ঢাকা, সোমবার 25 February 2019, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গণতন্ত্র আজ সংকটের অন্ধকারে

এডভোকেট আব্দুস সালাম প্রধান : বিশ্বের সকল স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিষ্ঠা এবং বিনির্মাণে জাতির কোনো এক বা একাধিক সাহসীসন্তান এগিয়ে এসেছিল। তারা তাঁদের জাতিকে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জেগে উঠার ডাক দিয়েছিল। যারা জীবনের পরোয়া না করে স্বার্থহীনভাবে নিজের দেশকে এবং দেশের মানুষকে ভালবাসা দিয়ে, নেতৃত্ব দিয়ে আলোর পথ দেখিয়ে, তাঁদের জাতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছে। যেমন বাঙালি জাতির কাণ্ডারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ইরানের আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনী, দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন এদের অন্যতম। কিন্তু কখনও কখনও কোনো কোনো জাতির জীবনের নতুন কোন দুর্দিনে আবারো কোন নতুন কাণ্ডারির প্রয়োজন হয়। কাণ্ডারি শূন্য জাতি আলোর পথ ছেড়ে অন্ধকার বা অনিশ্চিত গন্তব্যে যাত্রা শুরু করতে বাধ্য হয়। সে গন্তব্য কোথায় গিয়ে শেষ হবে তা কেউ জানে না। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আজকের বাংলাদেশের জনগণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে একটি নুতন স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশকে স্বৈরাচারী পাকিস্তানী শাসক গোষ্টির কবল থেকে মুক্ত করার জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পাকিস্তানী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্টির দখলমুক্ত হয়। ফলে আমরা লাভ করি একটি মুক্ত ভূখ- এবং সবুজ জমিনে উদিত হতে থাকা লাল সূর্য্য খচিত একটি নুতন পতাকা। সবুজ জমিনে উদিত হতে থাকা লাল সূর্য্যটা আমাদেরকে অনেক আশা আর স্বপ্ন উপহার দিয়েছিল। আশা ছিল সূর্য্যটা এক সময় আলোকজ্জল হয়ে উঠবে। সে আলো জাতির জীবনের সকল অন্ধকার ঘুচাবে। আর আমরা পাব একটি উন্মুক্ত উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। যেখানে থাকবে না কোন প্রকার জুলুম, নির্যাতন, শোষণ। থাকবে না দারিদ্র্যতার বঞ্চনা। দেশের নাগরিকরা পাবে গণবিচার, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, সভা সমাবেশ করার স্বাধীনতা, কর্ম বেছে নেয়ার স্বাধীনতা, চলাচলের স্বাধীনতা, চিন্তা বিবেকের স্বাধীনতা, সংগঠন করার স্বাধীনতা। ১৯৭২ সালের সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ে মৌলিক অধিকারের সংযোজন জাতির আশাকে আরো বেগবান করেছিল। অধ্যায়টির শুরুতেই বলা হয়েছিল ‘‘মৌলিক অধিকারের সহিত অসামঞ্জস্য সকল আইন বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে’’। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি আমরা এক অশুভ আলামত শুরু হতে দেখলাম। সেদিন থেকে আমাদের দেশেই জন্ম নেয়া এবং আমাদের জাতি স্বত্ত্বার কিছু মানুষ অনেক সময় পর্যন্ত দেশের শাসন ক্ষমতা উপভোগের লোভে এদেশের মানুষকে বার বার তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে চলছে। যার ধারাবাহিকতা চলতে চলতে এখন চুড়ান্ত রূপ লাভ করেছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ আজ প্রজাতন্ত্র পর্যায়ে আছে কি না তা বুঝতে বড় কষ্ট হয়। আজ আমাদের দেশ বড়ই শান্ত। মনে হয় এদেশের মানুষ এক দীর্ঘ সুখ নিদ্রায় বিভোর। আমরা এক রাজনৈতিক অমানিষার ঘোর অন্ধকার রাত্রিতে আমরা ঘুমিয়ে পড়েছি। যে রাতের ভোর কখন হবে কেউ জানে না। সভা নেই, সমাবেশ নেই, মিছিল নেই, প্রতিবাদ নেই, হরতাল নেই। একদিক থেকে এগুলো ভাল খবর। বাংলাদেশের মাননীয় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের একাদশ সংসদের অধিবেশনের শুরুতে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছেন-বাংলাদেশের মানুষ সুখে আছে। কিন্তু এই সুখনিদ্রার জন্যই কি বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল ? না তা হয় নি। বরং কথা ছিল যে, এদেশ বহুদলীয় গণতান্ত্রিক দেশ হবে। থাকবে অসংখ্য রাজনৈতিক দল। তারা প্রতি পাঁচ বছর পর পর তাদের দেশ গড়ার কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ যাদেরকে দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট দেবে, পরবর্তী পাঁচ বছর তারাই দেশ চালাবে। পাঁচ বছর পর পর জনগণ পুনরায় তাদের ম্যান্ডেট প্রদানের ক্ষমতা ফিরে পাবে। কোথায় সেই জনগণের ম্যান্ডেট প্রদানের ক্ষমতা ? জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলের বিপুল বিজয় নিয়ে চতুর্থবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তার এই চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রীত্বের সময়কাল শান্তিময় হোক এ কামনা করি।
 কিন্তু তাকে এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দকে বলব নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞেস করে দেখুন, সত্যিই কি আপনাদেরকে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ পরবর্তী পাঁচ বছর দেশে পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে ? উত্তর পেয়ে যাবেন। আমি বা দেশের অন্য কাউকে উত্তর দিতে হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিগত ২৬ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছেন গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় ছিল প্রত্যাশিত। তিনি বলেছেন, এখন আমাদের প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। ঐক্যের গণতন্ত্র হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতান্ত্রিক মুল্যবোধ, সাম্য, ন্যয় বিচার, উন্নয়ন ও অগ্রগতি। তাঁর প্রতিটি কথা ছিল মনে দাগ কাটার মতো। যেমন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায় বিচার, জাতীয় ঐক্য। অবশ্য তিনি সেগুলোর কোনো নিজস্ব ব্যাখ্যা প্রদান করেন নি। যদি তিনি বিষয়গুলো সত্যিকার অর্থে এদেশে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে যান। তাহলে অবশ্যই জাতির হতাশার অন্ধকার কেটে গিয়ে একটি আলোকজ্জল বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে। তাহলে তিনিই হবেন জাতির নুতন কাণ্ডারি। আর তিনি যে প্রত্যাশিত বিজয়ের কথা বলেছেন তা একদিক থেকে সত্য। দেশ জুড়ে যে লাখ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান আছে তা এগিয়ে নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগরই ক্ষমতায় আসার প্রয়োজন ছিল। তার পন্থা যাই হোক না কেন। আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী একটি কথা স্বীকার করেছেন তা হলো- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নির্বাচনে অনিয়ম হয়। তাই বলে গণতন্ত্র টিকে থেকে না তা নয়। কথায় বলে সত্যের ঢোল বাতাসে নড়ে। সড়ক ও সেতুমন্ত্রী উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আর মন্তব্য আমার কাছে সত্য মনে হয়েছে। তাহলো তিনি বলেছেন বিএনপি নির্বাচনকে ভয় পায় বলেই নির্বাচনে যাচ্ছে না। কথাটি একশত ভাগ সত্য। ৩০ ডিসেম্বর যে নিয়মে নির্বাচন হয়েছে তাতে বিএনপি কেন, এদেশের যে কোন শক্তিধর মানুষ যারা বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে দেশের সেবা করতে চান, তারা সবাই মারাত্মক ধরনের নির্বাচনী আতংকে ভুগছেন। এদেশের রাজনৈতিক ময়দান এখন একেবারেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন। এখন এদেশে যারা রাজনীতি করতে চান তাদেরকে পুলিশের অনুমতি নিয়ে বা দয়ার দানে রাজনীতি করতে হবে। বিরোধী দল হিসাবে যারা পরিচয় বহন করছেন, তাদের নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতিগত কারণে কাগুজে বাঘের রূপ ধারণ করেছেন। তাদের মধ্যে তেমন কোনো জোরালো ঐক্য নেই। তারা শুধু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতায় যাওয়াকেই দেশের মানুষকে হতাশা মুক্ত করার পথ মনে করেন। বিগত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে জাতির কাণ্ডারি হয়ে আসা একজন প্রবীণ এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা এখনও দেশের সকল শ্রেণির মানুষ তথা কামার-কুমোর, কৃষক, শ্রমিক, কুলি, মজুর ধোপা, নাপিত, মালী, মুচি, খেটে খাওয়া মানুষ এবং সকল দল মত যেমন বিএনপি, জামায়াত, অন্যান্য রাজনৈতিক দল সমূহের লোকজনকে আপন মনে করে মেনে নিতে পারেন নি। তিনি এখনও বিশ্বাস করেন অমুক দল বা ব্যক্তিরা থাকলে আমি সেখানে নাই। এ ধরনের একজন মানুষ যিনি মনের কোনে এ ধরনের সংকীর্ণতা লালন করেন তিনি কীভাবে জাতির কাণ্ডারি হবেন? আর প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃবৃন্দ নির্বাচনের পর বলছেন তারা ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন বাতিল করে আর একটি অবাধ উন্মুক্ত নির্বাচন চান। তারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিগত সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ তুলে মামলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন। তাদের পক্ষে ইতোমধ্যে ৭৫ মামলা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে দাখিলও করা হয়েছে। নির্বাচনী মামলার ফলাফল কি হয় তা তারা ভালভাবে অবগত নন। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই একাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে এ কথা আমি একজন আইনজীবী হিসাবে নিদ্বির্ধায় বলতে পারি। এটা তাদের এক ধরনের রাজনৈতিক অদূরদর্শীতা বৈ-আর কি ? বিএনপির মহাসচিব শ্রদ্ধেয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি একটি সাংবাদিক সম্মেলনে দাবী করেছেন এদেশের পঁচানব্বই লাখ লোকের বিরুদ্ধে পচিশ লাখ মিথ্যা রাজনৈতিক মোকদ্দমা ঝুলছে।  আমি বলব পঁচিশ লাখ মিথ্যা মামলায় জর্জরিত এক কোটি বনি আদমের পরিবার পরিজনসহ কমপক্ষে চার কোটি মানুষ মিথ্যা মামলার নির্মম ফল দিনের পর দিন ভোগ করে চলেছে। হাজার হাজার নিরীহ মানুষ অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ হয়ে আছে। সভা সমাবেশ করার অধিকার নাই। নির্বাচন কমিশন এখন বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কেমন হয়, তার প্রমাণতো ৩০ ডিসেম্বর পাওয়াই গেল।
তাহলে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন বাতিল করে নুতন একটি নির্বাচনই কি জাতির মুক্তির একমাত্র সমাধান? শ্রদ্ধাভাজন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ডক্টর কামাল হোসেন, বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম, বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আব্দুর রব, জনাব মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বিএনপি যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলেছে তা জাতিকে একটি আশার আলো দেখাচ্ছে মাত্র।
কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এখনও জাতির মুক্তির জন্য লক্ষ্যে সত্যিকার অর্থে তাদের পরবর্তী কর্মপন্থা বা কি তা নির্ধারণে পারঙ্গমতা দেখাতে পারে নি। বাংলাদেশ আর বাংলাদেশী জাতি আজ তাদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে। দেশ আজ এক ঘোর অমানিষার এক দীর্ঘ কালো রাত্রি অতিক্রম করছে। তারা সঠিক কোনো পথের দিশা খুজে পচ্ছে না। এ মুহুর্তে প্রয়োজন দেশ দরদী, মানব দরদী, স্বার্থহীন, উদার মনের কোনো এক বা একাধিক কাণ্ডারির। যিনি বা যারা দেশের সকল ধর্ম, বর্ণ, সকল শ্রেণিপেশা এবং দল ও মতের অনুসারী গণতন্ত্রমনা মানুষকে একত্র করে কাণ্ডারি হয়ে জাতির নেতৃত্ব দেবেন। দেশের এই ক্রান্তিকালে যারা বা যিনি এদেশের একদল গণতন্ত্রমনা নাগরিককে সাথে নিয়ে পথ চলতে বা আন্দোলন করতে সংকোচবোধ করেন, তারা কখনই দেশের কাণ্ডারি হতে পারবেন না। যারা এদেশে পুনরায় উদার গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা চান, একশত ভাগ স্বচ্ছ নির্বাচন চান, বাক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে চান, সভা সমাবেশ করার অধিকার ফিরিয়ে আনতে চান, কোটি কোটি মামলা পীড়িত মানুষকে মামলার জুলুম অত্যাচার থেকে মুক্ত করতে চান তাদেরকে অবশ্যই দেশ ও জনদরদী কোনো এক বা একাধিক কাণ্ডারি খুঁজে বের করতে হবে। তাদের নেতৃত্বে গণষ্পষ্ট এবং গণনির্দিষ্টই গণ্য নির্ধারণ করে এদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে ঐ গণ্যগুলো অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইষ্পাত কঠিন মনোবল আর গণদৃঢ় ঐক্য সৃষ্টি করে নুতনভাবে যাত্রা শুরু করতে হবে। শুধু রাজধানীকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন আর পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে বা গণ শুনানী করে গণ আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন একটি আকাশ কুগণম স্বপ্ন হিসাবেই পরিগণিত হবে। দেশের প্রতিটি থানা, জেলা এবং মহানগর আর জেলা সদরে গিয়ে গিয়ে অধিকার হারা জনগণকে সচেতন করে তাদেরকে অধিকার আদায়ের জন্য সম্পৃক্ত করা না গেলে জনগণের হারানো মৌলিক অধিকার তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া সুদূর পরাহত হবে। একটি উদাহরণ দিলে মনে হয় কাণ্ডারি হবার স্বপ্ন দেখা মানুষেদের ভুল ভাঙ্গবে। এক অজপাড়া গ্রাম থেকে দু’টি মাত্র গাড়ি প্রতিদিন জেলা সদরে যায়। একটি গাড়ির যাত্রী হয়েছেন একটি মামলার বাদী আর স্বাক্ষীরা। আর একটিতে উঠেছে ঐ মামলার আসামীরা গন্তব্য জেলা সদরের আদালত। হঠাৎ বৈশাখী ঝড়ে একটি বড় বট গাছ উপড়ে পড়ে জেলা সদরে যাবার একমাত্র রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল। গাড়ি দুটি এক সাথে গাছের কাছে যাওয়ার পর থেমে গেল। দুই গাড়ির লোক একত্রিত হয়ে ঠেলা দিয়ে গাছটি সরানো সম্ভব। এক গাড়ির লোকের ঠেলায় গাছটি রাস্তা থেকে সরানো সম্ভব নয়। এখন বুদ্ধিমানদের কাজ কি হবে? প্রথম গাড়ির লোকরা দ্বিতীয় গাড়ির লোকদের সাথে নিয়ে আগে রাস্তায় পড়ে থাকা গাছটি সরিয়ে দিয়ে রাস্তা বাঁধা মুক্ত করা। রাস্তা ফাকা হয়ে গেলে পক্ষ দুটি নিজ নিজ গাড়ি নিয়ে যাত্রা করবে। যেখানে রাষ্ট্রের গণতন্ত্রের সমস্ত পথ রুদ্ধ হয়ে আছে। এখন কি সময় আছে কাউকে সাথে না রাখার? মনে হয় আমরা বাংলা ভাষার রেঁনেসার কবি ফররুখ আহমেদের পাঞ্জেরী কবিতা লেখার যুগে ফিরে গেছি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরী?
এখনও তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা হেলাল এখনও উঠে নি জেগে?
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরী?
দীঘল রাতের ক্লান্ত সফর শেষে
কোন দরিয়ার কলো দীগন্তে আমরা পড়েছি এসে?
একি ঘন ছিয়া জিন্দেগানির বা’ব
তোলে ব্যথিত দিলের তুফান শ্রান্ত খা’ব
অষ্ফুট হয়ে ক্রমে ডুবে যায় জীবনের জয়ভেরী
তুমি মাস্তুলে আমি দাঁর টানি ভুলে।
সম্মুখে শুধু অসীম কুয়াশা হেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরী?
------------------------পাঞ্জেরী
জাগো বন্দরে কৈফিয়তের তীব্র ভ্রুকুটি হেরি।
জাগো অগনন ক্ষুধিত মুখের নীরব ভ্রুকুটি হেরি।
দেখো চেয়ে সূর্য্য ওঠার কতো দেরি, কতো দেরি। পাঞ্জেরী।
বাংলাদেশর মানুষ আজ এক বা একাধিক কাণ্ডারির প্রতিক্ষায়। আর একটি গণতান্ত্রিক ভোরের অপেক্ষায়।
ইমেইল: asprodhan61@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ