ঢাকা, শনিবার 23 March 2019, ৯ চৈত্র ১৪২৫, ১৫ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কয়রায় আবারও ভয়াবহ ভাঙ্গনের কবলে কপোতাক্ষ নদের গোবরা বেড়িবাধ

 

খুলনা অফিস : দুভোর্গ যেন পিছু ছাড়ছেনা খুলনার কয়রাবাসীর। শীতের শেষে ও শুষ্ক মওসুমের শুরুতেই কপোতাক্ষ নদীর পাড়ে হরিণখোলা বেড়িবাধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুধু হরিণখোলা নয় অব্যাহত ভাঙনের কারণে কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা, ঘাটাখালী, হরিণখোলা ও গোবরা পূর্বচক গ্রামের বাসিন্দারা রয়েছেন আতঙ্কে। ভাঙন রোধে অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেয়া হলে নদীর তীরবর্তী জনপদের বিস্তির্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছে ১৩-১৪/২-নং পোল্ডারের গোবরা, ঘাটাখালী ও হরিনখোলার বেড়িবাঁধ। শীত মওসুমে নদীর পানি কমে যাওয়ায় ধ্বসে গেছে নদীর পাড়ের মাটি। অধিকাংশ জায়গায় বাঁধের গোড়ায় মাটি না থাকায় সংকীর্ণ ও খাড়া হয়ে গেছে বেড়িবাঁধের রাস্তা। দুর্বল বাঁধ ভেঙে যে কোনো মুহূর্তে নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে এ অঞ্চলের জনপদ। গত বুধবার রাতে হঠাৎ হরিণখোলা বেড়িবাধ নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। তাৎক্ষনিক এলাকবাসি বাধ রক্ষায় কাজ করলেও ভাঙ্গন আতংকে রাত কাটাচ্ছে এলাকবাসী। বাধ রক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে কাজ করার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী জনসাধারণ। 

ঘাটাখালী ও হরিণখোলা গ্রামের হানিফ, খাদিজা বেগম, আত্তাফ শেখ, হাফিজুর রহমান, মুদি দোকানি তৈয়েব আলীসহ অনেকেই বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বেড়িবাঁধের গোড়ার মাটিতে ধ্বস নেয়া বেড়েই চলেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।  

স্থানীয়  ইউপি সদস্য আব্দুল গফ্ফার ঢালী বলেন, এবার শীত মওসুমেই শেষ হতে না হতেই হঠাৎ করে হরিণখোলার বেড়িবাঁধের গোড়ার মাটি ধ্বসে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের আমাদী সেকশন কর্মকর্তা মশিউল আলম বলেন, কয়রা এলাকার ওয়াপদা বেড়িবাঁধের স্পর্শকাতর স্থানগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি উল্লেখ পূর্বক প্রতিবেদন তৈরি করে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ পেলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভেড়িবাঁধ সংস্কার করা হবে। 

কয়রা সদর ইউনয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তফা নাজমুছ ছাদাত বলেন, শুষ্ক মওসুমে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া না নেয়া হলে কয়রা সদরের দরিদ্র মানুষ বসতবাড়ীসহ ফসলী জমি হারিয়ে আরো নিঃস্ব হয়ে পড়বে। ইতোপূর্বে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন শুরু হলেই ভাঙন রোধের নামে সরকারি অর্থ লুটপাটের তোড়জোড় শুরু হয়। যা শুধুই অপচয় মাত্র। স্থানীয়দের দাবি, নদীভাঙন রোধে টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ