ঢাকা, মঙ্গলবার 26 February 2019, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৫, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রশ্ন করেই এমপিদের চলে যাওয়া ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে

সংসদ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শুরুতেই মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকে। কিন্তু প্রায় সময় দেখা যায় প্রশ্নকারী অনুপস্থিত। তার পরিবর্তে অন্য একজন প্রশ্ন করছেন। বিঘয়টি নিত্য নৈমত্তিক ঘটনায় পরিণত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রবীণ সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।
গতকাল সোমবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচির শুরুতেই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রশ্ন করার কথা ছিল চট্টগ্রাম-৩ আসনের সদস্য মাহফুজুর রহমানের। তার অনুপস্থিতিতে প্রশ্নটি উত্থাপন করেন আরেক সদস্য শহিদুজ্জামান সরকার। এরপর মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নের বেলাতেও আনোয়ারুল আজীম (আনার) অনুপস্থিতি ছিলেন। তার পরিবর্তে আরেকজন প্রশ্নটি উত্থাপন করেন। আরেকটি প্রশ্ন করার কথা ছিলো শফিকুল ইসলাম শিমুলের। অনুপস্থিত থাকায় তার প্রশ্নটি উত্থাপন করেন পীর ফজলুর রহমান।
এ অবস্থায় স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি বলেন, যারা সংসদে প্রশ্ন দিয়ে থাকেন না। তাদের আপনি (স্পিকার) সুযোগ দিতে পারেন, কিন্তু যারা উপস্থিত থাকেন তাদের প্রশ্নটাই সুযোগ দেওয়া বাঞ্চনীয় বলে আমি মনে করি। এজন্য আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
 শেখ ফজলুল করিম সেলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আসলে এটা একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে। প্রশ্ন একটা করেই তারা (এমপিরা) চলে যান, কিন্ত তারা থাকে না। বিষয়টা আপনার (স্পিকার) দৃষ্টিতে আনলাম। এভাবে চলতে থাকলে সংসদের প্রতি সিরিয়াসনেসটাই উঠে যাবে’।
৫৭১ জন সহকারী জজ নিয়োগ : বিচেরাধীন মামলা কমানোর নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক মন্ত্রী বলেন, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সারাদেশের ফৌজদারি মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে বিচার কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি ও সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন কে গতিশীল করা হয়েছে, যাতে শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া যায়। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত অধস্তন আদালতে ৫৭১জন সহকারী জজ নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে সারাদেশে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়াও ১২তম জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি জজ নিয়োগের প্রক্রিয়া, নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ সংক্রান্ত মামলা নিস্পত্তির জন্য ৪১টি ট্রাইব্যুনাল সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেন।
কাজী ফিরোজ রশীদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আইন মন্ত্রী বলেন, নারী শিশু নির্যাতন মামলায় সাক্ষীদের আদালতে নির্ভয়ে হাজির করার ব্যাপারে বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনলাইনে সাক্ষ্য দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মুসলিম পারিবারিক আইন বাংলায় অনুবাদ হচ্ছে : হাজী মো: সেলিমের এক প্রশ্নের জবাবে আইন মন্ত্রী জানান, সকল নাগরিকদের বোঝার সুবিধার্থে ‘মুসলিম ফ্যামেলি ল’ অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৫’ কে বাংলায় অনুবাদ করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। মুসলিম পারিবারিক আইন অধিকতর সংশোধনের কোন পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই।
তিনি বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইন একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ আইন। এটি ব্যক্তিগত আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, পিতৃত্ব, উত্তারাধিকার ইত্যাদি বিষয়সমূহ এ আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। বিয়য়গুলোর সাথে ধর্মীয় অনুশাসনসহ সমাজিক অন্যান্য বিষয়াদি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই আইনের মাধ্যমে পারিবারিক এই বিষয়সমূহ যথাযথভাবে আদালত কর্তৃক নিস্পত্তি করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে উক্ত আইন সংশোধনের কোন প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হলে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী ও বিশেষজজ্ঞদের সাথে আলোচনাক্রমে ধর্মীয় বিধি বিধানের দিকে লক্ষ্য রেখে যাচাই-বাছাই করে বিদ্যমান আনি সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মিঠা পানির বহু প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে : মিঠা পানির বহু প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু। মিঠা পানির এ সমস্ত মাছকে রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। মাহফুজুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সংসদে এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিঠা পানির মাছকে রক্ষা করার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় মৎস্য অধিদফতর কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে দেশীয় প্রজাতির মাছের একক ও মিশ্র চাষের সম্প্রসারণ, কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদন। প্রচলিত স্বল্প মেয়াদী রাজস্ব ভিত্তিক ইজারা প্রথার স্থলে জলাশয়ে পর্যায়ক্রমে বিজ্ঞানসম্মত উৎপাদনভিত্তিক জৈব ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়েছে।
পোনা মাছ অবমুক্ত : আশরাফ আলী খান খসরু আরও বলেন, মুক্ত জলাশয়ে বিগত ৫ বছরে ৫৩৪টি স্থায়ী ও অস্থায়ী অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৫০০ মেট্রিক টন পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে।
বিলুপ্তপ্রায় মাছের সংখ্যা ৬৪ : তিনি বলেন, মিঠা পানির ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে বিলুপ্তপ্রায় মাছের সংখ্যা ৬৪। বিলুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১৮ প্রজাতির মাছ যথা-বাটা, সরপুটি, ভাঙ্গনা, কালিবাউশ, গনিয়া, মহাশোল, পাবদা, গুলশা, শিং মাগুর, ভেদা, গুজি, আইড়, চিতল, ফলি, কুচিয়া, ট্যাংরা ও গুতুম এর প্রজনন ও চাষ বিষয়ক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। তাছাড়া শাল-বাইম, বৈরালী ও গজার মাছের প্রজনন ও চাষ কৌশল উদ্ভাবনের লক্ষ্যে গবেষণা করা হচ্ছে। এসব গবেষণার উদ্দেশ্য হচ্ছে সকল দেশীয় প্রজাতির মাছ পুনরুদ্ধার করে খাবার টেবিলে ফিরিয়ে আনা।
দশ বছরে শীর্ষ চার পদে সাড়ে ৭ হাজার পদোন্নতি : সরকারের টানা দশ বছরে জনপ্রশাসনের শীর্ষ চারটি পদে সাড়ে ৭ হাজার জনকে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিব এবং গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৩ পর্যন্ত উল্লিখিত পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। এ পদগুলোতে কর্মরতরা সরকারের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। ইসরাফিল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য জানান।
ফরহাদ হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ১৮৪ জনকে সচিব পদে, এক হাজার ১৩০ জনকে অতিরিক্ত সচিব, দুই হাজার ছয় জনকে যুগ্মসচিব, দুই হাজার ৩৭৩ জনকে উপসচিব এবং বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির মাধ্যমে সিনিয়র সহকারী সচিব পদে এক হাজার ৯৬৬ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ক্যাডারের গ্রেড-১ পদে ৯৩ জন, গ্রেড-২ পদে ৩৮৯ জন এবং গ্রেড-৩ পদে এক হাজার ৫৪১ জনকে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন পদক নীতিমালা : প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে ‘জনপ্রশাসন পদক নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নীতির অধীনে প্রতি বছর জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা কর্মচারীদের দুই ক্যাটাগরিতে জনপ্রশাসন পদক প্রদান করা হয়। তিনি বলেন, গত তিন বছরে জাতীয় পর্যায়ে ১৫ জনকে এবং জেলা পর্যায়ে ২৯ জনকে জন প্রশাসন পদক দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ পর্যন্ত ১১৪টি আইন বাংলায় প্রমিতকরণ হয়েছে।
ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগ : ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২৮-৩৬তম বিসিএসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে ২৪ হাজার ৩৯১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৩৭-৪০তম বিসিএসে আরও ১০ হাজার ক্যাডারের শূন্য পদ পূরণের প্রক্রিয়া চলমান আছে। এর বাইরে গত দশ বছরে সরকারি বিভিন্ন দফতর ও সংস্থায় নিয়োগের জন্য ৫৮ হাজার ৩১০টি ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে। পিএটিসি’র মাধ্যমে কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫০০জনকে বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণ করিয়ে আনা হয়েছে।
শুদ্ধাচার চর্চা পুরস্কার : প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শুদ্ধাচার চর্চা পুরস্কার প্রদান নীতিমালা-২০১৭’ ভালো কাজের জন্য পুরষ্কার এবং মন্দ কাজের জন্য শাস্তি বা তিরস্কারের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা কেন্দ্রীয়ভাবে অভিযোগ করার সুযোগ আছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেবাগ্রহীতগণ কোন বিষয়ে সংক্ষুব্ধ হলে সরাসরি লিখিত বা অনলাইনে যে কোনো স্থান হতে অভিযোগ করতে পারেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাপ্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা’ অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্মসচিবকে ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা’ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ওয়েব সাইটে এই কর্মকর্তার নাম, মোবাইল ও টেলিফোন নাম্বার দেওয়া আছে। তিনি জানান, এই কর্মকর্তার কাছে আসা অভিযোগগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। ফলে সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফরহাদ হোসেন বলেন, মাঠ প্রশাসনসহ প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়েরের মাধ্যমে লঘুদ- ও গুরুদ-সহ বিভিন্ন ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এমনকি চাকরি থেকে বরখাস্তের শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিতে প্রথম শ্রেণী ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সরাসরি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও সংসদকে জানান প্রতিনমন্ত্রী।
তদন্তের পর ৮১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ২০১৮ সালে বিভিন্ন দফতরের ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৮১ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন কর্মকর্তাকে গুরুদণ্ড, ১২ জনকে লঘুদণ্ড এবং ২২ জন কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪৪ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের কর্মচারীরা একটি দক্ষ, গতিশীল ও গণমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
স্পিকারের প্রটেকশন চাইলেন আইনমন্ত্রী : নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে যেয়ে নিজেই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে হাস্যরসের মধ্য দিয়ে স্পিকারের প্রটেকশন চাইলেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন ‘উনারা এখন আমাকে নির্যাতন করা শুরু করেছে, মাননীয় স্পিকার আপনার প্রটেকশন চাই’। এসময় স্পিকারকে মৃদু হাসতে দেখা যায়।
গতকাল সোমবার অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে গোলাম কিবরিয়া টিপু নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় অনেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কি উদ্যোগ জানতে চান। জবাব দিতে যেয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মধ্যে বিল্টিম সিস্টেম আছে, সেটা হচ্ছে মিথ্যা মামলা করলে আদালতকে জানানো হলে আদালত সেটা শাস্তি দিতে পারে। যখন এই ধারাটা ব্যবহার করা হয় তখন হ্যারেজমেন্ট কম হয়। তাছাড়া তদন্তের সময় যদি দেখা যায় এটা মিথ্যা মামলা তাহলেও এই আইনের মাধ্যমে যারা মিথ্যা মামলা করেন তাদের শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের বিচার করতে পারবে।
এ কথা বলার পরেই সবাই হুল্লোড় করে ওঠেন। মাইক ছাড়া কথা বলতে চান। তখন মন্ত্রী বলেন, ‘রাখেন না ভাই, একটু রাখেন। আগে আমাকে কিছু বলতে দেন। এরপর হাসতে হাসতে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মাননীয় স্পিকার উনারা এখন আমাকেই নির্যাতন করা শুরু করেছেন। আপনি আমার প্রটেকশন দেন’।
নতুন এমপিদের দু’দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু আজ : একাদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে সংসদ সচিবালয়। আজ মঙ্গলবার সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালা শুরু হবে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সকাল ১০টায় এ কর্মশালার উদ্বোধন করবেন। বুধবার এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি শেষ হবে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশিক্ষণ কর্মশালায় নতুন এমপিদের সংসদীয় রীতিনীতি সম্পর্কে ধারণা দেয়া হবে। এছাড়াও কীভাবে জনগণের কল্যাণে কাজ করা যায় সে বিষয়েও তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
৩৩৪ শিল্পী ও কর্মচারীর নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটের সুপারিশ : শিল্পী ও কর্মচারী মিলিয়ে ৩৩৪ জনের নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট প্রকাশে সুপারিশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবেেন অনুষ্টিত কমিটির প্রথম বৈঠক থেকে এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি শাজাহান খান এতে সভাপতিত্ব করেন। কমিটি সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম, এ বি তাজুল ইসলাম, কাজী ফিরোজ রশীদ এবং এ. কে. এম. রহমতুল্লাহ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
সংসদে বাদল ‘আমি প্লেনে ছিলাম না’ : চট্টগ্রামে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের প্লেন ছিনতাইয়ের সময় ওই ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি ও সংসদ সদস্য মইনুদ্দিন খান বাদল। তিনি বলেন, ‘পত্র-পত্রিকায় দেখলাম রোববার ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় আমি প্লেনে ছিলাম বলা হয়েছে। কিন্তু তখন ওই বিমানে আমি ছিলাম না। পত্র-পত্রিকা ভুল তথ্য লিখেছে’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ