ঢাকা, মঙ্গলবার 26 February 2019, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৫, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ডিপিডিসি’র তদন্ত প্রতিবেদন বলছে “আগুনের ঘটনা বৈদ্যুতিক কারণে হয়নি”

চক বাজারের ঘটনায় নিহতের স্বজনরা এখনও ঢাকা মেডিকেল মর্গে ভিড় করছে। ছবিটি গতকাল সোমবার তোলা -সংগ্রাম

* ১৪ লাশ শনাক্তে লাগবে ১৫ দিন, বাকি ৫টির তিন সপ্তাহ : সিআইডি
* ১৯ লাশের বিপরীতে দাবিদার ৩৮ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ
তোফাজ্জল হোসেন কামাল : রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে একের পর এক থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে। ঘটনার পর থেকে দিন যত যাচ্ছে, তত এক এক করে চমকপ্রদ তথ্য বের হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণও বের হয়ে আসছে। চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ড বৈদ্যুতিক কোনও কারণে হয়নি বলে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি)-এর তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এছাড়াও পুরান ঢাকার রাস্তায় বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তার জন্য ইনসুলেটেড তার স্থাপন এবং কোনো কোনো জায়গায় মাটির নিচে তার প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ডিপিডিসির প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অজ্ঞাত ১৯ লাশের মধ্যে ১৪টি তাদের পরিবারকে বুঝিয়ে দিতে ১৫ দিন সময় লাগবে। বাকি পাঁচটি শনাক্ত করতে তিন সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগবে বলে গতকাল সোমবার জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
ডিপিডিসির তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার বিষয়ে বলা হয়, সরেজমিন এলাকা পরিদর্শন করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে-চুড়িহাট্টা মোড়ে অগ্নিদগ্ধ ভবনের সামনে তিনটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও খুঁটিতে অবস্থিত এলটি তার ও ১১ কেভি অ্যারিয়াল ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশের এলাকায় অবস্থিত তিনটি ট্রান্সফারমার অগ্নিদগ্ধ হয়নি এবং ভাল অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা চালু করার উপযোগী অবস্থায় আছে।
ক্ষতির বিষয়ে আরও বলা হয়, আগুনের কারণে ডিপিডিসির তিনটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬ স্প্যান (এক খুঁটি থেকে অন্য খুঁটি পযন্ত তারকে স্প্যান বলে) ওয়াপস তারের এলটি লাইন পুড়ে গেছে। ৩ স্প্যান ১২০ মিটার ১১ কেভি অ্যারিয়াল ক্যাবল পুড়ে গেছে। খুঁটি ও তার মিলিয়ে তাদের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
ডিপিডিসি সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটির সদস্যরা প্রতিবেদনে দুটি সুপারিশ করেছেন।
দ্রুত পুরান ঢাকা হতে ক্ষুদ্রশিল্প, প্লাস্টিক কারখানা ও কেমিক্যালের গুদাম অপসারণ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে পুরান ঢাকার রাস্তা খুবই সরু হওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অধিকতর নিরাপত্তার জন্য ওভারহেড বৈদ্যুতিক লাইনগুলো ইনসুলেটেড তার দিয়ে এবং কিছু কিছু স্থানে ভূ-গর্ভস্থ ক্যাবলের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন।
এই বিষয়ে ডিপিডিসির পরিচালক (অপারেশন) হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমাদের বেশিরভাগ তারই নরমাল অর্থাৎ বাড়তি কোনো আবরণ থাকে না। ইনসুলেটেড তার হচ্ছে এক ধরনের আবরণযুক্ত তার, যেটি আরও বেশি নিরাপদ। তাই পুরান ঢাকার সরু গলির কথা চিন্তা করেই তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে এই সুপারিশ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই তার সাধারণত পাওয়া যায় না। আমরা বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি।’ পুরান ঢাকার বিষয়ে আলাদা একটি প্রকল্প নেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে, ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় আগুন লাগার কারণ হিসেবে স্থানীয়দের অনেকে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের কথা বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান। এরপর ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলীর দফতরের এনওসিএস সেন্ট্রালের প্রধান প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অন্য দুই সদস্য হলেন গ্রিড অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্সের প্রধান প্রকৌশলী ছারোয়ারে কায়নাত মো. নূর এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন।
কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে প্রতিবেদন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের সুপারিশ ও আরও কোনও সুপারিশ থাকলে তা উল্লেখ করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
১৪ লাশের শনাক্তে লাগবে ১৫ দিন, বাকি ৫টির তিন সপ্তাহ
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অজ্ঞাত ১৯ লাশের মধ্যে ১৪টি তাদের পরিবারকে বুঝিয়ে দিতে ১৫ দিন সময় লাগবে। বাকি পাঁচটি শনাক্ত করতে তিন সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগবে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল সোমবার দুপুরে মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সিআইডি অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার।
পুরান ঢাকার চকবাজারে গত ২০ ফেব্রুয়ারি লাগা আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ৬৭ জনের মধ্যে এখনও ১৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করতে কাজ করছে সিআইডি। ১৯টি লাশের বিপরীতে এ পর্যন্ত লাশের দাবিদার হিসেবে ৩৮ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ৬৭টি লাশের মধ্যে ১৯টি মরদেহ এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বাকিদের মরদেহ শনাক্ত করে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই লাশের একাধিক দাবিদার হিসেবে ১৯টি লাশের বিপরীতে ৩৮ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে ১৪টি লাশের মাসল স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে, যেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় লাগবে। বাকি পাঁচটি মরদেহ বেশি দগ্ধ হওয়ায় সেগুলোর হাড়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহের পর্যায়ে আসতেই অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর ডিএনএ ম্যাচিংয়ের বিষয়টি আসবে।’
দুর্ঘটনাস্থলের বিষয়ে সিআইডি কোনো পরীক্ষা করবে কিনা, জানতে চাইলে শেখ মো. রেজাউল হায়দার বলেন, ‘আমাদের মহাখালীতে কেমিক্যাল ল্যাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত দফতর ফায়ার সার্ভিস যদি আমাদের সহায়তা চায় তাহলে সেসব স্যাম্পল পরীক্ষায়ও সহায়তা করা হবে।’
পরবর্তীতে কোনও পরিবার লাশের দাবি জানানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘৬৭টি লাশের স্যাম্পলই (নমুনা) আমাদের কাছে রয়েছে এবং এটা যুগ যুগ ধরে সংরক্ষিত থাকবে। কোনও পরিবার যদি পরবর্তীতে দাবি জানায় তাহলে তখন পরীক্ষা করা হবে। তবে এই চ্যালেঞ্জের বিষয়টি অবশ্যই আদালতের মধ্য দিয়ে আসতে হবে।’
এর আগে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রুমানা আক্তার জানান, চকবাজার অগ্নিকান্ডে নিহতদের পরিচয় শনাক্তে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে ৬৭টি লাশ থেকে ২৫৬টি (রক্ত, টিস্যু, হাড় ও বাক্কাল সোয়াব) ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি বিচ্ছিন্ন পৃথক হাতকে পৃথক আলামত হিসেবে গণ্য করে সেটি থেকেও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর ফলে মোট সংগৃহীত নমুনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৭টিতে। তিনি জানান, ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত অস্থায়ী বুথের মাধ্যমে লাশের দাবিদারদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়। সর্বশেষ রোববার পর্যন্ত ৩৮ জনের কাছ থেকে ৩৮টি রেফারেন্স নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অশনাক্ত মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হতে সিআইডির ফরেনসিক টিম ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে। সিআইডির ডিএনএ ল্যাব টিম সর্বোচ্চ দ্রুততার সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষা করে অশনাক্তদের পরিচয় শনাক্তের কাজ শেষ করবে।
চুড়িহাট্টায় পোড়া গাড়ির গায়ে ছোট্ট জারার শোকের পতাকা
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে বাবার হাত ধরে ঢাকার চকবাজারে এসেছিল ছোট্ট জারা হায়াত খান; রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে চুড়িহাট্টার রাস্তায় পড়ে থাকা পোড়া একটি গাড়ির গায়ে সে পুঁতে দিয়ে গেছে কালো পতাকা। চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশে গতকাল সোমবার রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ভবনে এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পাতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
ঢাকায় পাইকারী পণ্যের বাজার চকবাজারে নিয়মিত যাতায়াত ছিল জারার বাবা কেএম শাহ নেওয়াজের। চকবাজার থেকে প্রসাধনীসামগ্রী কিনে চিটাগং রোডের দোকানে বিক্রি করতেন তিনি। স্ত্রী আর মেয়েকে নিয়ে গতকাল সোমবার সকালে তিনি চুড়িহাট্টায় আসেন শোক জানাতে। “যেদিন ঘটনাটা ঘটল, সেদিনও আমি চকবাজারে এসেছিলাম ব্যবসার কাজে। আমরা খুব কষ্ট পাচ্ছি। রাষ্ট্রীয় শোকের দিন তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসেছি।”
জারার মা জাহানারা বলেন, সাত বছর বয়সী জারা সিদ্ধিরগঞ্জের একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। “ও হয়ত এখনও শোক ব্যাপারটা সেভাবে বোঝে না। কিন্তু বড় হয়ে নিশ্চয় বুঝতে পারবে। সেজন্যই জারাকে এখানে নিয়ে এসেছি।”
রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়সহ সব সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত দেখা যায়। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বুকে কালো ব্যাজও দেখা গেছে।
নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবার এবার প্রতারণার শিকার
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ফাতেমাতুজ জোহরা বৃষ্টি ও তার বান্ধবী রেহনুমা দোলা। পরিবারের সদস্যরা যখন তাদের সন্ধান করছিলেন তখন একটি ফোন আসে বৃষ্টির বাবা জসিম উদ্দিনের কাছে। বলা হয়, এক লাখ টাকা দিলে মেয়েকে ফেরত দেওয়া হবে। ডিজিটাল আর্থিক সেবা (ডিএফএস) ‘নগদ’-এর মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পাঠানোর পর থেকে ওই মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।
এ ঘটনায় লালবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বৃষ্টির বাবা জসিম উদ্দিন। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা জানান, থার্ড পার্টির মাধ্যমে এই ফোন কলটি বৃষ্টির বাবার কাছে করা হয়েছিল। এটা ডিজিটাল প্রতারণা। প্রতারককে শনাক্ত করার কাজ চলছে।
নিখোঁজদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি শিল্পকলা একাডেমিতে কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন বৃষ্টি ও দোলা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৃষ্টির সর্বশেষ কথা হয় রাত ১০টা ০৪ মিনিটে। চকবাজারে আগুন লাগে ১০টা ৩৮ মিনিটে। এরপর থেকে বৃষ্টি ও দোলা নিখোঁজ। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। ফোন বন্ধ পেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় নিখোঁজ দুজনের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলের পাশেই ছিল তাদের অবস্থান। এ তথ্য জানার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ (ঢামেক) রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি বৃষ্টির বাবা জসিম উদ্দিনের মোবাইলে বৃষ্টির নম্বর থেকে একটি কল করা হয়। বলা হয়, মেয়েকে ফেরত চাইলে এক লাখ টাকা পাঠান। জসিম উদ্দিন মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে প্রতারকচক্র আগে ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। প্রতারকচক্র ০১৬৩৯২৩৮১৯৩ নম্বরে ‘নগদ’ ওয়ালেট -এ টাকা পাঠাতে বললে তিনি ৫০ হাজার টাকা পাঠান। এরপর থেকে ওই ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ প্রতারণার ঘটনায় লালবাগ থানায় একটি অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির বাবা জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি মেয়েকে ফেরত পেতে চেয়েছিলাম। পুলিশ বলছে এটা প্রতারণা।’ অভিযোগটি তদন্ত করছেন লালবাগ থানার এস আই মো. মামুন হোসেন। তিনি বলেন, ‘থার্ড পার্টি সফটওয়্যার ব্যবহার করে কলটি করা হয়েছিল। কারও নম্বর থেকে এই কলটি আসেনি। আমরা সিডিআর (কল ডিটেইলস রেকর্ড) চেক করে এমন কোনও তথ্য পাইনি। রাত ১০টা ৩১ মিনিটে বৃষ্টির ফোন বন্ধ হওয়ার পর তার নম্বর থেকে আর কোনও কল আসেনি বা যায়নি। এই প্রতারণার ঘটনায় সাইবার ক্রাইমে মামলা হবে।’
প্রতারককে শনাক্ত করা গেছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এই প্রতারণা সহজে চিহ্নিত করা যায় না। এগুলো বের করতে যথেষ্ট সময় লাগে। তবে তাদের ট্রেস করা যায়। কিন্তু সময় লাগবে। আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি।’
শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকা থেকে কোনও অপহরণের ঘটনা ঘটা প্রায় অসম্ভব বলে জানিয়েছেন ডিএমপি লালবাগ জোনের উপ-কমিশনার ইব্রাহিম খান। তিনি বলেন, ‘আশপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।’
এদিকে আগুনে পুড়ে নিহত অজ্ঞাতদের মরদেহ রাখা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। এই মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ (ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) সংগ্রহ করেছে সিআইডি (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ)। আগুনে পুড়ে মারা গেছে এই সন্দেহ থেকে নিখোঁজ বৃষ্টি ও দোলার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য সিআইডির কাছে ডিএনএ নমুনাও দিয়েছেন দুই পরিবারের সদস্যরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ