ঢাকা, শনিবার 23 February 2019, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

 যোগ দেয়া মার্কিননারীর নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভিন্নমত

২২ ফেব্রুয়ারি, রয়টার্স : ইসলামিক স্টেট জঙ্গীগোষ্ঠীতে যোগদানকারী মার্কিন নারীকে দেশে ফিরতে না দেওয়ার কথা গত বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ঘোষণা করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আইএসে যোগ দেওয়া জঙ্গী নারীকে দেশে ফিরতে দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু দেশটির সংবিধানের ১৪তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তা করা সিদ্ধ কি না তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জঙ্গী নারীর পক্ষে একাধিক ইসলামি সংগঠন যুক্তি উপস্থাপন করেছে। আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

হোদা মুথানা: যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি বাহিনীর হামলায় ইসলামিক স্টেট জঙ্গীগোষ্ঠীর সর্বশেষ অবস্থানও তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। আটক ইরাকি জঙ্গীদের দশ ট্রাকে ভরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ইরাকে। তবে জঙ্গীদের অনেককে কুর্দি যোদ্ধারা কারাগারে আটকে রেখেছে। এদের স্ত্রী ও সন্তানেরা রয়েছে আশ্রয় শিবিরে। এমন একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগম। যুক্তরাজ্য তার নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। কিন্তু তার আইনজীবী দাবি করছেন, যেহেতু শামীমার অন্য কোনও দেশের নাগরিকত্ব নেই সেহেতু তার নাগরিকত্ব বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তটি আইনসিদ্ধ হয়নি।

এবার একই ধরনের দাবি উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিরিয়ায় যাওয়া নারী হোদা মুথানার (২৪) বিষয়ে। চার বছর আগে সে ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছিল। সিরিয়ায় সে জঙ্গীগোষ্ঠীটির এক সদস্যকে বিয়ে করে। সেই জঙ্গী ছিল অস্ট্রেলীয় নাগরিক। সেখানে থাকা অবস্থায় সে টুইটারে ইসলামিক স্টেটের পক্ষে প্রচারণা চালাত, পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোতে হামলা চালাতে উৎসাহ দিত। বর্তমানে তার অবস্থান শামীমার মতোই সিরিয়ার এক আশ্রয় শিবিরে। মুথানা বলেছে, সে ইসলামিক স্টেট জঙ্গীগোষ্ঠীতে যোগ দিয়ে যা করছে তার জন্য সে দুঃখিত। এখন সে অ্যালাবামায় বসবাসরত তার পরিবারের কাছে ফিরতে চায়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নারী জঙ্গী শামীমা বেগমের মতো সেও এখন এক সন্তানের জননী। কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলে দিয়েছেন, তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের কোনও আইনগত সুযোগ নেই। পম্পেওর ভাষ্য, ‘তার কোনও বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট নেই, মার্কিন পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার নেই, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা পাওয়ার অধিকার নেই।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, ‘মুথানাকে দেশে ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়ে তিনি পম্পেওকে নির্দেশ দিয়েছেন।

কিন্তু শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সরকারি সিদ্ধান্ত যে রকম প্রশ্নের মুখে পড়েছে ঠিক সে রকম প্রশ্নের মুখে পড়েছে মুথানার মার্কিন নাগরিকত্ব থাকা না থাকার প্রশ্নটি। তার বাবা যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত একজন ইয়েমেনি কূটনীতিক ছিলেন। মুথানার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হ্যাকেনস্যাকে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যেহেতু তার বাবা ইয়েমেনি ‘কূটনীতিক’ সেহেতু কার্যত মুথানা মার্কিন আইনের আওতায় জন্ম নেননি। তার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিকত্বের অধিকার প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের’ কর্মকর্তা এবং মুথানার পরিবারের মুখপাত্র হাসান শিবলী দাবি করেছেন, ‘তার জন্ম ১৯৯৪ সালের অক্টোবর মাসে। কিন্তু তার আগেই তার বাবা মার্কিন সরকারকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি আর কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন না।’

‘কনস্টিটিউশনাল ল সেন্টার ফর মুসলিমস ইন আমেরিকার’ পরিচালক চার্লস সুইফট মন্তব্য করেছেন, মুথানার বাবার কূটনীতিক পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘটনা যেহেতু তার জন্মের আগেই হয়েছে, সেহেতু জন্মসূত্রে সে মার্কিন নাগরিক। চার্লস সুইফট মার্কিন সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ