ঢাকা, রোববার 24 February 2019, ১২ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নির্বাচনের পর একদলীয় নয় এক ব্যক্তির শাসন কায়েম হয়েছে : ড. কামাল

আজ আমি নিজের কথা খুব কম বলবো, অন্যদের কথা বেশি করে লিখবো। কারণ কিছু কিছু ঘটনা বা বিষয় আছে যেগুলো জানা যায়, যে গুলো সম্পর্কে সঠিক সংবাদ পাওয়া যায়। কিন্তু সেগুলো প্রমাণ করার মতো ডকুমেন্ট বা দলিল পত্র হাতে থাকে না। ফলে ঐসব খবর সত্য জেনেও হয় অনেককে চেপে যেতে হয় অথবা ইনিয়ে বিনিয়ে অন্যভাবে লিখতে হয়। আজ যেসব কথা লিখবো সেগুলো শুধু আমি কেন, আমার ধারণা, শিশুরা ছাড়া দেশের ১৫ কোটি মানুষ (২ কোটি শিশুকে বাদ দিয়ে) জানেন। ৩০ ডিসেম্বরের ইলেকশনের পর পরই এসব কথা দুই একজন সাংবাদিক লিখেছিলেন এবং দুই একটি পত্র পত্রিকায় সেগুলো ছাপাও হয়েছিল। ছাপা হওয়ার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দাবি করে বসলো যে, ইলেকশনের অনিয়ম কারচুপি বা ভোট ডাকাতি সম্পর্কে যা কিছু বলা হচ্ছে সে সম্পর্কে প্রমাণ দিতে হবে। বেশ কয়েকজন বলেছিলেন, ইলেকশন ৩০ ডিসেম্বর হয়নি, হয়েছে আগের রাত ২৯ ডিসেম্বর। এই কথা বলার পর আওয়ামী লীগ এবং সরকার থেকে কেউ কেউ দাবি করে বসলেন যে, এসব কথার প্রমাণ দিতে হবে। এখন সকলের হাতেই কি এসব কথার প্রমাণ থাকে? হয়তো কারো কারো কাছে থাকে। কিন্তু অধিকাংশের হাতেই থাকে না। ফলে প্রমাণ না থাকার কারণে চরম সত্য কথাটিও অনেক সময় চেপে যেতে হয়। নির্বাচনের পর দুই একটি কেন্দ্রে ১০০ ভাগ ভোট পড়েছিল বলে দু’জন সাংবাদিক লিখেছিলেন। এই কথাটি অতিরঞ্জিত, এই অভিযোগে ঐ দুই সাংবাদিককে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হতে হয়।
আমরা যারা প্রায় অর্ধ শতাব্দি হলো সাংবাদিকতা করে আসছি তারা অতীতে কোনো নিউজ ছাপা হলে এবং কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে সেই অভিযোগের স্বপক্ষে কর্তৃপক্ষ প্রমাণ দাবি করেন নি এবং এমন ঘটনা ঘটেনি যে প্রমাণ না দেয়ার কারণে সেই সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত নির্বাচনে যে নির্জলা ভোট ডাকাতি করা হয়েছে এবং সেই ভোট যে নির্ধারিত ৩০ ডিসেম্বর হয়নি, বরং ২৯ ডিসেম্বর রাতে হয়েছে সেটি সকলেই জানেন। বিরোধী দলীয় একাধিক রাজনৈতিক নেতা সেকথা বলেছেন। কিন্তু কোনো সাংবাদিক দায়িত্ব নিয়ে স্বনামে তেমন রিপোর্ট করেন নি। আমি নিজে এবার একাধিক জেলায় এবং কেন্দ্রে ভোটের প্রচার করতে গিয়েছিলাম। আমি অনেকগুলো ঘটনা নিজের চোখে দেখেছি এবং বেশ কিছু ঘটনা অত্যন্ত দায়িত্বশীল মহলের মুখ থেকে শুনেছি। কিন্তু যেভাবে দেখেছি এবং শুনেছি সেভাবে লিখতে পারিনি, অথবা লিখিনি। কারণ যদি লিখতাম এবং যদি আমার কাছ থেকে ঐসব কথার প্রমাণ চাওয়া হতো তাহলে তো আমি প্রমাণ দিতে পারতাম না। দুই একটি উদাহরণ দেই।
২৮ ডিসেম্বর রাতে একজন পুলিশ অফিসার খবর দিলেন যে, পরদিন অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর রাতেই অন্তত ৫০% ব্যালট পেপারে সীল মেরে রাখা হবে। ঐ অফিসারটি এও বললেন যে, তাকেও সেই কাজ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরদিন তিনি সেই কাজ করতে গেলেন। কিন্তু আমি সেটি কখনো রিপোর্ট করিনি। কারণ রিপোর্ট করে প্রথমত ঐ পুলিশ অফিসারকে বিপদে ফেলতে চাইনি। দ্বিতীয়ত আমি তো সেটা প্রমাণ করতে পারবো না। আমার মতো এমন অসহায় দশা হয়েছিল অনেক সাংবাদিকের। কারণ তাদেরকে কিল খেয়ে সেই কিল হজম করতে হয়েছে।
কিন্তু গত ২২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ঐক্যফ্রন্টের গণ শুনানিতে এসব কথা বলেছেন অনেক এমপি প্রার্থী। আজ যতদূর সম্ভব, তাদের কথাই বলবো। তাই আমার কথা কম থাকবে। তবে কথা কিন্তু একই। ২২ ফেব্রুয়ারির গণ শুনানিতে ৪২ জন বিরোধী দলীয় এমপি প্রার্থী বক্তব্য রেখেছেন। আরও অনেকে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সময় কুলায়নি। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই শুনানি চলেছে। মাঝ খানে এক ঘন্টা আহার এবং পবিত্র নামাজের বিরতি। তার পরেও ৪২ জনের বেশি প্রার্থীকে বক্তৃতা করার সুযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে ঐ ৪২ জন যা বলেছেন তাও কম নয়। তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ কেন্দ্রের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।
আমার ব্যক্তিগত মতে এই শুনানি ১০ টা থেকে ৫টা- এই রকম টাইম ফ্রেমে বন্দী করাটা ঠিক হয়নি। দাওয়াত করা হয়েছিল ৩০০ এমপি প্রার্থীকেই। তার মধ্যে ২০০ জনের বেশি এসেছিলেন। তারা তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতেও চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সকলকে সুযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। আমার প্রশ্ন হলো, ঐ শুনানি একদিনে জায়গায় দুই দিন করলে কি হতো? উদ্যোক্তাদের ভাগ্য ভাল যে ঐক্যফ্রন্ট ছাড়া অন্য কোনো বিরোধী দলের কেউ আসেন নি। আর জামায়াতে ইসলামীকে ঐ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়া তো দূরের কথা, অনুষ্ঠানে হাজির হওয়ার জন্য দাওয়াতও করা হয়নি। এরা যদি সকলে যেতেন তাহলে সময় নিয়ে আরও সমস্যা হতো। যাই হোক, ঐ ৪২ জন যে বক্তব্য দিয়েছেন সেই ৪২ জনের সকলের বক্তব্যও পত্র পত্রিকায় আসেনি। এমনকি যারা ঐক্যফ্রন্টের সমর্থক বলে পরিচিত সেসব পত্র পত্রিকাতেও সকলের বক্তব্য আসেনি।  অবশ্য এ জন্য কাউকে দোষারোপ করা যায় না। কারণ পত্রিকাতে এত স্পেস কোথায়? সেজন্য আমি মনে করি যে এই ধরনের অতীব গুরুত্বপূণ গণ শুনানি এক দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্তত দুই দিন রাখা যেতো। যাই হোক, এখন তাদের কথায় আসছি।
॥দুই॥
অন্যদের কথা একটু পরে বলবো। প্রথমে ড. কামাল হোসেনের কথা দিয়েই শুরু করছি। ড. কামাল হোসেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনবিদ। তিনি ৭২ এর সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা। কিন্তু তিনি ভাল বাগ্নী নন। গণ শুনানিতে অত্যন্ত মূল্যবান কথা বলেছেন তিনি। কিন্তু সেই সব কথা খুব ফোর্সফুল হয়নি। সেই একই বক্তব্য যদি আ স ম আব্দুর রব বা মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো অনলবর্ষী বক্তারা দিতেন তাহলে সেটি অনেক বেশি এফেকটিভ হতে পারতো।
ড. কামাল হোসেন বলেছেন যে শক্তি প্রয়োগ করে জনগণকে ভোট দানের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটাকে আমি বলব, স্বাধীনতার ওপর আঘাত হচ্ছে।
আমার ব্যক্তিগত মতে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো, সকলেই বলেন যে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে এক দলীয় শাসন কায়েম হয়েছে। কিন্তু ড. কামাল হোসেন গত শুক্রবার গণ শুনানিতে বলেন যে, একদলীয় শাসন নয়, এক ব্যক্তির শাসন কায়েম হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে দলের কোনো ভূমিকা দেখিনা, এখানে এক ব্যক্তি ও প্রশাসনের কিছু লোক করেছেন। প্রশাসনের কিছু লোকজন-আপনারা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও সংবিধানের প্রদত্ত কর্তব্য অমান্য করে দলীয় এক ব্যক্তির সেবক হিসেবে যেসব কাজ করছেন। আজকে সবাই এখান থেকে জোরালোভাবে বেগম জিয়ার মুক্তি চেয়েছেন। আমি অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি করছি। তিনি বলেন, এটা দুঃখজনক যে ৪৮ বছর পরে এরকম দাবি করতে হচ্ছে।
কুঁড়িগ্রাম-২ আসনে প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আমসা আমিন বলেন, তিনটি উপজেলা নিয়ে ৫ লাখ ভোটারের আসন। ভোট কারচুপির জঘন্যতম কাজটি করেছে ভোটের আগের দিন রাতে। আতঙ্ক সৃষ্টির মত ঘটনা ঘটিয়েছে ভোটের আগেরদিন। কুঁড়িগ্রাম শহরে আমার বাসার সামনে পুলিশের চৌকি বসিয়েছিলো যাতে কেউ বাসায় আসতে না পারে। যারা বাসায় ছিলেন বেরিয়ে যাওয়ার পর তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাউকে বাড়িতে থাকতে দেয়া হয়নি।
হবিগঞ্জ-১ আসনের রেজা কিবরিয়া বলেন, আমার হবিগঞ্জ-বাহুবল নির্বাচনী এলাকায় ভোটের আগেই মিথ্যা মামলায়, গায়েবি মামলায়, বিস্ফোরক মামলায়, ৮ বছরের আগেকার মামলায় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচনের দেড় মাস আগে থেকে নেতা-কর্মীরা বাড়িতে থাকতে পারেনি, হাওরে লুকিয়ে থেকেছেন। দেখা গেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন এক নেতাকে বাড়িতে পায়নি, তার ১৬ বছরের ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। বলেছে, ‘তোর বাপ আসলে তোকে ছাড়বো’। এরকম পরিস্থিতিতে ৩০ ডিসেম্বর কোনো ভোট হয়নি, হয়েছে চুরি, হয়েছে ডাকাতি।
॥তিন॥
ঢাকা-৬ আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী গণফোরামের এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী কোনো রাখ ঢাক না করে ২৯ ও ৩০ তারিখে পুলিশ ও র‌্যাবের নির্বাচনী অপারেশনকে ৭১-এর ২৫ মার্চের কাল রাত্রিতে পাকিস্তান আর্মি যে অভিযান করেছিল তার সাথে তুলনা করেন। তিনি বলেন, আমার এখানে ৯৮টি সেন্টার ছিলো, সব কেন্দ্রে এজেন্ট দিলেও কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি। আমার নেতা-কর্মীকে বেড়াল ছানার মতো পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এটা নির্বাচন হয়নি, ভোট ডাকাতি হয়েছে। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী সৈন্যরা যে নির্মমতা করেছে, ঠিক ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের দিন ২৯ ডিসেম্বরও তেমন নির্মমতা করা হয়েছে। এই সরকারের ভোট ডাকাতির ঘটনা ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত থাকবে।
কার কথা বলবো, আর কার কথা বলবো না। যে ৪২ জন বক্তৃতা করেছেন তাদের সকলের কথা বললে অন্তত ৫টি কিস্তি লাগবে। তবে সিরাজগঞ্জের প্রার্থী রুমানা মাহমুদের কথা বলতেই হয়। তিনি বলেন, তার প্রচার মিছিলে পুলিশ গুলী চালিয়েছে। সেই গুলীতে তার কর্মী মেরী বেগমের দুই চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। রুমানা মাহমুদ মেরী বেগমকে মঞ্চে হাজির করেন। মেরী বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, তার দুই চোখ গেছে, তাতে তার আফসোস নাই। কিন্তু তার ভোট দেয়ার অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হোক। না হলে তার দুই চোখ ফিরিয়ে দেয়া হোক।
আহত মহিলা এজেন্ট সোনিয়া বেগম। তার ওপর যে নির্যাতন হয়েছে সেটি তিনি যখন তুলে ধরেন তখন ড. কামাল হোসেনসহ সকলের চোখে পানি আসে। সকলেই ভাবেন যে কি পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়েছে। সোনিয়া বলেন, আমি ভোট কেন্দ্রে গেলে আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। আমি যখন বলি ঐক্যফ্রন্টের এজেন্ট তখন আমাকে মহিলালীগ, যুবলীগের ছেলেরা শূন্যে উঠিয়ে ফেলে দেয়। এতে আমার গর্ভে থাকা সন্তান মারা যায়।
॥চার॥
আগেই বলেছি যে এই ধরনের বর্ণনা অসংখ্য। সারাদেশেরই চিত্র এটি। এগুলো কম বেশি সকলেরই জানা। কিন্তু কথা হলো, এই দুঃখ এবং নির্যাতনের কাহিনী শুধু বলে আর শুনে কি লাভ? যারা ভুক্তভোগী, অর্থাৎ যারা প্রার্থী এবং সেদিন যারা গণ শুনানিতে বক্তব্য রেখেছেন তারা তাদের দুঃখের কাহিনী বর্ণনা শেষে কতিপয় জ¦লন্ত প্রশ্ন রেখেছেন।
কুমিল্লা-১০ আসনের প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই, আমাদের প্রতি জনসমর্থন ছিল শতভাগ। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতারা কিছুই করতে পারেনি কেন তা জানা দরকার। তার জন্য আরেকটি গণশুনানি বা সমাবেশ দরকার। আমি মহাসচিব মির্জা ফখরুল, ড. কামাল হোসেন, মান্না, আ স ম আবদুর রব, মোস্তফা মোহসীন মন্টুর কাছে জানতে চাই- কেন পারলাম না কিছু করতে? এ বিষয়ে একটি জবাবদিহি দরকার বলে মনে করি। তিনি বলেন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিবরা যদি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সমাবেশ দেন। যারা প্রোগ্রাম দেবেন তারা যদি বলেন প্রোগ্রাম দেন, তাহলে প্রোগ্রাম দেবেন কে? বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া কিছুই সম্ভব হবে না। আর কিছু না করে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করুন। কর্মসূচি দেন।
নোয়াখালী-২ আসনের জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, আমি ড. কামালকে বিশ্বাস করি, আমি আমার দলকে বিশ্বাস করি। কিন্তু আমার মা, আমার নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে কেন কোনো কিছু করতে পারছি না? নির্বাচনে এত বড় ডাকাতি হল, সব জানার পরও কেন আমরা কিছু করলাম না? ৩১ ডিসেম্বর কেন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সমাবেশ করলাম না? তিনি বলেন, ২৭ ডিসেম্বর ব্যারিস্টার মওদুদ ও বরকতউল্লাহ বুলুর ফোনালাপের পর নির্বাচন বয়কট করা উচিত ছিল। আমি ধন্যবাদ জানাই মওদুদকে। সেদিন আমরা নোয়াখালীর ৬ জন নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। জয়নুল আবেদিন বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ করে বলেন, দেখি না দেখি না করে সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। চোর সব কিছু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। আপনার দেখি না দেখি না শেষ হয় না। আর সহ্য হয় না মাননীয় মহাসচিব। আমার মাকে জেলে রেখে আর কিছু সহ্য করতে পারছি না।
পাবনা-১ আসনের গণফোরামের প্রার্থী আবু সাইয়ীদ বলেন, তাঁর ওপর আটবার হামলা হয়েছে, চারটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দাবি করেন, তাঁর এলাকার একটি কেন্দ্রে মোট ভোটের মধ্যে মাত্র ১১ ভোট কম পড়েছে, অথচ সেখানে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৫।
দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত খবরে প্রকাশ, অধিকাংশ প্রার্থী নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কোনো আন্দোলন কর্মসূচি না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, সাত দফা দাবি না মানার পরও নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। তফসিলের পর দেশ জুড়ে মামলা, গ্রেফতার, হামলা অব্যাহত থাকলেও কঠোর কোনো প্রতিবাদ করেননি কেন্দ্রীয় নেতারা। নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চাপে ফেলতে দেয়া হয়নি কোনো কর্মসূচি। এমনকি ভোট ডাকাতির অভিযোগে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করা হলেও আন্দোলনের কোনো কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে না। এক বছর ধরে বিএনপির সভানেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলেও তাঁর মুক্তির দাবিতে কিছু করছে না। আর দেরি না করে দ্রুত মাঠের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার দাবি জানান তাঁরা।
তথাকথিত নির্বাচনের ৫৪ দিন পর এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হলো। গণ শুনানিতে অংশ গ্রহণকারী প্রায় সমস্ত প্রার্থীর সেন্টিমেন্টকে সন্মান দিয়ে বিএনপি সহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এই নির্বাচন বাতিল এবং পুনর্নিবাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে কবে রাজ পথে নামেন সেটি দেখার জন্য জনগণ গভীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছে।
E-mail: asifarsalan15@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ