ঢাকা, শুক্রবার 22 February 2019, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

যে ভাষার জন্য এত ত্যাগ তিতিক্ষা সেই  ভাষার ব্যবহার এখনও সার্বক্ষণিক হয়নি

গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যাগে রাজধানীতে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যাগে গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হাসান রাজু, আব্দুস সালাম,অফিস সম্পাদক আবুল হাশেম, আইন আদালত সম্পাদক এডভোকেট জাকির হোসেন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক এডভোকেট আলমগীর হোসাইন, মুহিবুল্লাহ,এইচ এম আতিকুর রহমান।

প্রধান বক্তা তার বক্তৃতায় বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় জীবনের বড় অর্জন। অনেক ত্যাগ ও কোরবানির মাধ্যমে আমাদেরকে মাতৃভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায় করতে হয়েছে। দেশের প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির কারণে মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে।  মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্র-জনতার সাথে শ্রমিকরাও রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিলেও শাসকগোষ্ঠীর অহমিকা ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে ভাষা আন্দোলনে শ্রমিকদের যথার্থভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। যে ভাষার জন্য এত ত্যাগ তিতিক্ষা সেই ভাষার ব্যবহার এখনও সার্বক্ষণিক হয়নি। নেতৃবৃন্দ বলেন,মূলত শ্রমিকরা সকল আন্দোলনেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের ভাষা  সৈনিকেরাও অনেকে শ্রমিক ছিলেন।

ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার একজন সাধারণ শ্রমিক ছিলেন, আব্দুস সালাম একজন রেকর্ড কিপার কর্মচারী ছিলেন, আব্দুল আওয়াল ছিলেন একজন রিকসা শ্রমিক,মোঃ অহিউল্লাহ ছিলেন শিশু শ্রমিক। ভাষা আন্দোলন করার কারণে কত শ্রমিক জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে ছিলো তা আমাদের অজানাই থেকে গেলো।

বক্তরা  ভাষা আন্দোলনে সারাদেশে শ্রমিকদের আবদানের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ৫২ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করায় তৎকালীন প্রাশাসন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও ছাত্র বহিষ্কাররে প্রতিবাদে সেদিন বগুড়ার রাজপথ কাঁপিয়ে আন্দোলনের বাস্তব ভিত্তি রচনা করেছিলেন বগুড়ার বিড়ি শ্রমিক ভাইয়েরা। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জের ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য মমতাজ বেগম তৎকালীন রাজনীতিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক ও মতবিনিময় করেন। তিনি আদমজী জুট মিল শ্রমিকদের সঙ্গে বেশ কয়েকদফা বৈঠক করেন এবং তাদেরকে আন্দোলনের তাৎপর্য বোঝাতে সক্ষম হন এবং নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনের প্রধান প্রাণশক্তি হয়ে উঠেন আদমজী জুট মিল শ্রমিকরা। পাবনায় হোসিয়ারি শিল্পের শ্রমিকরা,চট্রগ্রাম ডক শ্রমিকরা ছাত্রজনতারর সাথে আন্দোলন গড়ে তুলে রাষ্ট্র ভাষা বাংলা করার জন্য। অথচ বিভিন্ন আন্দোলনে শ্রমিকদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলেও তাদের অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলে না। তাই আগামীদিনে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের অগ্রণী  ভুমিকা পালনে শ্রমিকদের জাতীয় অবদান যথাযথ ভাবে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সহ সকল শ্রমিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ