ঢাকা, সোমবার 4 March 2019, ২০ ফাল্গুন ১৪২৫, ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

হুরাসাগরের বুক জুড়ে ধান চাষ

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) হুরাসাগরের বুকে ধান চাষ হচ্ছে।

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: শীতকাল শেষ ও শুকনো মৌসুমের শুরু না হতেই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের নদ-নদী গুলো পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। নাব্যতা হারানো এক সময়ের খর¯্রােতা  হুরাসাগর নদীর বুক জুড়ে চলছে ইরি-বোরো আবাদ। এটাই এখন প্রাচীণ নদী হুরাসাগরের বর্তমান অবস্থা। অথচ নিকট অতীতেও সারা বছর না হলেও ছয় মাস পানি বুকে ধারন করতো হুরাসাগর নদী। আর দূর অতীতে সারা বছরই পানিতে ভাসতো তার ঐতিহ্য  নিয়ে। মালবাহী নৌকাগুলো গুনটেনে এগিয়ে যেত।  সেসব এখন শুধুই লেখার গল্প। এখনকার গল্প হলো নদীতো আছে, পানি নেই। নৌযান চলাচল পৌষের শুরুতেই বন্ধ হয়ে গেছে। নদী বুক চিতিয়ে দিয়েছে নরম পলিমাটিতে। তবে কথায় আছে, নদী মরলেও তার রেখা থাকে। সেই রেখাচিত্রটি আছে বৈকি। অবশ্য সেটা চোখ বড় করে দেখতে হয়। করতোয়া নদীর কয়েকটি পয়েন্ট থেকে হুরাসাগরের শাখা প্রশাখা যমুনা অববাহিকায় পতিত হয়েছে। এখন বর্ষাকালে শুধু ৩ মাস পানিতে টইটুম্বুর হয়ে যৌবন ধরে রাখে হুরাসাগর নদী। সেই ভরানদী এখনই পানিহীন হয়ে পড়েছে। নদীপাড়ের কৃষকরা এখন রোপণ করছেন বোরো ধানের চারা। নদীতে জোয়ার আসা দেরী হলে চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে তারা এই ধান কেটে ঘরে তুলবেন। জোয়ার যদি আগে চলে আসে তাহলে ধানগুলো তলিয়ে যাবে জোয়ারের পানিতে। তবুও প্রতিবারের মতো হুরাসাগর নদী পাড়ের কৃষকরা নদী বুকে বোরো ধান রোপণ করছেন। নদীর বুক জুড়ে শোভা পাচ্ছে সবুজ ধানক্ষেত। হুরাসাগর নদীর একভাগ যমুনা নদীর গুধিবাড়ী থেকে  ১০ কিঃমিঃ পশ্চিমে রতকান্দী হাটখোলা নামক স্থানে বড়ালের বড়াল ও করতোয়ার সাথে মিশে বড়াল নামে চলে গেছে বাঘাবাড়ী পর্যন্ত। করতোয়ার নগরডালা পয়েন্ট থেকে মিলিত হয়ে হুরাসাগর নাম নিয়ে  ডায়া - চরকৈজুরী যমুনায় গিয়ে পড়েছে।  নদীর নাব্যতা হারানোয় অনেকস্থান থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে অসাধুমহল। তবে সম্প্রতি নদীটি খননের প্রকল্প পাশ হয়েছে। নদীটি খনন করে পানির প্রবাহ ফিরে পেলে নবযৌবন ফিরে পাবে হুরাসাগর এ প্রত্যাশা এ অঞ্চলের লাখো মানুষের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ