ঢাকা, শুক্রবার 22 February 2019, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সকলকে  ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে -সেলিম উদ্দিন

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার জন্য সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বারের মত ভাষা শহীদরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় এমন আত্মত্যাগের ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসে দ্বিতীয়টি নেই। কিন্তু দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হলেও ভাষা শহীদদের স্বপ্ন এখনও পুরুণ হয়নি। রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে বাংলা ভাষার প্রচলন আজও করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এমনকি চিকিৎসা বিজ্ঞান, আইনশাস্ত্র, প্রকৌশল বিদ্যা সহ গবেষণা গ্রন্থগুলো আজও বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়নি। তাই ভাষা শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও বাংলা ভাষাকে সর্বজনীন করতে সরকারকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিশে শুরা সদস্য ডা. ফখরুদ্দীন মানিক ও শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, মূলত ইসলামপন্থীরাই ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিলেন। তমুদ্দন মজলিশের মাধ্যমে এর বিস্তৃতি ঘটে। প্রিন্সিপাল ইব্রহিম খাঁ ভাষা আন্দোলনের অগ্রসৈনিক। অধ্যাপক গোলাম আযম ছিলেন ভাষা আন্দোলনের তুখোর ছাত্রনেতা। তিনি ভাষার দাবিতে মানপত্রও পাঠ করেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সংকীর্ণতার কারণেই অধ্যাপক গোলাম আযম ভাষা সৈনিক হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। কিন্তু ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে অধ্যাপক গোলাম আযমকে গণমানুষের মন থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। তিনি ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযমকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং হীনমন্যতা পরিহার করে তাকে মনোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই আমাদের স্বাধীনতার চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল। ১৯৭১ সালে তা ফুলে-ফলে সুশোভিত হয়ে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু মহান স্বাধীনতার প্রায় ৫ দশক অতিক্রান্ত হলেও আমরা স্বাধীনতার উন্নতম চেতনা গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হইনি। শ্রেণি বিশেষের অপরাজনীতি ও ক্ষমতালিপ্সার কারণেই স্বাধীনতার সুফলগুলো আজও আমাদের কাছে অধরায় রয়ে গেছে। তাই দেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আবারও সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মীর আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ি সেখানে গণভোটের সিদ্ধান্ত থাকলেও সে প্রস্তাব আজও বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি কাশ্মীর সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘ, ওআইসি, আরবলীগ, কমনওয়েলথ ও সার্ক সহ বিশ্ব এবং আঞ্চলিক সংস্থাগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা শেষে ভাষা শহীদদের রূহের মাগফিরাত ও দেশ-জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া এবং মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

কাফরুল উত্তর থানা: কাফরুল উত্তর থানার উদ্যোগে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। থানা সেক্রেটারি ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিশে শুরা সদস্য খান হাবিব মোস্তফা, জামায়াত নেতা ডা. হারুন, কেরামত বিন আহমদ মিয়াজী ও সিরাজুল ইসলাম খান প্রমুখ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ