ঢাকা, শনিবার 23 March 2019, ৯ চৈত্র ১৪২৫, ১৫ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বইমেলায় তরুণদের জন্য নির্বাচিত ১০টি  আত্ম-উন্নয়নমূলক বই

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: 

book fair.jpg

বাংলা একাডেমির মহান একুশে বইমেলা বাঙালির নগর সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ। বাংলা একাডেমির চত্বর ছাপিয়ে সরওয়ার্দি উদ্যানের বিশাল ক্যানভাসে বইমেলার নান্দনিকউৎসবের আয়োজনের পাশাপাশি প্রকৃতিতেও বসন্তের দোলা শুরু হয়। সবকিছু মিলে একুশে বইমেলা পরিণত হয় বাঙালির প্রাণের মেলায়। আর এই প্রাণের মেলার প্রধান অংশীজনেরাইহলো তরুণ। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই হয় কবি অথবা কবিতার প্রতি কাতর। আমাদের এই ভাটির দেশের মানুষ জীবনে অন্তত একবার কবি হয়ে ওঠে এবং তা অবশ্যই এই তারুণ্যেরউৎসবমুখর সময়কালে। এ সময় সৌখিন কবিরা গাঁটের পয়সা খরচ করে হলেও একটি কবিতার বই বের করার চেষ্টা করেন এবং তা অবশ্যই বইমেলায়।

তাই বলা যায়, একুশেরবইমেলাকে কেন্দ্র করে সকল সৌখিন এবং জাত কবিদের কাব্য বোনার স্বপ্ন পাখা মেলে। অনেকের স্বপ্ন থাকে প্রিয়জনদের সাথে নিয়ে সদ্য প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করার,প্রিয়জনের হাতে নিজের সদ্য প্রকাশিত বইখানা তুলে দেয়ার, আবার অনেকের স্বপ্ন থাকে প্রিয়জনের হাতে নিজের পছন্দের একটি বই তুলে দেয়ার। আসলে উপহার হিসেবে বইয়ের কোনতুলনাই হয় না। 

যাইহোক, বলছিলাম স্বপ্নের কথা, প্রাণের কথা। তরুণরা, কবিরা যেমন নিজেরা স্বপ্ন দেখেন, তেমনি অন্যকেউ স্বপ্ন দেখাতে ভালোবাসেন। কবি আল মাহমুদ বলতেন, কবিদের কাজই হলো জাতিকে স্বপ্ন দেখানো। এই স্বপ্ন হলো বড় হওয়ার স্বপ্ন বা বড় কিছু করার স্বপ্ন। আর এই বড় কিছু করার স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করা তরুণদের পক্ষেই সম্ভব। যে কোন জাতির উত্থান-পতনে তরুণরাই বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। কবি শামসুর রাহমান বলতেন, ‘তরুণরাই নতুন দিনের বার্তাবাহক।’

কিন্তু জাতির উন্নতিকে নিশ্চিত করতে হলে জাতির ভবিষ্যত তথা তরুণদের জীবনকে যথাযথভাবে গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেয়া জরুরী। কেননা, মানুষের জীবনকে গড়ে তোলার পক্ষে সবচেয়ে উপযুক্ত ও মূল্যবান সময় হলো ছাত্রজীবন তথা তরুণ জীবন। অথচ এই সময়টাকেই সবচেয়ে বেশি অবহেলা করা হয়, নষ্ট করা হয়। তাই তরুণরা যাতে সময়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সম্পর্কে সচেতন হয়ে আত্মগঠন তথা আত্মোন্নয়নে মনোযোগী হয় সেদিকে মনোযোগী হয়েছেন কয়েকজন বিদগ্ধ লেখক। তারা লিখেছেন তরুণদের জন্য আত্ম-উন্নয়নমূলক কয়েকটি বই যা এবারের বইমেলায় পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।

এখানে এ ধরনের নির্বাচিত ১০টি বইয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো:

sofol jodi.jpg

১. সফল যদি হতে চাও

আনিসুল হক। প্রকাশ করেছে প্রথমা। প্রথম প্রকাশ-একুশে বইমেলা ২০১৯। এখানে কয়েকজন বড় মানুষের জীবনের ঘটনা উল্লেখ করে তরুণদের উদ্ব্দ্ধু করার চেষ্টা করা হয়েছে। আসলে আত্ম-উন্নয়নের জন্য উদ্বুদ্ধ হওয়া খুব জরুরী।

ashaq.jpg

২. আনোয়ারা সৈয়দ হক: নির্বাচিত কিশোর গল্প

আনোয়ার সৈয়দ হক। প্রকাশ করেছে বিদ্যা প্রকাশ। প্রকাশিত হয়েছে এবারের বইমেলায়। মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় দিবস, ভাষা আন্দোলন ছাড়াও সামাজিক ও শিক্ষামূলক বিষয় নিয়ে এই বইয়ের গল্পগুলো সাজানো হয়েছে। এসব গল্প পড়ে তরুণরা অনেক কিছু শিখতে পারবে।

Chatrojibon.jpg

৩. ছাত্রজীবন: সাফল্যের শর্তাবলী

লিখেছেন মুহাম্মদ আবুল হুসাইন। প্রকাশ করেছে সময় প্রকাশন। প্রথম প্রকাশ- একুশে বইমেলা ২০১৯। এই বইটিতে শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষা, ছাত্রজীবন ও সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তাদেরকে আত্মসচেতন করার পাশাপাশি আত্মগঠনে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া একাডেমিক ক্যারিয়ার উন্নত করার জন্য সময় ব্যবস্থাপনা,  ভালো পাঠোভ্যাস, শিক্ষাজীবনে সফল হওয়ার বিভিন্ন শর্ত, সফল অধ্যয়ন কৌশল আলোচনার পাশাপাশি আত্মগঠন, মৌলিক মানবীয় গুণাবলী যেমন-শৃংখলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা, জীবন দক্ষতা, আত্ম-সমালোচনা ও আত্মবিশ্বাসের গুরুত্ব এবং তা অর্জনের উপায় আলোচনার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধের উন্নয়নের উপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকে জঙ্গিবাদ সম্পর্কেও সচেতন করা হয়েছে।

jouboner jatno.jpg

৪. যৌবনের যত্ন

রচনা, অনুবাদ ও সম্পাদনায় মুহাম্মদ আবুল হুসাইন। এটিও প্রকাশ করেছে সময় প্রকাশন। প্রথম প্রকাশ- একুশে বইমেলা ২০১৮। একটি শক্তিশালী জাতি গঠন করতে হলে তরুণ প্রজন্মকে স্বাস্থ্য সচেতন করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এই বইয়ে তরুণদেরকে স্বাস্থ্য সচেতন তথা যৌবনের যত্নের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এখানে যৌবনের যথাযথ বিকাশের কয়েকটি মৌলিক বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করার পাশাপাশি শারীরিক ফিটনেস ও রূপ-যৌবন ধরে রাখা বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখ্য,  এই বইয়ের বেশিরভাগ লেখাই ইংরেজি থেকে অনুবাদ করা। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশ্বের খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞদের লেখা অনুবাদ করে এই বইয়ে স্থান দিয়েছেন পেশায় সাংবাদিক মুহাম্মদ আবুল হুসাইন ।

never stop.jpg

৫. নেভার স্টপ লার্নিং

লেখক জনপ্রিয় অনলাইন টেন মিনিট স্কুলের সম্পাদক আয়মান সাদিক। পাবলিশার- অধ্যয়ন। প্রথম প্রকাশ ২০১৮। শেখার কোন বয়স নাই। যে কোন সময়, যে কোন স্থানে প্রতিনিয়ত শেখা যায়। আর শুধু  প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে আটকে না থেকে বাস্তব জীবন ও কর্মমুখি শিক্ষাও জীবনকে সমৃদ্ধ করার জন্য জরুরী।

recharge.jpg

 ৬. রিচার্জ ইয়োর ডাউন ব্যাটারি 

লেখক-ঝংকার মাহবুব। প্রকাশক- আদর্শ। প্রথম প্রকাশ-২০১৮। আত্ম-উন্নয়নের জন্য এটি একটি চমৎকার বই। বর্ণনাভঙ্গিও আকর্ষণীয়। মোবাইলের ব্যাটারি ডাউন হয়ে গেলে যেমন রিচার্জ করতে হয়, তেমনি মানুষের মনও নানা কারণে হতাশ ও হতোদ্যম হয়ে পড়ে। তখন কীভাবে হতাশা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে কাজ করতে হবে সে সম্পর্কে বইটিতে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

p thinkin.jpg

৭. দ্য পাওয়ার অব পজিটিভ থিংকিং

মূল বইটি ইংরেজিতে লেখা এবং ইংরেজিতেও এর একাধিক লেখক দেখা যায়। বাংলাতেও এর একাধিক অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ইংরেজিতে ড. নরম্যান ভিনসেন্ট পিলের লিখিত বইটিই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বইটির মূল শিক্ষা হলো ইতিবাচক চিন্তার গুরুত্ব। এটি আসলে মানুষের জীবন দক্ষতার অন্যতম মৌলিক গুণ। পরিস্থিতি যত জটিলই হোক আপনাকে ঠা-া মাথায় ইতিবাচক পদ্ধতিতে বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে। তা নাহলে জীবন ক্রমান্বয়ে জটিল আকার ধারণ করবে এবং আপনার অগ্রগতি ব্যাহত হবে।

smind.jpg

৮. দ্য পাওয়ার অব ইউর সাবকনশাস মাইন্ড

এই বইয়েরও মূল লেখক ড. নরম্যান ভিনসেন্ট পিল। এই মূলত মেডিটেশন বিষয়ক বই। মনকে নিয়ন্ত্রণ বা মানসিক শক্তি অর্জন ছাড়া আত্ম উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই বইটি পাঠ করলে আপনি মানসিক শক্তি অর্জনের নানান কৌশল জানতে পারবেন। বইটি অনুবাদ করেছেন লিউনার্ড স্বপন গোমেজ। প্রকাশ করেছে মুক্তদেশ প্রকাশন।

leader w you.jpg

৯. ডিভেলপিং দ্য লিডার উইদিন ইউ

এটি মূলত আমেরিকার একটি বেস্ট সেলার বই। মূল লেখক জন কেলভিন ম্যাক্সওয়েল। এটি মূলত নেতৃত্ব গঠন বিষয়ক বই। আপনি যদি একজন ভাল নেতা বা সংগঠক হতে চান তাহলে প্রথমে নিজেকে নেতৃত্ব দেয়া শিখতে হবে। আপনি যদি নিজেকে ঠিক মত চালাতে পারেন, তাহলেই কেবল অন্যকে চালাতে পারবেন, আপনার কোমপানিকেও ভালোভাবে চালাতে পারবেন। বাংলায় একটা কথা আছে না, ‘পৃথিবীকে গড়তে হলে সবার আগে নিজেকে গড়ো’ ; এই বইয়ের মূল বক্তব্যও অনেকটা এরকম। আপনি যদি নেতৃত্বের ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে চান তাহলে এই বইটি আপনাকে যথেষ্ট সহায়তা করতে পারে।

vallagena.png

১০. ভাল্লাগে না

 

আয়মান সাদিক ও অন্তিক মাহমুদ যৌথভাবে বইটি লিখেছেন। প্রকাশক- আদর্শ। এবারের বইমেলায় বইটি প্রথম প্রকাশিত হলো। বইটির নাম যেমন চমৎকার এর বিষয়টিও তেমনি গুরুত্বপূর্ণ। হতাশা, আত্মবিশ্বাসের অভাব বা হীনমন্যতা আত্ম-উন্নয়নের পক্ষে এক বিরাট অন্তরায়। জীবনে এগিয়ে যেতে হলে তোমাকে সমস্ত হতাশাকে পায়ে দলে আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হতে হবে। এই বইটিতে লেখক সে চেষ্টাই করেছেন। আত্মগঠনের পক্ষে এটি আসলেই একটি চমৎকার বই।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ