ঢাকা, শুক্রবার 1 March 2019, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৫, ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আমাদের ভাষার দরজাটা খোলা পশ্চিমবঙ্গেরটা বন্ধ : আল মাহমুদ

সরদার আবদুর রহমান : আজ থেকে দুই দশক আগে। সুস্থ ও সুঠাম দেহের অধিকারী কবি আল মাহমুদ। সমানে চলছে কলম, চলছে ভ্রমণ। নিজ ভূমির প্রকৃতি-নিঃসর্গের স্বাদ আস্বাদনে পর্যটন করে চলেছেন গ্রাম-শহরের আনাচে-কানাচে। এমনই এক সুযোগে তাঁর সঙ্গসুখ লাভের ফাঁকে চলে বিশেষ আলাপচারিতা। 

সেই আলাপের বিবরণটুকু রেকর্ড করে রাখা হয়েছিল। আর রেকর্ডসূত্রে তা স্থানীয় একটি ছোট কাগজে পত্রস্থও করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের এই সময়ের প্রধান কবির সেসময়ের যে চিন্তাভাবনা তা আমাদের সাহিত্যজগতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা বলতে গেলে অপ্রচারিত ও অজ্ঞাত থেকে যায়। এটি আলোর মুখ দেখুক- এই বাসনা থেকে পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো। আলাপচারিতা ধারণ : রাজশাহী, ৭ এপ্রিল ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ।

আল মাহমুদ বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবি। অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী এবং প্রাবন্ধিকও বটে। তিনি বাংলাদেশের নিসর্গ, ঐতিহ্য, এই দেশের মানুষের জীবন-দর্শন, জীবনযাপন ও কর্মপ্রেরণাকে তাঁর সাহিত্যচর্চার বিষয় করেছেন। এরকম আরও অনেকেই করেছেন। তাঁদের থেকে তাঁর পৃথকতা ও শ্রেয়তা এইখানে যে, সাহিত্যেও মূল লক্ষ্য সৌন্দর্য-নির্মাণ থেকে তিনি কখনও বিচ্যুত হননি। একজন বড় কবির কাছে জাতি শুধু এতটুকু প্রত্যাশা করে না যে তিনি উত্তীর্ণ কবিতাই কেবল লিখে যাবেন। একটা সময় আসে যখন জাতি, বিশেষত উত্তরসূরী সাহিত্য-কর্মীরা তাঁর কাছ থেকে নবতর চেতনা ও দিশার সন্ধান পেতে চায়। তিনি তখন একজন চিন্তাবিদ হয়ে ওঠেন। আল মাহমুদও তার ব্যতিক্রম নন। সেজন্যে যেখানেই তিনি গেছেন তরুণরা তাঁকে ঘিরে ধরে। কিংবা বলা চলে তিনি নিজেও তরুণদের আর্কষণ করেন। সেরকমই এক ঘিরে-ধরার ফসল আজকের এই বক্ষ্যমান সাহিত্য আলাপ। ১৯৯৭ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে আল মাহমুদ দুদিনের জন্য রাজশাহী এসেছিলেন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। সে সময় কয়েকজন তরুণ সাহিত্যকর্মী তাঁকে উত্যক্ত করতে থাকেন। তবে তাকে ধন্যবাদ তিনি কখনই বিরক্তি দেখাননি। আলাপে উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক, ছড়াকার ও প্রবন্ধকার সরদার আবদুর রহমান, কথাসাহিত্যিক ও ছড়াকার নাজিব ওয়াদুদ এবং গল্পকার আশরাফ উদ্দীন আহমদ। সেটি কোনো আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার ছিল না। সেই প্রস্তুতি করোরই ছিলো না। তরুণ সংগঠক তোজাম্মেল হক বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু অংশ রেকর্ড করে নিয়েছিলো। পরে তার অংশবিশেষ অনেক কষ্টে উদ্ধার করা হয়। এই আলাপ যেহেতু পরিকল্পিত ছিল না, সেজন্যে এর শুরুও নেয়, শেষও নেই। এবং আলাপের ধারাবাহিকতাও সেভাবে রক্ষিত হয়নি। তবু অনেক কিছু কাটছাট করে একে একটি পূর্ণাঙ্গ আলোচনার মতো করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়। এই আলাপচারিতায় বাংলাদেশের সাহিত্য ও সাহিত্যিক পরিবেশ সম্পর্কে নানান তথ্য, বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন রয়েছে যা তরুণ সাহিত্য-কর্মীদের চিন্তার খোরাক দেবে বলে আমাদের বিশ^াস।

নাজিব ওয়াদুদ : বামপন্থীরা সব সময় একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখে।

আল মাহমুদ : হ্যাঁ, একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখে। আমি তো এই বইটা (বই হাতে নিয়ে) লিখেছি ’পুরুষ সুন্দর’। এটা হজম করার মত কারো ক্ষমতা বাংলাদেশের কারো নেই। আর মোল্লাদের তো নেইই। না থাকারই কথা, আমাকে মারতে আসেনি এটাই বড় ব্যাপার। এক নেতা আমাকে বলেছেন, আপনি বইটা কেন লিখেছেন জানি না, তবে এটা অর্থহীন আমরা তা বলবো না। আমার যে অভিজ্ঞতা আছে, আমি সেটা লিখেছি। এর মধ্যে এক জায়গায় এটা আছে যে, এই শহরে, ঢাকায় অসংখ্য মসজিদের মিনার আঙ্গুল তুলে সতর্ক করছে, এই সতর্কতা রয়েছে। কি কারণে ঘোগরা এবং সিদম নগরী ধ্বংস হয়ে গেছিল, এটাতো হলো একটা সত্য ঘটনা। কুরআন এই ঘটনা তুলে ধরেছে, তো আমাদের দেশে তা শুরু হয়েছে। এটা বামপন্থীদের কারো লেখার ক্ষমতা নাই। যদি থাকতো তাহলে লিখতো। তাদেরই বিষয় এটা। কিন্তু আমি মোল্লাদের লোক। কে আমাকে কি মনে করলো, তাতে আমি কিছু মনে করি না। আমি নিজে মনে করি যে, আমি ঈমানদার একজন মুসলমান। আমি তো সমসাময়িক কালের বাখ্যাকার মাত্র। আমাদের মধ্যে যারা শিক্ষিত মেয়ে, পর্দানশীন-তারা আমকে টেলিফোন করেছেন, আমি বলেছি, আপনারাকি আমাকে গাল দিতে চান? তারা বলেছেন, না না গাল দিতে চাই না। একজন তো টেলিফোন করেছিল পূর্ণিমার আতাহার খানকে, এতোদিন আমি পূর্ণিমার গ্রাহক ছিলাম, আজ থেকে আর গ্রাহক থাকবো না। আতাহার আমাকে বলেছেন, ভাই, এটা করেছেন কি? আমার তো মাথায় বাড়ি দিয়েছেন। তো সাহিত্যের কাজ কি? সমসাময়িক ঘটনা, পাপ, পরিণাম সম্পর্কে Detail বর্ণনা করা, তারপর সতর্ক করা। আমি এই দুইটা কাজ কি করিনি এই বইয়ে? আজকে হয়তো বইটার মূল্য দিচ্ছে না, গালিগালাজ করছে, কিন্তু ৫০ বছর পরে আমাকে খুব প্রসংশা করা হবে, বলা হবে লিখেছেন এটা? বিশ্বাস করতে চাইবে না যে, আমি এটা লিখেছিলাম।

নাজিব ওয়াদুদ : আপনি যে বললেন আপনি একজন ঈমনদার মুসলমান। তো প্রায়ই যেটা অভিযোগ উঠে আপনার বিরুদ্ধে- মৌলবাদী বলে গাল দেয়া হয়, তারপর এরকম একটা ধারণা এদেশে অনেক দিন থেকেই প্রচলিত আছে যে, আদর্শ বিশেষ করে ইসলাম, ধর্মীয় আদর্শ, সাহিত্য- শিল্পের বিরোধী। আপনি কী বলেন?

আল মাহমুদ : এট একটা বাজে কথা। ইউরোপের সমসাময়িক সাহিত্য যেটাকে বলা হয়, এই জগৎটাকে তৈরি করেছে। মুসলমানদের একটা সাহিত্য জগৎ ছিল। ইরানের ছয় জন বিশ্ব কবি। হাফিজ, রুমী, ফেরদৌসী, সাদী, ওমর খৈয়াম ও জামি। এই ছ’কবিকে ইউরোপের সবাই একডাকে চেনে। তো ওরা মুসলমান না? তখন মুসলিম লেখকদের নামে ক্লাব হতো ইউরোপে। এর পরে মডার্ণ যুগ এসেছে, এই যুগ কী দিয়েছে, হিসেব হয়ে যাচ্ছে মার্কসিস্টদের পতনের পর। এখন আবার...সাহিত্যে তো এখন টেলিভিশনের খুব প্রভাব। তো এটা থাকবে না। আবার Man of letter এর যুগ চলে আসবে। মানুষ স্বপ্নটা বাস্তবে দেখতে চায় না। আমি একটা কল্পনা করলাম, আমি এটা পর্দায় দেখতে চাই না। আমি নায়িকা, ঐ শহিদুল্লা কায়সারের মেয়েটাকে নায়িকা হিসেবে দেখতে চাই না। আমি যে নায়িকা কল্পনা করি, সেটা যদি আমি লিখি, মানুষ একেকজন একেক করে কল্পনা করে নেয়, আমার লেখা থেকে। এজন্য আমাকে এমনও বলা হয়েছিল যে, আপনি একটা করে পৃষ্ঠা দেন, এই পৃষ্ঠার জন্য আপনাকে এতো করে টাকা দেবো। নাটক লিখে দেন টিভিতে। আমি যাইনি। অবশ্য যাইনি এটা ঠিক করি নাই। যাওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু যাইনি এজন্য যে, সস্তা জিনিসের দিকে চলে যাবো। যেটা হুমায়ুন করেছে। হুমায়ুন কিন্তু খুব সচেতন। সে জানে, সে কি করছে। আমাকে বলে মাহমুদ ভাই, আপনি জানেন না, আমি আপনার কতো ভক্ত। একটা অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিল।

নাজিব ওয়াদুদ : বা এই যে কমার্শিয়াল লিটারেচারের যে ধারা এটাকে বাংলাদেশে দুইভাবে দেখা হচ্ছে। এক, যারা সৃজনশীল সাহিত্যে বিশ্বাসী, তারা এটাকে পাত্তা দিতে চাচ্ছে না। আরেকদল আছে যারা এটাকে মনে করেছে, তারা অন্তত একট কাজ করছে, বাংলাদেশে বই ব্যবসায়ে যে সাম্রাজ্যবাদ- এটাকে ঠেকানোর একটা কাজ তারা করছে।

আল মাহমুদ : আমি ওটাকে বড় করে দেখছি না। আমি দেখছি যে আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজ এসেছে যে সব পটভূমিকায়, প্রেম এসেছে, ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরা প্রেম করছে। এই প্রেম, আবেগ, স্বপ্ন-এটাকে সে কাজে লাগিয়েছে। এটা একটা বড় কাজ বলে আমি মনে করি সাহিত্যে। এখন শরৎচন্দ্র কিন্তু কেউ পড়ে না। শরৎ তার সময়ের বড় একটা দাবী পূরণ করেছেন। হুমায়ুন একটা কাজ করেছেন, যাতে আমাদের পাঠকরা পড়তে শিখেছে। এই বইগুলো পড়ে হঠাৎ যখন কাবিলের বোন, খোঁয়ারী বা এ সব উপন্যাসে আসবে তখন একটা ধাক্কা খাবে। কিন্তু পাঠের অভ্যাস যদি আমি না গড়ে তুলি, তাহলে তারা পড়বে কিভাবে? ইন্টেলেকচুয়ালি তারা তৈরি হয়ে গেছে। তারা এখন হজম করতে শিখছে। এটা একটা বড় কাজ হয়েছে। আমি হুমায়ুনকে নিন্দা করি না। আমি এটা বলি না যে এটা কিছুই না। গদ্য লেখকদের অবশ্যই পপুলার লেখক হতে হবে। এট কি কম কথা নাকি যে আমাদের দেশে একজন লেখককে এক লাখ টাকা এডভান্স করে দেয়? এটা কি কম? এটা কল্পনাতীত ব্যাপার। এটা হুমায়ুন করেছে। এটা নতুন ধারা সৃষ্টি করেছে। মুসলমান মধ্যবিত্তের মধ্যে একটা নতুন ব্যাপার।

নাজিব ওয়াদুদ : এখন অনেক একথা বলতে চায় যে, ছোটগল্পের দিন শেষ হয়ে আসছে। এখন উপন্যাসের দিন বা আপনি একটু আগে যেটা বললেন এখন আসলে অডিও-ভিজ্যুয়াল যে ব্যাপারটা আসছে, আপনি যদিও বললেন যে Man of letters-এর হাতেই আবার চলে আসবে, এটা বাংলাদেশের জন্য কতটুকু...

আল মাহমুদ : আমি মনে করি আমাদের দেশে একটা জিনিস আছে যে, মানুষ পড়ে সুখ পায়। যারা লেখাপড়া করে তারা কিন্তু পড়তে চায়।.... আমার ছেলেরা বিদেশে থাকে, আমার জন্য ক্যাসেট-ট্যাসেট পাঠাতো, আমি নিজেও এগুলো যোগাড় করতাম, কিন্তু এখন আর এগুলো ভালো লাগছে না। এখন একটা ইউরোপিয়ান উপন্যাস পড়তে চাই, পড়ে দেখতে চাই। আমাদের প্রতিবেশী ভারতে যেমন শোভা দে-এর লেখা আমি পড়তে চাই, ভিজুয়্যালি দেখতে চাই না। এটা তো একটা নতুন বিষয়। আমি মনে করি যে আমাদের দেশেও তো কিছু লেখা আসছে, যা খুব তাড়াতাড়ি উঠে আসবে।

সরদার আবদুর রহমান : শোভা দে তো আসলে কমার্শিয়াল লাইনের লেখক।

আল মাহমুদ : কমার্শিয়াল তো বটেই। কিন্তু ভারতীয় সমাজের যে ভাঙন, পরিবারের ভাঙন, এটাকে সে নিয়ে আসছে।

নাজিব ওয়াদুদ : মানে উপরের যে সমাজ...

আল মাহমুদ : হ্যাঁ, এটা সে দেখাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থী লেখকেরা, এরাও লিখছে। ওদের লেখা আমার ভাল লাগে না। এই যে মহাশে^তা দেবী, এ খুবই বিখ্যাত লেখক, আমি তার সমালোচনা করতে চাই না। কিন্তু আমি কোন মজা পাই না তার কাছ থেকে।

নাজিব ওয়াদুদ : এগুলো তো-যেমন মহাশে^তা দেবীর বিশেষ বিশেষ উপজাতিদের নিয়ে লেখা বই, এগুলো তো মনে হয় একেকটা থিসিস ওয়ার্ক। গল্পের মতো করে সাজানো।

আল মাহমুদ : এগুলোতে উপন্যাসের স্বাদ নেই। উপজাতীদের নিয়ে উপন্যাস লিখেছে, যেমন গোপীনাথ মহন্ত, উড়িয়া লেখক, তিনি উপজাতীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকেছেন। তাদের নিয়ে একটা বই লিখেছেন,‘মানব’ বেশ সুন্দর কাজ। আমার তো মনে হয় তারাশঙ্করের চেয়েও বড় লেখক। এটা তো পশ্চিমবঙ্গের লেখকরা স্বীকার করবে না। তারাই হলো ভারতে লেখক। পশ্চিমবঙ্গের ক’টি লেখক, আর বাকী ভারতের লেখকরা সব ছাতুখোর, মাওড়া, কেউ লিখতে জানে না- এটা হলো তাদের মতলব। কিন্তু আমি তো সারা ভারত খুঁেজ এবং পশ্চিমবঙ্গের দাওয়াতে না, ভারতীয় লেখকরা দাওয়াত করে নিয়ে যায় আমাকে। ঐ ব্যাঙ্গালোর, সেদিনও নিয়ে গেছে আমাকে। আমার বক্তব্য শুনেছে। আমি সেখান অনেক বড় বড় লেখক দেখতে পেয়েছি।

সরদার আবদুর রহমান : একটা বিষয় যে, যে কোন লেখকেরই ভাষার প্রতি দায়িত্ব অথবা সমাজের প্রতি দায়িত্ব, দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের ব্যাপার আছে কিনা? নাকি শুধুই মজা দেওয়ার জন্য লিখবেন?

আল মাহমুদ : আমি লেখকের কোন দায়ভার গ্রহণ করাটা, যেটা বামপন্থীরা কি যেন বলে, সামাজিক দায়, আমি লেখকের জন্য এরকম দায় নেয়া উচিৎ বলে মনে করি না। লেখক হবে স্বাধীন। কিন্তু আমরা যেটা চাইছি, মুসলিম লেখকরা, আমরা কিছু দায়িত্ব নিতে চাই। এতদাঞ্চলের মুসলমানদের ইসলামী জীবন ব্যবস্থা, জীবন-যাপন পদ্ধতি, ক্রিয়া-কলাপ নিয়ে কোন গ্রন্থই লিখা হয়নি।

নাজিব ওয়াদুদ : আমি যেটা দেখেছি যে, বাংলাদেশের কথা সাহিত্যের ক্ষেত্রেই ধরি- ছোটগল্পের ক্ষেত্রে, শাহেদ আলীর গল্পের পরে আসলে বাঙালী মুসলমান কৃষকের জীবন কথা আমরা আর কারো লেখার ভেতরে পাইনি।

আল মাহমুদ : না, আগেও নাই পরেও নাই। সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ চেষ্টা করলেন প্রথম। কাঁদো নদী কাঁদো। কী কাহিনীটা? যে, গ্রামের পাশে দিয়ে একটা নদী চলে গেছে। নদীটা রাতে কাঁদে এবং শুকিয়ে গেছে। একটা স্কুল শিক্ষিকা সেই কান্না শুনতে পায়। এটা হলো রূপকথা। যেহেতু তিনি বহুদিন বাংলাদেশের বাইরে ছিলেন- ৩০ বছর, তিনি এটা বাংলাদেশী একটা উপকথা হিসেবে রচনা করেছেন, কিন্তু এ ধরনের লেখা বেশী দূর যায় না। আমাদের দেশে এখন মুসলিম লেখকদের দায়িত্ব হলো এই যে, কৃষি পটভূমি থেকে একটা জীবন, আমাদের যে সংগ্রাম, মানুষের ধর্ম-কর্মের মধ্যে আছে, যে সব পরিবারের ইতিহাস আছে এগুলো নিয়ে বড় উপন্যাস লেখার পথ আমাদের আছে। এ কাজগুলো কেউ করেনি। (অসমাপ্ত)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ