ঢাকা, সোমবার 4 March 2019, ২০ ফাল্গুন ১৪২৫, ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ফেব্রুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান: ফেব্রুয়ারি মাসের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-উত্তর নানা বিতর্ক, একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন এবং চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকা- ছিল উল্লেখ্যযোগ্য রাজনৈতিক ঘটনা। ফেব্রুয়ারি মাসে ৬৩টি রাজনৈতিক ঘটনার তথ্যে খুনের সংখ্যা ৬। এই ৬ জনের ৫ জনই খুন হয় আওয়ামী লীগের হাতে এবং ছাত্রলীগের হাতে ১ জন। এ মাসে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় প্রাপ্ত তথ্যে আহত হয় ২০৯ জন এবং গ্রেফতার অনেক বেশী হলেও ২৫৪ জনের তথ্য পাওয়া গেছে বাকীদের পরিচয় প্রকাশিত হয়নি, গ্রেফতারকৃতরা অধিকাংশই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং দ-প্রাপ্ত ২১ জন, এই ২১ জনের আওয়ামী লীগের ২, ছাত্রলীগের ৬ এবং বিএনপির ১৩ জন। 

প্রাপ্ত তথ্যে ফেব্রুয়ারি মাসে যারা খুন হয়- (১) কিশোরগঞ্জে অষ্টগ্রামে নিজ স্ত্রী লিপি রাণী দেবকে হত্যা করে উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মানিক কুমার দেব, (২) যশোরের চৌগাছায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে যুবলীগ নেতা আব্দুল বারিক খুন, (৩) কক্সবাজারের পেকুয়ায় ওয়াকফ এস্টেটের জমি নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নেজাম উদ্দিন ও (৪) আজিজুল হক খুন হয়, (৫) জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে যুবলীগ কর্মী আব্দুল খালেক খুন হয় এবং (৬) সিলেটের আম্বরখানায় ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে সাহেদ আহমেদ খুন হয়। 

আওয়ামী লীগ : ৪ ফেব্রুয়ারি যশোরের চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফুলসারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারী প্রকল্প দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া, সরকারী ঘর, বিদ্যুৎ মিটার স্থাপন বা সামজিক সুরক্ষার বিভিন্ন ভাতার নামে প্রতারণা করে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি শেরপুরের নলিতাবাড়ীতে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে রূপনারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ হোসেন গ্রুপ ও মোখছেদুর রহমান গ্রুপের মধ্যে কোন্দলে এই ঘটনা ঘটে। ৯ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর দূর্গাপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। উপজেলা সভাপতি নজরুল ইসলাম গ্রুপ ও উপজেলা সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ সরদার গ্রুপের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। 

১০ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবে যুদ্ধাপরাধ মামলা থেকে খালাশ করে দেয়া লোভ দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ফয়েজ আমিন রাসেল ছেচল্লিশ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে বলে ক্ষতিগ্রস্ত আবুল খায়েরের স্ত্রী মিনারা বেগম সাংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন। বরিশালের উজিরপুরে আওয়ামী লীগ নেতা বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু হত্যা মামলার আওয়ামী লীগ নেতা কাজী হুমায়ুন কবীর, জালাল মল্লিক ও মঞ্জু খান আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠায়। 

১৪ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে টেন্ডার নিয়ে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষ হয়। সিদ্ধিরগঞ্জ চিত্তরঞ্জন খেয়াঘাটে আওয়ামী লীগ নেতা মনির মাদবর গ্রুপ ও যুবলীগ নেতা আব্দুল হালিম সিকদার গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে উপজেলা পরিষদ ভাইস-চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মানিক কুমার দেব নিজ স্ত্রী লিপি রাণী দেবকে হত্যার পর স্পিড বোটে করে লাশ শশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল ইসলামকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী দুই বছরের কারাদ- দেয়। উল্লেখ্য, রবিউল ইসলাম এর আগে একটি হত্যা মামলায় ফাঁসির দ-প্রাপ্ত হয়, কিন্তু রাজনৈতিক বিবেচনায় রাষ্ট্রপতির অনুকম্পায় তিনি কারামুক্ত হন। 

১৭ ফেব্রুয়ারি যশোরের চৌগাছায় চারাবাড়ি গ্রামে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে প্রতিপক্ষের হামলায় ফুলসারা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারিক নামে এক নেতা খুন ও তার ভাই আনিসুর রহমান আহত হয়। নান্নু, জুলু ও আরিফসহ কয়েকজন হামলায় অংশ নেয়। নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ দক্ষিণ নলুয়া জামে মসজিদের টাকা ও কমিটি গঠন নিয়ে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ২৫ জন আহত হয়। পুলিশ ২২ জনকে আটক করলেও অজ্ঞাত কারনে ছেড়ে দেয়। যুবলীগ নেতা মজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতা কবির হোসেন গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। 

১৮ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার ধুনটে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৪ জন। নাটোরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে দলীয় কোন্দলে ছাত্রলীগ নেতা কামরুল   

সরকার প্রতিপক্ষের হাতে আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম ও আদেশ আলী গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বে এই ঘটনা ঘটে। ২১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদাহের শৈলকুপায় গোবিন্দপুর গ্রামে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ ও ১৫টি বাড়ী-ঘর ভাংচুর করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতা মোনায়েম হোসেন গ্রুপ ও গোলাম কিবরিয়া গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে তোতা ম-ল ও স্মৃতি খাতুনসহ ১০ জন আহত হয়। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে মোনায়েম হোসেন মেম্বার, শহীদুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম ও সোহাগকে আটক করে। ২২ ফেব্রুয়ারি বান্দরবনের নাইক্ষ্যাংছড়ি হাসপাতাল রোডে উপজেলা যুবলীগ সহ-সভাপতি নাজমুল হাসানকে পেটাল আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল্লাহ। ২৬ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে চন্ডিপুর গ্রামের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মিন্টুর নির্দেশে রানী বেগমকে বেঁধে বেদম মারপিট করা হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের পেকুয়ায় বিলাহাচুরা গ্রামের ওয়াকফ এস্টেটের জমি নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের গোলাগুলি ও সংঘর্ষে নিজাম উদ্দিন এবং আজিজুল হক নিহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা মমতাজ ইসলাম গ্রুপ ও আলমগীর হোসেন গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষে ১৫ আহত হয়। পুলিশ ১১ জনকে আটক করে। মাগুরার মোহাম্মদপুরের খলিশাখালী গ্রামে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে শিমুল, আবু তালেব, শাহজাহান, আজাদ, হিরু মোল্লা, ওবায়দুর রহমান, রজব আলী, তোতা মিয়া, আকাশ ও শামসুন্নাহারসহ ২০ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা দাউদ বিশ্বাস ও স্বপন বিশ্বাস গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষে ৩০টি বাড়ী-ঘর ভাংচুর করা হয়। 

২৫ ফেব্রুয়ারি নাটোরের গুরুদাসপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে দাদুয়া গ্রামে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আজিজুল, উজ্জ্বল, কিরণ, বিউটি খানম ও শাহনাজ বেগম আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম গ্রুপ ও আনোয়ার হোসেন গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। রাজবাড়ীর কালুখালীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজানুর রহমান মজনুর বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের গাছ কাটা, প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও ঘুষ আদায়ের অভিযোগের ৩০ জন ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার এক যোগে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করে। ২৬ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম সুমন আহত হয়। করিমগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধূরী মামুনের নেতৃত্ব এ হামলা চালান হয়। এ সময় গাড়ী ভাংচুর করা হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনার পূর্বধলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও এমপি ওয়াসোত হোসেন বেলালকে উপজেলা নির্বাচনী কার্যক্রমে বিরত থাকা এবং এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মোহতাসিম। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ২০১৬ বিধির ২২(১) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে এ নোটিশ দেয়া হয়। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে যুবলীগ কর্মী ও দেওয়ানগঞ্জ এ.কে মেমোরিয়াল কলেজের সাবেক জিএস আব্দুল খালেক নিহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা সোলায়মান হোসেন গ্রুপ ও আবুল কালাম আজাদ গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষে ১৫ আহত হয়। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে ৫ জনকে আটক করে। ২৮ ফেব্রুয়ারি রংপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী নাছিমা জামান ববির ওপর হামলা করে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী ডাঃ দেলোয়ার হোসেনের লোকজন। 

ছাত্র লীগ : ১ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মতিহার হলে অনাবাসিক ছাত্র ছাত্রলীগ কর্মী জনি মিয়াকে হলের ১২০নং কক্ষ থেকে বের করে দেয়ায় পর কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয় ছাত্রলীগ হল ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। ২ ফেব্রুয়ারি সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সময় সশস্ত্র মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। শাবি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান গ্রুপ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ হোসেন রনি গ্রুপের মধ্যে বঙ্গবন্ধু হলে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেম ঘটিত বিষয় নিয়ে হেলমেট পরিহিত ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষ। ছাত্রলীগ জবি সভাপতি তরিকুল ইসলাম গ্রুপ ও সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদীন রাসেল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে আ.স.ম আইউব তুহীন, মেহেদী হাসান নয়ন, রিফাত তুহীন, খালিদ মাহমুদ, শামসুল হুদা গাজী, মামুন, মাহফুজ, প্রান্ত, রেজওয়ান, ইশরাক চৌধুরী ও নোমানসহ ১৫ জন আহত হয়। ঘটনায় জবি কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগ নেতা শাহরিয়ার রহমান শান্ত, তৌহিদুল ইসলাম তুহীন, মেহেদী হাসান ও আব্দুল্লাহ আল রিফাতকে বহিষ্কার করে। বরগুনার বামনায় আব্দুল জব্বার খান হত্যা মামলার আসামী ছাত্রলীগ জেলা সহ-সভাপতি হেমায়েত হোসেন মোল্লা মানবজমিন জেলা প্রাতনিধি মিজানুর রহমান টিপুর ওপর হামলা করে। গত ২০১৪ সালে ডিসি অফিসের স্পিডবোট চালক আব্দুল জব্বার খান হত্যা হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ হয়। ওই ঘটনার জেরে এই হামলা চালান হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহবায়ক হাসান আল-মামুন ছাত্রলীগের হাতে কেন্দ্রীয় লাইব্রারীর সামনে হামলার স্বীকার হন। 

৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে খাবারের প্যাকেট নিয়ে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২ জন। এ সময় তারা অধ্যক্ষের রুমের চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে। ৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ সিক্সটি নাইন গ্রুপ ও চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার কর্মীরা শোলশহরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে একজন আহত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে ‘জিয়া স্মৃতি যাদুঘর’ থেকে জিয়ার নাম ফলকে কালি মারে ছাত্রলীগ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদুল্যাহ কলা ভবনের সামনে সন্ধায় এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে ছাত্রলীগ কর্মী মানিক। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এ ঘটনা ঘটায় মানিক। ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণে ১০ জন আহত হয়। ছাত্রলীগ জাবি সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান রাসেল গ্রুপ ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এস.এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষে প্রক্টর ফিরোজ উল-হাসান, ছাত্রলীগ কর্মী সাজ্জাদ, বাহার, মোস্তফা, উৎস ও রনিসহ ১০ জন আহত হয়। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে ছাত্রলীগ কর্মী মোস্তাফিজুর রহমান পিয়াসকে বহিস্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির সন্দেহে সাইফুল্লাহ খালেদ নামে এক ছাত্রকে কলার ঝুপড়ির সামনে মাথা ফাটিয়ে দেয় ছাত্রলীগ সিক্সটি নাইন গ্রুপ। [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ