ঢাকা, রোববার 3 March 2019, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভারতীয় সৈন্যের রক্ত নিয়ে নরেন্দ্র মোদি ইলেকশন করছেন : কংগ্রেস এবং মমতা ব্যানার্জী

সোমবার ২৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতের ভোরে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ১২টি মিরাজ-২০০০ জঙ্গি বিমান নিয়ন্ত্রণ রেখা অর্থাৎ পরোক্ষভাবে পাক-ভারত সীমান্তের ৫০ মাইল অভ্যন্তরে বালাকোট নামক স্থানে এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে হামলা চালায়। বালাকোট পাকিস্তানের খাইবার পাখতুন খোয়ায় (পূর্ব নাম উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ) অবস্থিত। ভারত দাবি করেছে যে এই হামলায় ২০০ থেকে ৩০০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।
একটি স্বাধীন দেশের সীমান্তের ৫০ মাইল অভ্যন্তরে গিয়ে এক স্কোয়াড্রন অর্থাৎ ১২টি জঙ্গি বিমানের হামলা রীতিমতো সেই দেশটির বিরুদ্ধে একটি সামরিক হামলা। স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করার জন্য পাকিস্তানের অত্যাধুনিক জঙ্গি বিমান এফ-১৬ আন্তর্জাতিক সীমানার অনেক ভেতরে প্রবেশ করে ভারতে হামলা করে। অপর একটি ভারতীয় জঙ্গি বিমান কাশ্মীরে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং একজন ভারতীয় পাইলট নিহত হয়েছে। এছাড়া বুধবার সকালে ভারতের জঙ্গি বিমান পাকিস্তানের আকাশ সীমা লঙ্ঘন করলে ২টি বিমানকেই পাকিস্তান গুলি করে ভূপাতিত করে এবং ১ জন পাইলটকে গ্রেফতার করে। এই পাইলটের নাম অভিনন্দন। ১৪ ই ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী গেরিলাদের হাতে ৪৪জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হওয়ার পর পাক ভারত উত্তেজনা চরমে ওঠে। বাংলাদেশসহ বিদেশের অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন যে, এই বুঝি দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের অগ্নি প্রজ্জলিত হয়। তবে গত ১লা মার্চ পাকিস্তানের হাতে আটক ভারতীয় বিমান সেনা অভিনন্দনকে পাকিস্তান মুক্তি দিলে উত্তেজনা হ্রাস পায়। এখন আর পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হবে বলে মনে হয় না।
দেশ হিসাবে পাকিস্তান ছোট, চার ভাগের এক ভাগ। জনসংখ্যা ৬ ভাগের এক ভাগ। ভারতে ১২০ কোটি, পাকিস্তানে ২০ কোটি। সামরিক শক্তিতে পাকিস্তান একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হলেও ভারতের তুলনায় অনেক দুর্বল। ভারত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক দেশসমূহের মধ্যে ৪র্থ। সুতরাং ইংরেজিতে যেটিকে বলা হয়, Conventional War অর্থাৎ প্রচলিত যুদ্ধ, সেই যুদ্ধে পাকিস্তান ভারতের সাথে পারবে না। একমাত্র পারমাণবিক শক্তিতে পাকিস্তান কিছুটা এগিয়ে। ভারতের চেয়ে পাকিস্তানের ১০টি বোমা বেশি এবং এগুলোর বিধ্বংসী শক্তিও ভারতীয় বোমার চেয়ে বেশি। কিন্তু সেখানেও রয়েছে ডেলিভারি সিস্টেম। অর্থাৎ পারমাণবিক বোমা বহনকারী ক্যারিয়ার। সেটা জঙ্গি বিমানও হতে পারে, আবার ক্ষেপণাস্ত্রও হতে পারে। ক্যারিয়ারের দিক দিয়ে পাকিস্তান পেছনে। আমার কাছে পাকিস্তান এবং ভারতের সামরিক শক্তির বিস্তাারিত ও খুটিনাটি পরিসংখ্যান রয়েছে। হিসেব করে দেখেছি, ভারতের এটি যতই অন্যায় যুদ্ধ হোক, পাশবিক শক্তির আগ্রাসন হোক, চূড়ান্ত পরিণামে পাকিস্তান সেই যুদ্ধে টিকে থাকতে পারবে না। তাই পাকিস্তান সেই যুদ্ধে ঝুঁকি নেবে না। পাকিস্তানের চেষ্টা হবে কূটনৈতিক পথে যুদ্ধের ঝুঁকি পরিহার করা।
॥দুই॥
১৪ ফেব্রুয়ারি যেসব কাশ্মীরী গেরিলা ভারতীয় সেনা কনভয়ের ওপর হামলা করে ৪৪ জনকে হত্যা করেছে তাদেরকে জঙ্গি বলা হচ্ছে। আসলে এরা কি সত্যিই জঙ্গি? আসলে এরা কারা? এরা হলেন  কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী।
২০০১ সালে আমেরিকা স্বাধীন আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটি দখল করে নেয়। আজ ১৮ বছর হলো দেশটি তারা দখল করে আছে। স্বাভাবিকভাবেই পদানত আফগানরা আমেরিকার দখলদারিত্ব থেকে মুক্তি চায়। এজন্য তারা স্বাধীনতা সংগ্রাম বা মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছে। আর আজ সেই থেকেই স্বাধীনতা যুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধকে জঙ্গি নামে কলঙ্কিত করা হচ্ছে। এক মেরুর বিশ্বে (Unipolar World) আমেরিকা একমাত্র পরাশক্তি হওয়ার পর বিশ^ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। মূল্যবোধ সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি থেকে সত্য, ন্যায় ও নীতিনিষ্ঠতা উধাও হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে সন্ত্রাস। স্বাধীনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম হয়েছে উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদ। গায়ের জোরে পররাজ্য দখল হয়েছে জনগণের মুক্তি। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গণহত্যা হয়েছে জঙ্গি নির্মূল। সেজন্যই কাশ্মীরের মুক্তিযোদ্ধারা ছাপার অক্ষরে আমাদের কাছে আসে ‘সন্ত্রাসী’ হয়ে। ইসলামী বিপ্লবীরা হয়ে ওঠে ইসলামী বা ‘মুসলিম মিলিট্যান্ট’ বা ‘জঙ্গি’ হয়ে। ভারতের দললদার বাহিনী আমাদের কাছে  চিত্রিত হয় ‘সরকারি বাহিনী’ হিসাবে, মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর তাদের বর্বর নির্যাতন অঙ্কিত হয় ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান’ বা ‘সন্ত্রাস দমন অভিযান’ হিসাবে।
॥তিন॥
বাংলাদেশের মানুষ স্বাধিকার দাবি করায় পাকিস্তান আর্মি কর্তৃক ১৯৭১ সালে নির্যাতিত হয়েছিলেন এবং প্রায়  ১ কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তখন তারা স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা চান। ভারত আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিল, সংক্ষিপ্ত সামরিক ট্রেনিং দিয়েছিল এবং হাতিয়ার হাতে তুলে দিয়েছিল। ভারতের ট্রেনিং এবং হাতিয়ার নিয়েই বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। সেদিন কিন্তু কেউ বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে জঙ্গি বলেনি। আজ কাশ্মীরের ৮৫ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৮১ লক্ষই স্বাধীনতার আওয়াজ তুলেছেন। তাদের ওপর নেমে এসেছে ভারতীয় বাহিনীর অকথ্য নির্যাতন। তারা পাশর্^বতী আজাদ কাশ্মীরে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং সেখান থেকে অস্ত্র নিয়ে কাশ্মীরকে স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেন। এরা তাই মুক্তিযোদ্ধা। উর্দুতে তাদেরকে বলা হয় মুজাহিদ বা মুজাহিদিন।  অথচ তাদেরকে বলা হচ্ছে জঙ্গি। বাংলাদেশে পাকিস্তান বলতো যে তারা দুষ্কৃতিকারীগণকে (মুক্তিযোদ্ধাগণকে) নির্মূল করছে। ভারতীয় বাহিনীও বলছে যে তারা জঙ্গিদেরকে নির্মূল করছে। আমার আফসোস লাগে যখন টেলিভিশনের টকশোতে ভাইস চ্যান্সেলরের পদমর্যাদায় আসীন ব্যক্তিরাও কাশ্মীরের মুক্তিযোদ্ধা বা মুজাহিদকে বলেন জঙ্গি এবং বলেন যে, ভারতীয় বিমান বাহিনী পাকিস্তানে হামলা করে সঠিক কাজ করেছে। কারণ পাকিস্তানের এবং সেই জঙ্গিদের শাস্তির দরকার ছিল। ভারত প্রেমী হওয়ারও একটি সীমা আছে। কিন্তু এরা যা বলছেন এবং করছেন সেটি ভারতের নির্লজ্জ দালালি ছাড়া আর কিছুই নয়।
এরা শুধু বর্তমানের কথাই বলেন। ভারতের ৪৪ জন সৈন্য মারা গেছে। তার জন্য তারা অশ্রুপাত করে এবং বলে যে, যারা ঐ ৪৪ জন ভারতীয় সৈন্যকে হত্যা করেছে তাদেরকে হত্যা করা উচিত এবং যারা তাদেরকে মদদ যোগাচ্ছে অর্থাৎ পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষ তাদেরকেও উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া উচিত। এরা কিন্তু বেমালুম ভুলে যায় যে এই কাশ্মীরেই  ভারতীয় সৈন্যরা এ পর্যন্ত লক্ষাধিক কাশ্মীরী যুবককে হত্যা করেছে। এদের এক মাত্র অপরাধ, ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন আইন অনুযায়ী তারা স্বাধীনতা চেয়েছে। যে লক্ষাধিক কাশ্মীরীকে ভারতীয় সৈন্যরা হত্যা করেছে তাদের জন্য বাংলাদেশের এসব ভারত প্রেমীদের দরদ নাই। তাদের সমস্ত দরদ শুধু মাত্র ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য।
কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের এই রক্তক্ষয়ী লড়াই সম্পর্কে জানতে হলে কাশ্মীরের বর্তমান ভৌগোলিক অবস্থান এবং ৭০ বছরের পেছনের ইতিহাস জানতে হবে।
 বর্তমানে কাশ্মীর তিনটি দেশের অধীনে রয়েছে। এগুলো হলো
(১) গণচীনের অধীনে
(ক) আকসাই চীন (খ) ট্রান্স কারাকোরাম।
(২) পাকিস্তানের অধীনে
(ক) আজাদ কাশ্মীর (খ) গিলগিট ও বালিস্তান।
(৩) ভারতের অধীনে
(ক) কাশ্মীর উপত্যকা (খ) জম্মু এবং (গ) লাদাখ।
এই তিন দেশের অধীনে অবস্থিত কাশ্মীরের সম্মিলিত জনসংখ্যা ১ কোটি ৪০ লক্ষ।
আজাদ কাশ্মীর এবং গিলগিট ও বালিস্তানের অধিবাসীদের ১০০ ভাগই মুসলমান। এখানে কোনো বিরোধ নাই। চীনের অধীনে যে দুটি এলাকা অবস্থিত সেখানেও কোনো বিরোধ নাই। ভারত অধিকৃত লাদাখের জনসংখ্যা ৩ লক্ষ। অধিকাংশই বৌদ্ধ। এটি নিয়ে কোনো বিরোধ নাই। থাকলেও সেটি আছে চীনের সাথে। জম্মুর ৬ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৮১ শতাংশই হিন্দু। সুতরাং তারা যদি ভারতের সাথে থেকে যায় তাহলেও মনে হয় বড় কোনো বিরোধ হবে না।
॥ চার॥
সমস্যা হলো কাশ্মীর নিয়ে, যেটিকে আন্তর্জাতিকভাবে বলা হয় কাশ্মীর উপত্যকা। এর জনসংখ্যা ৮৬ লাখ। তাদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ অর্থাৎ ৮১ লাখই মুসলমান। এরা ৪৭ সালের ভারত বিভক্তির পর থেকেই পাকিস্তানের সাথে যোগদান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভারত সামরিক শক্তিবলে দেশটি দখল করে রেখেছে। এই অঞ্চলটি নিয়ে, অর্থাৎ কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সাথে পাকিস্তানের দুই বার সর্বাত্মক যুদ্ধ হয়েছে। তৃতীয় যুদ্ধটি হয়েছে বাংলাদেশ নিয়ে। আগের দুইটি যুদ্ধে জাতিসংঘ হস্তক্ষেপ করে এবং আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স প্রভৃতি দেশের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বিরতি হয়। যুদ্ধ বিরতিতে সাব্যস্ত হয় যে জম্মু এবং কাশ্মীরে গণভোট হবে। গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠরা পাকিস্তানে যোগদান করতে চাইলে পাকিস্তানে যোগ দেবে, ভারতে যোগদান করতে চাইলে ভারতে যোগ দেবে আর স্বাধীন থাকতে চাইলে স্বাধীন হবে। ভারতও গণভোটের প্রস্তাব মেনে নেয়।
কিন্তু যতই দিন যায় ততই ভারত সামরিক শক্তিতে বলীয়ান হতে থাকে। কাশ্মীরীরা গণভোটের দাবিতে রাস্তায় নেমে এলে ভারতীয় সামরিক বাহিনী নৃশংস হামলা করে। কিন্তু কাশ্মীরীদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার তথা গণভোটের দাবিকে স্তব্ধ করতে পারে না। এপযন্ত ১ লক্ষের ও বেশি কাশ্মীরী ভারতীয় বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু তাদেরকে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করার কেউ নেই বলে তারা আজও স্বাধীনতা পাননি। তাই বলে শত নির্যাতন সত্ত্বেও তারা ভারতের পদানত থাকতে রাজি হননি। আজ ৭০ বছর হলো কাশ্মীরীদের স্বাধীনতার লড়াই চলছে। ভারতের ১৩ লাখ সৈন্য সজ্জিত বিশাল সামরিক বাহিনীর সাথে কুলিয়ে উঠতে না পেরে স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরীরা গেরিলা যুদ্ধের আশ্রয় নিয়েছেন। আর এই গেরিলাদেরকেই বলা হচ্ছে জঙ্গি। আর স্বাধীনতাকামী গেরিলাদেরকে জঙ্গি বদনাম দিয়ে ভারতীয় বাহিনী নির্বিচারে তাদেরকে হত্যা করছে।
কাশ্মীরের ৮৬ লাখ অধিবাসীর মধ্যে যে ৮১ লাখ মুসলিম কাশ্মীরী রয়েছেন তাদের একজনও চান না ভারতের অধীনে থাকতে, যেমন ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির মধ্যে ৭ কোটিই চাইতেন না পাকিস্তানের অধীনে থাকতে। বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছে, কিন্তু কাশ্মীরীরা স্বাধীনতা পাননি। আগামী এপ্রিল মাসে ভারতের সাধারণ নির্বাচন। নরেন্দ্র মোদি তথা বিজেপির নির্বাচনে জয়লাভ অনিশ্চিত। কিন্তু কাশ্মীর নিয়ে ভারতের রয়েছে গভীর আবেগ এবং সেন্টিমেন্ট। তেমনি একই বিষয়ে পাকিস্তানীদেরও রয়েছে গভীর আবেগ এবং সেন্টিমেন্ট।
তাই এখন যদি ভারত সামরিকভাবে পাকিস্তানের ওপর এক হাত নিতে পারে তাহলে সেটি আগামী নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির জন্য হবে একটি বিরাট প্লাস পয়েন্ট। এজন্যই ভারতীয় হামলা।
এই পটভূমিতে আমি মনে করি যে আরও দুই একটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হলেও হতে পারে। কিন্তু সর্বাত্মক যুদ্ধ বাধবে না। যুদ্ধের দামামা আপতত আর বাজবে না।
mail: asifarsalan15@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ