ঢাকা, সোমবার 25 February 2019, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কাশ্মীরে সেনাদের ছুটি বাতিল খাদ্য মজুদের নির্দেশ নাগরিকদের

টাইমস অব ইন্ডিয়া; এনডিটিভি : পুলওয়ামায় জঙ্গী হামলার পর থেকেই যেন বদলাচ্ছে কাশ্মীরের চেহারা। উত্তেজনা ছাপিয়ে জাঁকিয়ে বসছে আতঙ্ক। গত ২৪ ঘন্টায় দ্রুত গতিতে পরিস্থিতি বদলেছে। তাতে বড় কিছুর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলেই মত অনেকের।

সূত্রের খবর, কাশ্মীরে মোতায়েন সমস্ত ভারতীয় সেনা-জওয়ানদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

রিজার্ভ জওয়ানদের নোটিশ পাঠিয়ে তৈরি থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক সঙ্গে ১০০ কম্পানি বাহিনী এই এলাকায় মোতায়েন করা নজিরবিহীন একটি পদক্ষেপ বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল।

ছাড়াও জম্মু কাশ্মীর প্রশাসন সাধারণ মানুষের সমস্যাকে মাথায় রেখে ওষুধ এবং রেশন মজুদ করার কথা বলেছে। এই বিষয় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পুরো কাশ্মীরে উচ্চ সতর্কতা জারি করা রয়েছে।

জানা গিয়েছে, জওয়ানদের ডিউটিও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। সেই মতো মোতায়েন করা হয়েছে বাহিনী। নিয়ন্ত্রণ রেখায় সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্তের দায়িত্বে থাকছে বিএসএফ জওয়ানরা। জম্মু-কাশ্মীরের ভেতরের অঞ্চলগুলিতে সিআরপিএফ জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে৷ এই পরিস্থিতি অনেকের মনেই যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

এদিকে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে স্বাধীনতাপন্থী ১৩০ নেতাকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক রাতের ভেতর এত বিশাল সংখ্যক কাশ্মীরীকে আটকে কারণ আসন্ন লোকসভা নির্বাচন। মে মাসের ওই নির্বাচনের সময় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতেই সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সর্বপ্রথম গ্রেফতার করা হয়েছে কাশ্মীরী নেতা ইয়াসিন মালিককে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামাতে ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের’ গাড়ি বহরে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বাহিনীটির অন্তত ৪০ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছে। হামলার পর জইশ-ই-মোহাম্মদ নামের জঙ্গী সংগঠন দায় স্বীকার করে। ভারত হামলার জন্য দায়ি পাকিস্তানকে। সেই সঙ্গে সেনাবাহিনীকে দিয়েছে পাল্টা হামলা চালানোর স্বাধীনতা। অন্যদিকে পাকিস্তান মনে করে, গোয়েন্দা নজরদারিতে ভারতীয় সেনা কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাই এই হামলার জন্য দায়ি।

রয়টার্স মনে করে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কাশ্মির হয়ে উঠতে যাচ্ছে প্রধান ইস্যু। যেখানে কর্মসংস্থান ও কৃষক অসন্তোষ বিজেপি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য পরিস্থিতি কিছুটা অসুবিধাজনক করে তুলেছিল, সেখানে এখন পুলওয়ামা হামলার দিকে সরে গেছে সবার মনোযোগ। হামলার ঘটনার পর মোদি দায়িদের বিরুদ্ধে কঠিন জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সেনাবাহিনীকে দিয়েছেন যেকোনও ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি।

শনিবার সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘নির্বাচনবিরোধী প্রচারণা বরদাশত করা হবে না। প্রদেশটিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের আটক করা হয়েছে।’ কাশ্মিরে মোতায়েন করা হচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য। পুলওয়ামা হামলার পর সেখানে নতুন করে পাঠানো হয়েছে আধা-সামরিক প্রায় ১০ হাজার সদস্য।

আটক নেতাদের বেশিরভাগই জামায়াতে ইসলামী (কাশ্মীর) ও হুররিয়াত কনফারেন্সের সঙ্গে জড়িত। জামায়াতে ইসলামীর (কাশ্মির) নেতা আব্দুল হামিদ ফায়েজ ও হুররিয়াত কনফারেন্সের নেতা ইয়াসিন মালিক রয়েছেন আটককৃতদের মধ্যে।

এনডিটিভি লিখেছে, ভারতীয় সংবিধানের ধারা ৩৫এ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি হবে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি। 

সুপ্রিম কোর্টে মামলাটির শুনানির আগেই জেলে ভরা হলো ইয়াসিন মালিককে। ৩৫এ ধারা জম্মু ও কাশ্মিরের বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব ও নাগরিক অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিধান। একটি এনজিও ধারাটিকে অবৈধ ঘোষণার আবেদন করেছে আদালতে।

আটকের ঘটনায় কেন্দ্র সরকারের সমালোচনা করেছেন, বিজেপির সাবেক সহযোগী ও কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি মনে করেন, সংশ্লিষ্টদের আটকের ঘটনা পরিস্থিতিতে আরও বেশি জটিল করে তুলবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ