ঢাকা, সোমবার 25 February 2019, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবনে গোলপাতা সংগ্রহ শুরু বাওয়ালীদের ব্যস্ততা বাড়ছে

বাওয়ালিয়া গোলপাতা সংগ্রহে নৌকা নিয়ে বের হয়েছে

রফিকুল ইসলাম, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) থেকে : পশ্চিম সুন্দরবনে সাতক্ষীরা রেঞ্জে চলতি বছর গোলপাতা আহরণ মৌসুম শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত আড়াই মাসব্যাপী বাওয়ালীরা সুন্দরবনে নির্দিষ্ট স্থান থেকে গোলপাতা সংগ্রহ করবেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বাওয়ালীদের বোট লাইন্সেস অনুমতি পত্র (বিএলসি) প্রদানসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বুড়িগোয়ালিনী বন স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) ও সংশ্লিষ্ট ক্যুপ অফিসার কেএম কবির উদ্দীন জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১টি ক্যুপ হতে এবছর ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৩০ মণ গোলপাতা সংগ্রহের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রতি কুইন্টাল গোলপাতা আহরণের জন্য বাওয়ালীদের ২৫ টাকা রাজস্ব প্রদান করতে হবে। একটি নৌকায় ৫শত মণ গোলপাতা আহরণ করা যাবে এবং ৬ থেকে ৭ জন বাওয়ালী প্রতি নৌকায় অবস্থান করতে পারবেন। গোলপাতা আহরণের সময় সুন্দরবনে হিংস্র বাঘসহ অন্যান্য জন্তুর আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য বাওয়ালীদের পরামার্শ দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা সহকারি বন সংরক্ষক এসিএফ রফিক আহমেদ জানান, সুন্দরবনে ৪১, ৪২, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৫০ (এ) ও ৫০(বি) এই ৭টি কম্পার্টমেন্টের আওতায় অভয়ারন্য এলাকা ছাড়া বাওয়ালীরা গোলপাতা আহরনের জন্য বলা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩৫টি নৌকার অনুমতিপত্র (বিএলসি) দেওয়া হয়েছে। গোলপাতা আহরণ মৌসুম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে রফিক আহমেদ জানান।
ওয়াচটাওয়ারের কাজ শেষ হয়নি
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ কলবাড়িতে সুন্দরবনের কোলে অবস্থিত আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। ২০১৬ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় সুন্দরবনের চুনা নদীর পাশে ১৯ একর জমি নিয়ে গড়ে উঠে আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। বর্তমানে বাংলাদেশের মধ্যে আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার ভ্রমণকারীদের জন্যে দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। দেশ বিদেশের ভ্রমণ পিপাসুরা সুন্দরবনের প্রকৃতির অপরুপ হিমেল হাওয়া ও দৃশ্য সরাসরি দেখতে ছুটে আসেন আকাশলীনায়। আকাশলীনায় প্রকৃতির সবুজ বনায়নের ভিতরে হারিয়ে যায় ভ্রমণকারীরা। এখান থেকে জেলে বাওয়ালীদের ছোট ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে বনের ভিতরে জীবিকা নির্বাহের জন্যে মাছ ধরতে যাওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ে। এছাড়া ভ্রমণ করার জন্যে ছোট বড় ট্রলার, লঞ্চ, স্টিমারসহ অনেক প্রকার নৌযান চলাচলের করতে দেখা যায়। মাঝে মাঝে বিদেশি ভ্রমণ কারিদের নিয়ে আকাশ দিয়ে উড়ে আসে সী প্লেন।
অবস্থান করে আকাশলীনার সম্মুখে চুনা নদীতে। এরকম দৃশ্য দেখতে কার না মন চায়। তাই এমন দৃশ্য দেখে স্থানীয় ও ভ্রমণকারীরা আনন্দে মুখরিত করে তোলেন আকাশলীনা ভিতরে ও বাইরে। আকাশলীনায় ভিতরে ভ্রমণকারীদের সুবির্ধাথে রয়েছে উন্নত মানের গেস্ট হাউজ। এখান থেকে সুন্দরবনকে খুব কাছে থেকে উপভোগ করা যায়। পায়ে হেঁটেও সুন্দরবন দেখা যায়। তাই দেশ বিদেশের মানুষ সুন্দরবনের অপরূপ দৃশ্য দেখতে আকাশলীনায় ছুটে আসেন। ভ্রমণ পিপাসুর জন্যে সুন্দরবনকে আরো সুন্দরভাবে উপভোগ করতে আকাশলীন ইকো ট্যুরিজম সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের অর্থয়ানে আকাশলীনার ইকো ট্যুরিজোম সেন্টার শুরুতে নির্মাণ করা হয় ওয়াচ টাওয়ার। কিন্তু তিন বছর পার হলেও ওয়াচটাওয়ারের কাজটি এখনো শেষ হয়নি। আস্তে আস্তে লোনা পানির হাওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে টাওয়ারটি। কী কারণে কাজটি বন্ধ আছে প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। ওয়াচ টওয়ারের কাজটি তাড়াতাড়ি শেষ হলে ভ্রমণকারীর সংখ্যা বাড়বে। টাওয়ারের উপর থেকে সুন্দরবনের ভিতর ভালভাবে উপভোগ করতে পারবে, পারবে সুন্দরবনের অপরূপ দৃশ্য। জেলা পরিষাদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান ডালিম ঘরামীর কাছ থেকে জানা যায়, ওয়াচ টাওয়ারের জন্যে পঁচিশ লক্ষ টাকা বাজেট থাকলেও দশ লক্ষ টাকার কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ পরবর্তী বাজেটে শুরু করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দা আনিছুর রহমান ও আশিকুর রহমান বলেন, তিন বছর আগে থেকে ওয়াচটাওয়ারের কাজ শুরু করা হয়েছিল। অর্ধেক কাজ হয়ে বন্ধ রয়েছে। ওয়াচটাওয়ারের কাজটা তাড়াতাড়ি শেষ হলে সুন্দরবনের ভিতরের দৃশ্য সুন্দরভাবে উপভোগ করা যাবে।
এ বিষয় শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, নির্মাণাধীন ওয়াচটাওয়ারটি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের অর্থয়ানে হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্যে জেলা পরিষদকে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি দ্রুত কাজে হাত দেবেন। ওয়াচটাওয়ারের কাজটি দ্রুত শেষ না হলে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাবে। ওয়াচটাওয়ারের কাজটি শেষ করার জন্যে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয় ও ভ্রমণকারীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ