ঢাকা, শুক্রবার 22 February 2019, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আমাদের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি শক্তিশালী ছিল বলেই স্বাধীন দেশ পেয়েছি ---- ড. আবদুল খালেক

রাজশাহী নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি’র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবদুল খালেক বলেছেন, আমাদের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি শক্তিশালী ছিল বলেই আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। তিনি বলেন, বাংলা ভাষার ইতিহাস সুদীর্ঘ। দু’শ বছর যখন এদেশ ইংরেজ শাসন করেছে, তখন এদেশ ছিল ইংরেজি ভাষার বাংলাদেশ। ফরাসিরা যখন শাসন করেছে, তখন ছিল ফরাসি ভাষার বাংলাদেশ। সেনরা যখন শাসন করেছে, তখন ছিল প্রাকৃত ভাষার বাংলাদেশ এবং পালরা যখন শাসন করেছে, তখন ছিল পালি ভাষার বাংলাদেশ। মূলত পালি এবং প্রাকৃত ভাষা থেকেই বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। তিনি বলেন, এখান থেকে আমরা লক্ষ্য করতে পারি, যখন যারাই এদেশ শাসন করুক না কেন তাদের ভাষার সাথে বাংলাদেশটি যুক্ত ছিল। তিনি বলেন, বৃটিশরা যাওয়ার সময় ভারত বর্ষের দু’টি জাতিকে দু’ভাগে বিভক্ত করা ছিল তাদের গভীর ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রের ফলেই হিন্দুস্থান এবং পাকিস্তানের সৃষ্টি। তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৭ সালে যখন ঘোষণা করে পাকিস্তানের ভাষা হবে উর্দু। তখন এদেশের ছাত্র সমাজ সোচ্চার হয়ে উঠে। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করার জন্য ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের অ্যসেম্বলি হলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫২ সালে তারাই বাংলা ভাষাকে মাতৃভাষা করার দাবীতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর এই ভাষা আন্দোলন ও বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করেই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। 

গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে, ৩ দিনব্যাপী আলোচনা সভার শেষ দিনে “বাংলা ভাষার বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রফেসর ড. আবদুল খালেক এসব কথা বলেন। 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী’র (ড. রাশিদ আসকারী) সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। 

সভাপতির বক্তৃতায় ভাইস চ্যান্সেলর ড. রাশিদ আসকারী মহান ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ভাষা শহীদ ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন, বাংলা ভাষা অন্তসলীলা স্রোতস্বিনীর মতো বেগবান একটি ভাষা। তিনি বলেন, বাংলা ভাষার শেষ আশ্রয়স্থল হলো বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেই শুধু এ ভাষাকে রক্ষা এবং লালন করা সম্ভব হবে। 

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, ইউনেস্কো কর্তৃক ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে বাংলা ভাষা বিশ্বের সবচেয়ে মিষ্ট ও মধুর ভাষা এবং দ্বিতীয় মিষ্ট ভাষা হিসেবে স্প্যানিশ এবং ডাচ ভাষাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি বিষয়। আর এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারনেই। 

অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনেক জায়গায় হৃদয় দিয়ে হৃদয়কে অনুভব করার কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তিনি তাঁর হৃদয় দিয়ে, তাঁর হৃদয়ের জীবন দিয়ে বাংলা ভাষাকে, মুক্তিযুদ্ধকে, বাঙালির চেতনাকে ভালবাসতে শিখিয়েছেন। এই অনুভুতি এবং উপলদ্ধি আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা। 

আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরমিন খাতুনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নাসিম বানু, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. রুহুল কে এম সালেহ, বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ সরওয়ার মূর্শেদ রতন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষক ও সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. আবদুল খালেক এর হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ভাইস চ্যান্সেলর ড. রাশিদ আসকারী। 

বিকেলে বাংলা মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে ৩ দিনব্যাপী বই মেলা, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। 

ইবিতে একুশের র‌্যালি 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১১.৪৫ টায় প্রশাসন ভবন চত্বর হতে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী’র (ড. রাশিদ আসকারী) নেতৃত্বে এক শোক র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা এবং রেজিস্ট্রার (ভার:) এস এম আব্দুল লতিফসহ সকল পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। শোক র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে সমবেত হয়। রাত ১২.০১ মিনিটে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী)। এসময় তাঁর সাথে ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা এবং রেজিস্ট্রার (ভার:) এস এম আব্দুল লতিফ। এরপর সকলের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে ১ মিনিট নিরবতা পালন এবং দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। 

এছাড়াও ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে কেন্দ্রীয় মসজিদে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে পবিত্র কুরআন খতম ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯ টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী এবং কালো পতাকা উত্তোলন করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান। এসময় তাঁদের সাথে ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। একই সময়ে হলসমূহে প্রভোস্টগণ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ