ঢাকা, সোমবার 25 February 2019, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সৌদী যুবরাজের চীন সফর

সিনহুয়া, আনাদলু, আল জাজিরা : ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বেইজিং সফরকালে ‘সন্ত্রাস ও চরমপন্থা’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চীনের অধিকারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় সন্ত্রাস ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে দুই দেশের সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। উল্লেখ্য, উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নকে ‘সন্ত্রাস ও চরমপন্থা’র বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে বেইজিং।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া’র খবরে বলা হয়েছে, সফরে চীন-সৌদি নিষকণ্টক সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসা করেন এমবিএস নামে পরিচিত সৌদি যুবরাজ। আনাদোলু এজেন্সি’র খবরে বলা হয়েছে, চীন ও উইঘুর মুসলিমদের মধ্যে চীনকেই বেছে নিয়েছেন এমবিএস, উইঘুরদের নয়।

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, উভয় দেশকে চরমপন্থী চিন্তাধারার অনুপ্রবেশ এবং বিস্তার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। সমন্বিতভাবে মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়েরও তাগিদ দেন শি জিনপিং। উত্তরে এমবিএস বলেন, চীনের নিজের নিরাপত্তা রক্ষার অধিকার এবং ‘সন্ত্রাস ও মৌলবাদবিরোধী’ পদক্ষেপের প্রতি সৌদি আরবের সম্মান ও সমর্থন রয়েছে। সৌদি যুবরাজ বলেন, রিয়াদ বেইজিংয়ের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী।

এদিকে উইঘুর মুসলিমদের মানবাধিকার হরণের পক্ষে সৌদি যুবরাজের সাফাইয়ের কঠোর সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্যের মুসলিম কাউন্সিল।  সৌদি যুবরাজের এ সফরের কিছুদিন আগেই চীনের মুসলিম বন্দী  শিবিরগুলোতে ১০ লক্ষাধিক উইঘুর মুসলিমকে আটকে রাখার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এগুলো বন্ধের জন্য বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানায় তুরস্ক। ৯ ফেব্রুয়ারি তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উইঘুরদের বন্দিশিবির হিসেবে ব্যবহৃত চীনের এসব বন্দী শিবির মানবতার জন্য ভয়াবহ মাত্রায় লজ্জাজনক।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানও ইতোপূর্বে উইঘুর মুসলিমদের ওপর ‘গণহত্যা’র জন্য চীনকে অভিযুক্ত করেছিলেন। সম্প্রতি চীনের একটি উইঘুর নির্যাতন কেন্দ্রে আবদুরহিম হায়াত নামের একজন খ্যাতনামা উইঘুর সংগীত শিল্পীর মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে সরব হয় তুর্কি পররাষ্ট্র দফতর। তবে চীন সফরে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলার বদলে উল্টো উইঘুরদের ওপর চীনের রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পক্ষেই সাফাই গান সৌদি যুবরাজ।

উইঘুর কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে আট বছরের সাজা ভোগ করছিলেন আবদুরহিম হায়াত নামের ওই শিল্পী। তার মৃত্যুর পর ৯ ফেব্রুয়ারি তুর্কি বর্তমানে উইঘুরদের বসবাস চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে হলেও এটি মূলত তুর্কি বংশোদ্ভূত জাতিগোষ্ঠী। তাদের সংস্কৃতিতে আরব ও তুরস্কের প্রভাব রয়েছে। এ জনগোষ্ঠীর বর্ণমালাও আরবি।তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হামি আকসয় বলেন, চীনে ১০ লাখেরও বেশি উইঘুর তুর্কি নির্বিচারে গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন। নিপীড়ন কেন্দ্র ও কারাগারগুলোতে তাদের নির্যাতন, রাজনৈতিক মগজধোলাইয়ের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে।

 তিনি বলেন, চীনা কর্তৃপক্ষকে আমরা উইঘুর তুর্কিদের মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানাই। একইসঙ্গে বন্দিশিবিরগুলোও বন্ধের আহ্বান জানচ্ছি। ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পুনঃশিক্ষাকেন্দ্র নামে পরিচালিত এইসব ভয়াবহ উইঘুর বন্দী  শিবিরের কথা অস্বীকার করে আসছিল চীন। অক্টোবরে প্রথমবারের মতো এসবের অস্তিত্ব স্বীকার করে তারা দাবি করতে থাকে, ছোটখাটো অপরাধের জন্য এসব কেন্দ্রে আটক রেখে তাদের বৃত্তিমূলক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সে তুং-এর শাসনামলে দেশটিতে কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধা ও নির্যাতনজনিত হত্যাকা-ের শিকার হয়। ২০১০ সালে সে দেশের কমিউনিস্ট পার্টির গোপন নথির সূত্রে একজন বিশেষজ্ঞ ধারণা করেন, মাও সে তুং-এর শাসনামলে অন্তত চার কোটি মানুষ ক্ষুধা ও নির্যাতনের কারণে প্রাণ হারিয়েছে।

২০১৮ সালের আগস্টে জেনেভায় চীনের ওপর জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির দুই দিনের বিশেষ সভায় উঠে আসে চীনে উইঘুরদের বন্দিশিবিরে আটকে রাখার বিষয়টি। সভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির জাতিগত বৈষম্য বিষয়ক সংস্থা জানায়, চীনে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে আটকে রাখা হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ স্বায়ত্তশাসিত উইঘুর প্রদেশকে কার্যত ‘বিশাল একটি বন্দিশিবিরে’ পরিণত করেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে উইঘুরসহ অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের আটকের খবর সামনে আসছে। 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোও জাতিসংঘের কাছে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দিয়েছে। এসব প্রতিবেদনে উইঘুর মুসলিমদের গণহারে আটকের অভিযোগ তোলা হয় চীনের বিরুদ্ধে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ