ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 February 2019, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৫, ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

একাত্তরের ঘটনাপঞ্জী নিয়ে কিছু কথা

ড. মো. নূরুল আমিন

[তিন]

শান্তি কমিটি গঠিত হয়েছিল আইনশৃঙ্খলাসহ সমাজে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য। পাকিস্তানকে অখন্ড রাখার জন্য এই কমিটি তৎকালীন সরকারকে সহযোগিতা করেছে সন্দেহ নেই। তারা অনেক ভাল কাজও করেছে বলে জানা যায়। জাতীয় লীগ প্রধান ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অলি আহমদ তার প্রণীত “জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ৭৫” শীর্ষক পুস্তকে যথার্থই বলেছেন যে, “শান্তি কমিটি যে কেবল মুক্তি বাহিনী বা বাংলাদেশ সমর্থকদের দমনে ব্যস্ত ছিল তাহা নহে। পাক সেনা বাহিনীর অকথ্য পাশবিক অত্যাচার ও লুণ্ঠন হইতেও দেশ বাসীকে রক্ষা করিতে আপ্রাণ সচেষ্ট ছিল। উভয় বাস্তবতাকে স্বীকার করাই হইবে সত্য ভাষণ,”

শান্তি কমিটির থানা ও ইউনিয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করলেও দেখা যায় যে, এই কমিটি শুধু ইউনিয়ন কাউন্সিল কিংবা অখন্ড পাকিস্তানে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিদের প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি বরং সরকারের বিভিন্ন বিভাগও এজেন্সির প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কর্মকান্ডের কাজেও এ কমিটি ব্যবহৃত হয়েছে। সার্কেল অফিসার (উন্নয়ন) প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কাজে এই কমিটির সহায়তা নিয়েছেন। সার্কেল অফিসার (রাজস্ব) কর ও ভূমি রাজস্ব আদায়ে এই ফোরামকে ব্যবহার করেছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, চুরি ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণে এই কমিটির সহযোগিতা নিয়েছেন। শান্তি কমিটির ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ের সভাসমূহে উপস্থিত ব্যক্তিদের তালিকা এবং কমিটির কার্য বিবরণী পরীক্ষা করলে এই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে উঠবে। এই কমিটিগুলো নিজ নিজ এলাকায় নিজ নিজ দায়িত্বেই কাজকর্ম করেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারকে সহায়তা করেছে। জামায়াতে ইসলামী অথবা অধ্যাপক গোলাম আযমের এক্ষেত্রে কোন ভূমিকা ছিল না এবং জনসাধারণের ওপর অত্যাচার নিপীড়ন কিংবা মুক্তি বাহিনীকে দমনের জন্য তিনি এই কমিটিগুলোকে নির্দেশ দেয়ার এখতিয়ারও রাখতেন না।

কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগী বাহিনীও ছিল না এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনী যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করার পর যে দলীল স্বাক্ষরিত হয়েছিল তাতে সহযোগী বাহিনীসমূহের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছিল তাতে শান্তি কমিটির নাম ছিল না। এই বিষয়টি বাংলাদেশ ডকুমেন্টস ১৯৭১ পার্ট- ৩ এর ২১৬ ও ২১৭ পৃষ্ঠা পরীক্ষা করলে পরিষ্কারভাবে বুঝা যাবে।

১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ তারিখে আর্মি ক্র্যাকডাউনের পর থেকে সংবাদপত্রের উপর কড়া বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। তৎকালীন অবজারভার হাউজে সামরিক কর্তৃপক্ষের প্রেস লিয়াজো কর্মকর্তা মেজর সালেক নিয়মিত বসতেন এবং ঐ সময়ে সেন্সরশীপ ছাড়া কোন সংবাদ এমনকি সম্পাদকীয় উপসম্পাদকীয় নিবন্ধও প্রকাশ করা যেত না। কোন কোন সময়ে সামরিক কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পত্রিকায় প্রকাশের জন্য সম্পাদকীয় নিবন্ধও লিখে পাঠানো হতো। আমরা এই নিবন্ধগুলোকে সম্পাদকীয় আকারে প্রকাশ না করে চিঠিপত্র আকারে প্রকাশ করেছি বলে আমার এখনও মনে আছে। সামরিক কর্তৃপক্ষ তাদের অত্যাচার নির্যাতন সম্পর্কে কোন রিপোর্ট প্রকাশ করতে দিতেন না। এমনকি তাদের সমালোচনামূলক কোন প্রতিবেদন বা নিবন্ধ লেখারও ক্ষমতা পত্রিকাসমূহের ছিল না। তবে ভারত বিরোধী যে কোন লেখা তাদের ছাড়পত্র ছাড়াই প্রকাশ করা যেত। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে কার্জন হলে সীরাতুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অধ্যাপক গোলাম আযম সামরিক সরকারের হত্যা, নিপীড়ন ও নির্যাতনের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। এই রিপোর্টটি পত্রপত্রিকাসমূহ প্রকাশ করতে পারে নি। কেননা এর আগেই তিনি এবং নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা মৌলভী ফরিদ আহমেদের বক্তৃতা বিবৃতি প্রকাশের উপর এমবার্গো অর্থাৎ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। দৈনিক পূর্ব দেশে আমরা নিয়মিত এমবার্গো রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করতাম। যে সমস্ত রাজনৈতিক নেতার আর্মীর সমালোচনামূলক বক্তৃতা বিবৃতি প্রকাশ না করার জন্য সামরিক আইন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল তার মধ্যে অধ্যাপক গোলাম আযম ছিলেন অন্যতম প্রধান। বায়তুল মোকাররম ও কার্জন হলে দুইটি বড় সমাবেশে গোলাম আযম সেনা নির্যাতনের প্রতিবাদ করলে অধ্যাপক গোলাম আযমের বক্তব্য প্রকাশের উপর এমবার্সে জারি হয়। পাকিস্তানের অখন্ডতায় বিশ্বাস তার রাজনৈতিক দর্শন ছিল। কিন্তু পাকিস্তানী বাহিনীর দমন-পীড়ন, হত্যা নির্যাতন ও লুটপাটের তিনি সর্বদা বিরোধিতা করেছেন।

এখানে আরেকটি বিষয়ও উল্লেখ করা প্রয়োজন। আর্মি প্রশাসন ১৯৭১ সালে অখন্ড পাকিস্তানে বিশ্বাসী পূর্ব পাকিস্তানী রাজনীতিকদেরও পুরোপুরি বিশ্বাস করতেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিহারী বলে পরিচিত অবাঙ্গালীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অপারেশন চালাতেন। এই অপারেশনে দলমত নির্বিশেষে সকল দল ও শ্রেণী পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বলাবাহুল্য, প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে অবাঙ্গালীদের উপর অনেক নির্যাতন-অত্যাচার হয়েছে। এক শ্রেণীর উচ্ছৃঙ্খল জনতা তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং বহুলোককে হত্যা করেছে। আর্মি ক্র্যাকডাউনের পর তারা তার প্রতিশোধ নিয়েছে। পাকিস্তানী সেনা বাহিনীর সদস্যরাও অবাঙ্গালী হওয়ায় অবাঙ্গালী বিহারীদের তথ্যকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করেছে এবং তার ভিত্তিতে নির্বিচারে অপারেশন চালিয়েছে। এই অপারেশনের শিকার মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, পিডিপি ও কেএসপির নেতাকর্মীরাও ছিলেন। আর্মি ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ১৯৭১ সালে বিহারীরাও বিভিন্ন স্থানে প্রতিহিংসামূলক আক্রমণ ও কর্মকান্ড চালিয়েছিল। ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে মীরপুরে বসবাসকারী কায়েদে আজম কলেজ (বর্তমানে শহীদ  সোহরাওয়ার্দী কলেজ) আমারই সহকর্মী অধ্যাপক রফিক উদ্দিন আহমদকে নির্মমভাবে হত্যা করে তার লাশ টুকরো টুকরো করে কুয়ার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তিনি জামায়াতের নেতা ছিলেন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে রায়পুরা এলাকায় নির্বাচন প্রার্থী ছিলেন।

সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, লুট-পাট এবং ধ্বংসাত্মক তৎপরতা ছাড়াও ঐ সময়ে বামপন্থী, আন্ডার গ্রাউন্ড রাজনৈতিক দল এবং সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো বিশেষ করে চীনপন্থীদের জঘন্য অপরাধী তৎপরতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। তাদের অপরাধ, অস্ত্র ও অনুপ্রেরণার উৎস ছিল পশ্চিম বাংলার চারু মজুমদারসহ নক্সালপন্থী দলগুলো। ভূস্বামী ও শ্রেণী শত্রু খতমের মাধ্যমে কৃষক শ্রমিকের একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েমের নামে আব্দুল হক, আলাউদ্দিন, টিপু বিশ্বাস, মোহাম্মদ  তোয়াহা প্রমুখ চীনপন্থী কমিউনিস্ট নেতৃবৃন্দ এবং তাদের অনুসারীরা ঐ সময়ের নৈরাজ্যকর অবস্থার সুযোগ গ্রহণ করে এবং নির্বিচারে বহু আওয়ামী লীগ নেতা এবং বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তাদের হত্যা করে। কোন কোন সময় তারা মুক্তিবাহিনীকে তাড়া করে সেনা ক্যাম্পের দিকে নিয়ে যায়। ফলে তারা সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে নির্মম হত্যার শিকার হয়। সর্বহারা দল, পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (এমএলসহ বামপন্থী দলসমূহের নেতারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন না তারা মনে করতেন যে যদি স্বাধীনতা সংগ্রামকে অন্তত পাঁচ বছর পিছিয়ে নেয়া যায় তাহলে মানুষ শেখ মুজিবুর রহমানকে ভুলে যাবে এবং আওয়ামী লীগের পক্ষেও পশ্চিম বাংলাসহ ভারতের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। বামপন্থী ও নক্সালেরা।  

যে হাজার হাজার লোককে হত্যা করেছে অত্যন্ত বিস্ময়ের বিষয় যে, এই ঐতিহাসিক সত্যটি এখন উপেক্ষিত হচ্ছে।

উপরোক্ত অবস্থায় আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ১৯৭১ সালে অধ্যাপক গোলাম আযম ও তার দলের অবস্থান ছিল সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক, অপরাধমূলক নয়। তিনি এই অঞ্চলের উপর ভারতীয় আধিপত্যও চাননি। তিনি দেশকে ভালবেসেছেন এবং দেশের মানুষকেও ভালবেসেছেন। এ প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে দেশের মানুষের উপর অত্যাচারে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতার অভিযোগটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দেশ বিদেশে ইসলামী আন্দোলনের একজন অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি গোড়া আলেমও নন। ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত জ্ঞান বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ একজন আধুনিক মানুষ। তাকে এবং তার দলকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার জন্যই তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অভিযোগের অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম নেতা জনাব আহমদ শরীফের ডায়েরী নিয়ে জাগৃতি প্রকাশনী কর্তৃক ‘ভাব-বুদ্বুদ’ শিরোনামে প্রকাশিত পুস্তকের ১২০ পৃষ্ঠায় জনাব আহমদ শরীফ এই অভিযোগের দার্শনিক পটভূমি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমি রাজাকারদের নিয়ে ঘাটাঘাটি নিরর্থক ও অন্যায় বলেই মানি, কেননা এক রাষ্ট্রপতি তাদের ক্ষমা করেছেন, অন্য এক জঙ্গী নায়ক জিয়া তাদের তার সহযোগী সম্বল করে রাজত্ব করেছিলেন। তখন কেউ আন্দোলন করেনি। সবাই উক্ত দুই শাসকের সিদ্ধান্তের বা নির্দেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনে এগিয়ে আসেনি যথাসময়ে। আমার লক্ষ্য ছিল গোলাম আযম, কারণ আমার চোখে তিনি ব্যক্তি ছিলেন না, ছিলেন একজন ইসলামিক দলের সর্বজনমান্য নেতা ও ব্যক্তিত্ব, একটা রাজনৈতিক দলের একটি আদর্শের একটি লক্ষ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের, একটি রাজনৈতিক ও শাস্ত্রিক শক্তির প্রতীক, প্রতীক ও প্রতিভু, তাই তার পতনে বা শাস্তিতে আমার ধারণা জামায়াতে ইসলামী দল হৃতবল, হীনবল হয়ে হয়ে আত্মবিলুপ্ত পেত।’

জনাব আহমদ শরিফ একা নন। আওয়ামী লীগ ও বাম ঘেঁষা সাহিত্যিক, সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী রাজনীতিবিদ প্রয়ে সকলেই এই অভিন্ন মতে বিশ্বাসী। ইসলামের কারণেই জামায়াত তাদের চক্ষুশূল। ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সক্রিয়তা এবং সাফল্যের কারণেই তারা জামায়াত ও তার নেতৃবৃন্দের ধ্বংস চায়। এই ধ্বংসের আগে কিছু বদনাম দরকার। জামায়াত ও তার নেতৃবৃন্দকে একাত্তরের গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িয়ে বিচারের দাবী ও প্রক্রিয়া উপরোক্ত উদ্যোগেরই একটি কৌশল। একাত্তরে জামায়াতের অবয়ব ছিল অত্যন্ত ক্ষুদ্র, তাদের সদস্য সংখ্যা তখন সারা পূর্বপাকিস্তানে সাড়ে তিনশ’র কাছাকাছি এবং কর্মী-মুত্তাফিকের সংখ্যা মাত্র কয়েক হাজার এবং কর্মক্ষেত্র ১৩টি জেলা ছিল। 

 

দলটি ক্ষমতা অথবা ক্ষমতার কাছাকাছিও ছিল না; যুদ্ধরত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগী বাহিনীও (Auxiliary Force) ছিল না। তারা সেনাবাহিনীকে পথ দেখিয়ে গণহত্যা ও ধর্ষণ, লুণ্ঠন, ও অত্যাচারে সক্রিয় ভূমিকা রাখার যে কথাটি নাটক-নভেল, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় রাষ্ট্রীয় সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতায় প্রচার করা হচ্ছে তা সত্যের অপলাপ। এতে বিবেক সম্পন্ন মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারেন না। [সমাপ্ত]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ