সরু রাস্তা ও পানির সংকট

চকবাজারে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়েছে, এর কারণ হিসেবে মি. খান সরু রাস্তা ও পানির সংকটকে প্রধান সমস্যা বলে চিহ্নিত করেছেন।

"অনেক দূর ঘুরিয়ে গাড়ি ভেতরে আনতে হয়েছে। সেই সঙ্গে এটা একটা জনবহুল এলাকা তাই আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগছে বেশি।"

এছাড়া এখানে পানির অভাবও রয়েছে। এখন পুকুর থেকে পানি এনে কাজ চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন আগুন এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।

ফায়ার সার্ভিসের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১২ সালের পর থেকে বাংলাদেশে ৮৮ হাজার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ২৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি। প্রাণহানি হয়েছে ১৪০০ জন, আহত হয়েছে অন্তত ৫০০০ মানুষ। সূত্র: বিবিসি বাংলা। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ