ঢাকা, মঙ্গলবার 26 February 2019, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৫, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মামলার জট কমানো চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে সরকার -আইনমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার : ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৫০ টি। যার মধ্যে আপীল বিভাগে ২০ হাজার ৪৪২ টি ও হাইকোর্টে বিভাগে ৫ লাখ ১৬ হাজার ৬৫২টি এবং অধস্তন আদালতসমূহে ৩০ লাখ ৩২ হাজার ৬৫২ টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের এক সম্মুরক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইন বিচারও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে। বর্তমান সরকার মামলা জট কমানোকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মোট ৯৫ টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এছাড়া ৭টি সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ১২২ টি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ১৯ টি পরিবেশ আদালত, ৬টি পরিবেশ আপীল আদালত সৃজন এবং ৩৪৬ টি জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট/ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট/ মেট্রোপলিটন ম্যাজিট্রেট পদ সৃজনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জাতীয় পার্টির এমপি কাজী ফিরোজ রশীদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক জানান, নারী ও শিশু ট্রাইব্যুণালে মামলা নিষ্পত্তি বিলম্বিত হবার কারণ ানেকে ভয়ে মামলা করতে যান না বা মামলার স্বাক্ষীগণ ভয়ে অনেক সময় আদালতে হাজির হন না। এবিষয়ে যাতে স্বাক্ষীরা নির্ভয়ে আদালতে হাজির হতে পারেন সে জন্য নিরপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন রকমের সহায়তা দিচ্ছি। এছাড়া মামলায় স্বাক্ষী দেবার জন্য অনলাইনেও ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে জানান তিনি।
এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের অপর এক প্রশ্নের জবাবে আইন মন্ত্রী জানান, দেশের বৃহত্তর জেলা গুলোতে পর্যায়ক্রমে ৫-১০ বছর এবং ১০ বছরের অধিক পুরানো মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মত বিনিময় সভার আয়োজন, সুপারিশমালা প্রণয়ন এবং প্রতিটি জেলায় কেস ম্যানেজমেন্ট টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিচার কাজে গতিশীলতা আনার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে শূণ্য পদে বিচারক নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করার কথাও জানান মন্ত্রী।
 তিনি জানান, বর্তমানে ১২ তম জুডিশিয়াল সার্ভিস নিয়োগ পরীক্ষার ৫০ টি শুণ্য পদের বিজ্ঞাপনের কথা বলা হলেও  মৌখিত পরীক্ষায় অতিরিক্ত আরো ৫০ জনকে চূড়ান্ত করে মোট ১০০ জনকে নিয়োগের জন্য সহকারী জজ পদে নিয়োগের সুপারিশ করার জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনকে ইতিমধ্যে অনুরোধ জানান হয়েছে।
আনিসুল হক জানান বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউট দারা ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৮৩৮ জন বিচারক, ১৩৫ জন পিপি, ১৯৩ জন কোর্ট স্টার্ফকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৪০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং ২৫৩ জনের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। ভারতের ভুপালেও ৩১৫ জন এবং জাপান ও চীন থেকে ৫০ জন বিচারককে প্রশিক্ষিত করে আনা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, সরকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজগণের জন্য ১২৮ টি গাড়ি কেনার অনুমোদন দিয়েছে।
মোরশেদ আলমের এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের আওতায় ২০০০ সালের ২০ ধারার মধ্যে বলা আছে এ বিষয়ক ট্রাইব্যুণালে মামলা প্রাপ্তির ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ