ঢাকা, বুধবার 27 February 2019, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৫, ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ফিলিস্তিনী বন্দীদের ওপর নতুন ওষুধের পরীক্ষা চালাচ্ছে ইসরাইল?

২৬ ফেব্রুয়ারি, মিডল ইস্ট মনিটর : কারাবন্দী ফিলিস্তিনী ও আরবদের ওপর নতুন নতুন ওষুধের পরীক্ষা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি। আর এসব বন্দীদের ওপর নতুন এই ওষুধের পরীক্ষা চালানোর অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই তথ্য উঠেছে খোদ ইসরায়েলি এক অধ্যাপকের গবেষণায়। ওই অধ্যাপকের বিবৃতি দিয়ে এই খবর জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট। 

ইসরাইলের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাদেরা শালহাব-কেভোরকিয়ান তার গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন। নিউইয়র্কে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি আরো জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সামরিক সংস্থাগুলোও ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর অস্ত্র পরীক্ষা করছে। আর অধিকৃত জেরুজালেমে এই পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনার সময় তিনি এসব তথ্য পেয়েছেন উল্লেখ করে এই গবেষক বলেন, ফিলিস্তিনি বন্দীদের জায়গা হচ্ছে গবেষণাগারে। সেখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে এমন নতুন নতুন ওষুধের পরীক্ষা এবং ইসরাইলের সেনাবাহিনী বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিকের পরীক্ষা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা তাদের নতুন উদ্ভাবিত পণ্য এবং অস্ত্র দীর্ঘমেয়াদে যাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়নের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সেই পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

 ‘ডিস্টার্বিং স্পেস- ভায়োলেন্ট টেকনোলজিস ইন প্যালেস্টিনিয়ান জেরুজালেম’ শিরোনামের বক্তব্যে ওই অধ্যাপক বলেন, তারা কোন ধরনের বোমা ব্যবহার করবে, গ্যাস বোমা না অন্য কোন প্রযুক্তি। বোমা প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হবে নাকি কাপড়ের বস্তায় রাখা হবে অথবা ফিলিস্তিনিদের তারা রাইফেল দিয়ে আঘাত করবে না পায়ের বুট দিয়ে আঘাত করবে এসবের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে কারাবন্দী ফিলিস্তিনিদের ওপর।

ওই গবেষকের এই দাবি এমন একটা সময় আসলো যখন গেল সপ্তাহে কারাগারে বন্দী অবস্থায় মারা যাওয়া ফরেস বারউডের মরদেহ ফেরত দেয়নি ইসরায়েল। সে বেশ কয়েকটি রোগের কারণে ইসরায়েলের কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃতদেহ হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি ইসরাইল। তার পরিবারের ধারণা, নতুন কোনো ওষুধের পরীক্ষার মাধ্যমে তার মৃত্যু হয়েছে এবং মরদেহ ফরেনসিক পরীক্ষায় সেটা প্রমাণিত হওয়ার ভয়ে ইসরাইল মরদেহ দিচ্ছে না।

এর আগে ১৯৯৭ সালে ইসরাইলের একটি পত্রিকা সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ডালিয়া ইত্তিকের একটি মন্তব্যকে উল্লেখ করে স্বীকার করে যে, ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বন্দীদের ওপর নতুন ওষুধ পরীক্ষা করার জন্য ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোকে অনুমতি দিয়েছে। ইতিমধ্যে ৫ হাজার এমন পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়।  বেলজিয়ামের একোড ট্রেড ইউনিয়নের সংস্কৃতি সচিব রবার্ট ভ্যানডারবেকেন ২০১৮ সালে সতর্ক করেছিলেন যে, গাজা উপত্যাকায় ক্ষুধা ও বিষাক্ত রাসায়নিকে ফিলিস্তিনিরা মারা যাচ্ছে। বিভিন্ন অঙ্গের জন্য শিশুদের অপহরণ এবং হত্যা কার হচ্ছে।

তার এই সতর্কবার্তার আগে প্রায় একই বার্তা দিয়েছিলেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর। তিনি সে সময় বলেছিলেন, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে মারা যাওয়া অনেক ফিলিস্তিনিদের দেহে বিভিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গ পাওয়া যায় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ