ঢাকা, মঙ্গলবার 26 February 2019, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৫, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

তল্লাশি ভেদ করে অস্ত্র নিয়ে বিমানে যাওয়া অসম্ভব -প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : বিমানবন্দরের তল্লাশি ব্যবস্থা ভেদ করে অস্ত্র নিয়ে বিমানে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের যে উড়োজাহাজটি কথিত ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছিল সেটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি নয়, স্বাভাবিক অবতরণ করেছিল।
গতকাল সোমবার ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি গণমাধ্যমের কাছে এ মন্তব্য করেন। এ সময় বিমান সচিব মুহিবুল হকসহ বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাহবুব আলী বলেন, বিমানবন্দরের তল্লাশি ব্যবস্থায় অস্ত্র নিয়ে গেলে তা দৃশ্যমান হয়। সবকিছু খতিয়ে দেখা হয়েছে। অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার মতো কিছু পাওয়া যায়নি। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বিমানবন্দরের তল্লাশি ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে, তা সাংবাদিকদের দেখান।
গতকাল বন্দীদশায় পড়া বিমানের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ করছে বলে জানান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান।
এদিকে ঢাকা থেকে দুবাইগামী বিমানে থাকা নিহত ‘অস্ত্রধারী ছিনতাইকারী’ যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। নিজেদের সংরক্ষিত ক্রিমিনাল ডাটাবেজ অনুযায়ী র‌্যাব দাবি জানায়, নিহতের নাম পলাশ আহমেদ। সে র‌্যাবের তালিকাভুক্ত অপরাধী। গতকাল এক বার্তায় তার এই পরিচয় জানিয়েছে র‌্যাব।
গত রোববার বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৭ ফ্লাইটটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পরই বিমানটি জিম্মি করে ছিনতাইকারী ওই যুবক।
তবে বিমানের জরুরি অবতরণ ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ৮মিনিটের কমান্ডো অভিযানে ছিনতাইচেষ্টার অবসান ঘটে। এতে বিমানে থাকা অস্ত্রধারী যুবক নিহত হয়।
ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের যে উড়োজাহাজটি কথিত ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছিল সেটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি নয়, স্বাভাবিক অবতরণ করেছিল বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।
রোববার সন্ধ্যায় বিমানের চট্টগ্রাম থেকে দুবাইগামী বিজি-১৪৭ ফ্লাইটটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে পাইলট তা শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেন বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আর রানওয়েতে অবস্থান করা প্লেনটি ঘিরে রাখে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনা কমান্ডোর সদস্যরা। পরে কমান্ডো অভিযানে নিহত হন কথিত ছিনতাই চেষ্টাকারী। ঘটনাটি তদন্তে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোকাব্বির হোসেনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঘটনার দিন শাহ আমানতে জরুরি অবতরণের কথা বলা হলেও একদিন পর প্রতিমন্ত্রী বলছেন, আসলে জরুরি অবতরণ ছিল না, এটি ছিল স্বাভাবিক অবতরণ। কারণ ঢাকা থেকে অনেক যাত্রী ডোমেস্টিক ফ্লাইটে চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে বিমানটি দুবাইয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
মাহবুব আলী বলেন, উড়োজাহাজ ময়ুরপঙ্খী ছিনতাই চেষ্টার ঘটনা কীভাবে সংঘটিত হয়েছে, তা তদন্তের পরেই বলা যাবে। এমনকি যে পিস্তলের মুখে যাত্রী ও ক্রুদের জিম্মি করার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেটাও আসল পিস্তল নাকি থেলনা তাও জানা যাবে তদন্তের পরেই।
এত নিরাপত্তা ধাপ পেরিয়ে কীভাবে ছিনতাইকারী বিমানে উঠেছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানবন্দরের সব নিরাপত্তা ধাপ পার করেই সে বিমানে উঠে। অন্যদের মতো তাকেও স্ক্যান করা হয়েছে। তার ব্যাগেরও স্ক্যান হয়েছে। কিন্তু সেখানে কোনো লাল বাতি জ্বলেনি। ফলে বোঝা যায়নি তার কাছে কী আছে।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিমান সচিব মুহিবুল বলেন, ভিতরের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব সিভিল এভিয়েশনের। উড্ডয়নের পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে পাইলট এয়ারপোর্ট ম্যানেজারকে জানিয়েছেন। এয়ারপোর্ট ম্যানেজারের কাছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি। এরপর আমরা সবাই মিলে বিমানবন্দর ও বিমানকে ঘিরে রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পলাশ ঠা-া মাথার ছিনতাইকারী। বিমানে গুলি বিনিময় হয়েছে সেনাবাহিনীর জিওসির এমন বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, এটা আমাদের জানা নেই।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে জর্জরিত প্রতিমন্ত্রী এ ঘটনা নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহবান জানান। তিনি বলেন, এ দেশ, এ বিমানবন্দর আপনাদেরই। অতএব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নেতিবাচক সংবাদ পৌঁছে ক্ষতি হয়, এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করবেন না।
তিনি বলেন, ওই যুবক অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রী ছিল। তার সিট নম্বর ১৭/এ। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ বলে জানতে পেরেছি।
এ ঘটনা দেশের এভিয়েশনখাতে কোনো সংকট সৃষ্টি করবে কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করুন।
এদিকে ওই যুবককে না মেরে তথ্যের জন্য কেনো জীবিত রাখা হলো না, জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দেননি কর্মকর্তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ