ঢাকা, মঙ্গলবার 26 February 2019, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৫, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাংলা ভাষা এতই সমৃদ্ধ যে পৃথিবীর কোথাও এমন মধুর ভাষার সাক্ষাৎ মেলে না -কবি মোশাররফ হোসেন খান

সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি কবি মোশাররফ হোসেন খান বলেছেন, বাংলা ভাষা একটি সমৃদ্ধ ভাষা। এটা এতই সমৃদ্ধ যে পৃথিবীর কোথাও এমন মধুর ভাষার সাক্ষাৎ মেলে না। এদিক দিয়ে আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান জাতি। কিন্তু এই মধুর ভাষা ও মাতৃভাষা বাংলাকে ছিনিয়ে আনতে আমাদের দেশে ১৯৫২ সালে রক্তের বন্যা ঝরেছে। মূলত রক্তের সিঁড়ি বেয়েই আমাদের বাংলা ভাষাকে অর্জন করতে হয়েছে। পৃথিবীতে এটা একটা বিরল দৃষ্টান্ত।
গতকাল সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্র আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কেন্দ্রের সেক্রেটারী বিশিষ্ঠ সাংস্কৃতিক সংগঠক যাকিউল হক জাকীর পরিচালনায় আলোচনা রাখেন কেন্দ্রের সহকারী সেক্রেটারীদ্বয় শাহাদাত টুটুল ও নাট্যকার মাহবুব মুকুল, সুরকার গীতিকার আবু তাহের বেলাল, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব লিটন হাফিজ চৌধুরী। আরো উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আবুল খায়ের, সমাজ সেবক শিল্পী আবু শাকের ইউনুস, শিল্পী আবু সিবগাত, কবি যাকারিয়া সৌরভ, কবি হাসান রুহুল, ইয়াছিন মাহমুদ, তোফাজ্জল হোসেন সরকার, আন্তর্জাতিক ক্বারী বেলাল হোসেন, নাট্যকার কায়েস মোবারক, আ হাই সেলিম, রাকিব হাসান, শিল্পী ফেরদাউস হাসান, জহির বিন বাশার, তোফাজ্জল হোসেন, তাজুল ইসলাম প্রমুখ।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি মোশাররফ হোসেন খান আরো বলেন, ১৯৫২ সালে  বাংলা ভাষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে আছে আমাদের স্বাধীকার আন্দোলনের ধারাবাহিকতা। সেই উজ্জ্বলতম ধারাবাহি কতার মাধ্যমেই আমরা ১৯৭১ সালে বহু ত্যাগের বিনিময়ে এই দেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে পেয়েছি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল এদেশের জন্য, এদেশের সাহিত্য ও এ দেশের ইতিহাসএর জন্য একটি মহান ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। কিন্তু পাশাপাশি দুর্ভাগ্যের সাথে এটাও বলতে হয়ে যে, যে চেতনা নিয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং বাংলা ভাষা অর্জন-- তার ইতিহাস আজ এতটা বছর পরও অনেক ম্লান হয়ে গেছে। অপসংস্কৃতি এবং অপ সাহিত্যের দাপটে আমাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি বলতে গেলে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পডেছে। এটা অত্যন্ত আফসোসের বিষয! রাষ্ট্রীয়ভাবেও  বাংলা ভাষার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার তেমন কোনো প্রচেষ্টা আমরা তেমনভাবে লক্ষ্য করি না।
তিনি বলেন, এখন আমাদের উচিত সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের এই সমৃদ্ধ বাংলা ভাষাকে আরো বেশি উন্নত ও সমৃদ্ধ করা। প্রয়োজন সেই সাথে আমাদের লেখক কবি সাহিত্যিক সংস্কৃতি সেবিদের যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং পৃষ্ঠপোষকতা করা। যারা সৃষ্টিশীল কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করা প্রয়োজন। যে কোন প্রকারেই হোক বাংলা ভাষার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে হবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ