ঢাকা, মঙ্গলবার 26 February 2019, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৫, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আওয়ামী লীগ নেতা আশিক ও জাপা নেতা উসমানসহ ১৬ জনের ৭ বছরের কারাদণ্ড

সিলেট ব্যুরো : ২০০৪ সালে বহুল আলোচিত পূবালী ব্যাংকের ২২ লাখ টাকা ডাকাতির মামলায় সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ও ২ বারের সাবেক কাউন্সিলর আশিক আহমদ এবং জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ও দক্ষিণ সুরমার তেতলী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান উসমান আলীসহ ১৬ জনকে ৭ বছর করে সাজা দিয়েছেন সিলেটের একটি আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডেরও আদেশ দেয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মফিজুর রহমান ভূইয়া এ রায় প্রদান করেন।
সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামীরা হলেন-সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলা গ্রামের শহীদুল ইসলাম শহীদ, নগরীর ফাজিলচিশতের জাবেদ, সওদাগরটুলার রুবেল আহমদ, বলকলাপাড়ার কামাল হোসেন, নূরানী সুবিদবাজারের বাসিন্দা ও যুবলীগ নেতা কলিন্স সিংহ, কদমতলীর আবদুল মমিন, ইঙ্গুলাল রোড কুয়ারপাড়ের রহিম আলী, দক্ষিণ সুরমার বানেশ্বরপুরের শফিক মিয়া, একই গ্রামের বাসিন্দা ও চেয়ারম্যান উসমান আলীর ভাই আনহার ও আঙ্গুর, আবদুল হক লিটন, শাহান, লিটন ও সিপন আহমদ।
এদের মধ্যে জাবেদ, রহিম আলী, শফিক মিয়া, আবদুল হক লিটন ও লিটন পলাতক রয়েছেন। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার্জশিটভূক্ত অপর আসামী আনোয়ার হোসেনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সিলেটের বিভিন্ন শাখা থেকে টাকা নিয়ে নগরীর লালদিঘীরপাড় প্রধান শাখায় মাইক্রোবাসযোগে আসছিলেন পূবালী ব্যাংকের জুনিয়ার অফিসার (ক্যাশ) জি এম আতাহার হোসেন। এসময় তার সাথে ছিলেন গার্ড মোজাম্মেল আলী, আমানত উল্লাহ ও মাইক্রোবাস চালক মজনু মিয়া। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে হুমায়ূন রশীদ চত্ত্বরে আসার পর ১৫-২০ জন লোক মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে হামলা চালিয়ে গাড়িতে থাকা ৮৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকার মধ্যে ২২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা ১৪ রাউন্ড গুলীভর্তি একটি স্ট্যান্ডগানও ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ব্যাংকের জুনিয়ার অফিসার (ক্যাশ) জি এম আতাহার হোসেন বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার দীর্ঘ শুনানী ও ২৩ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল সোমবার আদালত মামলার ১৬ আসামীকে সাজা এবং একজনকে খালাস প্রদান করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অতিরিক্ত পিপি মফুর আলী। আসামী পক্ষে ছিলেন- শফিকুল ইসলাম শফিক, শামীম আহমদ, শহীদুল ইসলাম, মঈন উদ্দিন, মো. হাসান, আবদুর রহমান আফজাল, মেসবাউজ্জামান জাকারিয়া খান ও অশেষ কর। সাজাপ্রাপ্ত ১৬ জন আসামীর মধ্যে ৫ জন পলাতক থাকায় বাকী ১১ জনকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে সোর্পদ করা হয়েছে। আসামী পক্ষের আইনজীবিরা জানিয়েছেন তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ