ঢাকা, মঙ্গলবার 5 March 2019, ২১ ফাল্গুন ১৪২৫, ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ পুলিশ হত্যা ও সোনারগাঁওয়ে কালু হত্যা মামলায় ৬ জন গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পুলিশ সদস্য হত্যা মামলার পলাতক আসামী আব্দুল মান্নান ও মাসুদ এবং সোনারগাঁওয়ে আমিনুল ইসলাম কালু হত্যা মামলার আসামী নিহতের স্ত্রী রিক্তা বেগম, মাসুম ও ইমরানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ হত্যা মামলার আসামীদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে। আর কালু হত্যা মামলার আসামীরা আদালতে স্বীকারোক্তি মুলকজবানবন্ধি দিয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিং এ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ এতথ্য জানান।
পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, গত বছরের ২১ নভেম্বর সকালে রূপগঞ্জের মাহনা গ্রামে এক দল সন্ত্রাসী জনৈক মনোয়ারা বেগমের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্রদিয়ে মনোয়ারের ছেলে রাজু ও ছুটিতে বাড়িতে আসা প্রতিবেশী পুলিশ কনস্টেবল রাসেলকে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে ঘটনারদিন রাজু এবং সাতদিন পর কনস্টেবল রাসেল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এঘটনায় মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় আব্দুল মান্নান ও মাসুদসহ ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে আসামীরা পলাতক ছিল। রবিবার রাতে নরসিংদীর মাদবদী থেকে মূল আসামী আসামী আব্দুল মান্নান ও মাসুদকে গ্রেফতার করেছে।
অপরদিকে গত ২ মার্চ সোনারগাঁওয়ের কাপুর্দী এলাকায় ব্রক্ষ্মপুত্র নদের তীর থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় পাওয়া যায়। নিহত যুবকের নাম আমিনুল ইসলাম কালু। স্ত্রী রিক্তা বেগম এবং তার পরকীয়া প্রেমিক রেজাউল করীম পলাশ, সহযোগী মাসুম ও ইমরানকে পুলিশ গ্রেফতার করে রবিবার রাতে। গ্রেফতাকৃতদের উদ্বৃতি দিয়ে পুলিশ জানায় স্ত্রী রিক্তার পরকীয়ায় বাঁধা হয়ে দাঁড়ালে কালুকে হত্যা করা হয়।
সোমবার কালু হত্যা মামলার আসামীরা আদালতে ১৬৪ ধারা মতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্ধি দিয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর সকাল ১০ টায় জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন মাহনাস্থ জনৈক মনোয়ারা বেগম এর জামাতা মনির হোসেন এর বাড়িতে আসামী আব্দুল মান্নান (৪৪) মাসুদ (২৬) সহ আরো ৫০-৬০জন আসামী দেশী অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনী জনতাবদ্ধে অনধিকার প্রবেশ করে খুন করার উদ্দেশ্যে মারপিট করে। এতে মনোয়ারা বেগম এর ছেলে রাজু (৩০) ও রাসেল(৩৫)কে গলার বাম পার্শ্বে, বুকের ডান পার্শ্বে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এক পর্যায়ে উপস্থিত লোকজন গুরুতর রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার পূর্বক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনার সাত দিন পর পুলিশ সদস্য রাসেল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ সংক্রান্তে মৃত রাজুর মায়ের অভিযোগে রূপগঞ্জ থানার মামলা নং-৫৮, তারিখ- ২২/১১/২০১৮ খ্রিঃ, ধারা-১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩২৩/ ৩২৬/৩০৭/৩৮০/৩৫৪/৪২৭/৫০৬ দঃবিঃ রুজু হয়। পরে আদালতে মামলার তদন্তকারি অফিসার আবেদনের প্রেক্ষিতে হত্যা মামলার ধারা-৩০২/৩৪ দঃবিঃ সংযোজন করা হয়। নিহত রাসেল পিতা মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধ আজাহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন। তার কর্মরত ইউনিট ছিল ঢাকা এসবি। ঘটনার পূর্বে সে ছুটিতে বাড়িতে থাকাবস্থায় উল্লিখিত আসামীরা হামলা করে কুপিয়ে হত্যা করে।
 মামলাটি র্স্পশকাতর বিধায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) নারায়ণগঞ্জ জেলা যোগদানের পর মামলাটি জেলা ডিবিতে নিয়ে আসেন।
ডিবির পুলিশ পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে নরসিংদী জেলার মাধবদী থানাধীন মাধবদী বাজার হতে এজাহারনামীয় মূল আসামী আঃ মান্নান (৪৬), পিতা-মৃত ছাত্তার এবং মাসুদ (২৬), পিতা-দুলাল, উভয় সাং- মাহনা, সাং-মাহনা, থানা-রূপগঞ্জকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় পুলিশ সদস্য রাসেল (ভিকটিম)কে কুপিয়ে হত্যা করেছে মর্মে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃতদের দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করেছে।
সোনারগাঁও থানার মামলার বিবরণে প্রকাশ, গত ২ মার্চ সকাল ৯ টায় সোনারগাঁও থানা পুলিশ সংবাদ পায় থানাধীন কার্পুদী সাকিনস্থ ব্রক্ষপূত্র নদীর পাড়ে ফাঁকা জায়গায় একটি অজ্ঞাতনামা পুরুষের গলাকাটা লাশ পড়ে আছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। অজ্ঞাতনামা (পুরুষ) লাশের পরিচয় জানার জন্য সোনারগাঁও থানা পুলিশ অনলাইন মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়া ও পত্রিকার মাধ্যমে পরিচয় জানা চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে উক্ত অজ্ঞাতনামা লাশের বড় ভাই মোঃ শামসুল হক মৃত ব্যক্তির নাম আমিনুল ইসলাম ওরফে কালু (২৫), পিতা-মৃত আজমত মিয়া, গ্রাম-এনায়েত নগর, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ বলে লাশ সনাক্ত করেন। এ সংক্রান্তে মৃতের ভাই মোঃ শামসুল হক অজ্ঞাতনামা আসামী করে লিখিত এজাহার দায়ের করলে সোনারগাঁ থানার মামলা নং-০৮, তারিখ-০৩/০৩/২০১৯ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ রুজু করেন।
সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান নিজেই উক্ত মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একাধিক টিম সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত চারকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, মৃত আমিনুল ইসলাম ওরফে কালু এর স্ত্রী মোসাঃ রিক্তা বেগম(২৫) এর সাথে তাদের বাসায় ভাড়াটিয়া আসামী রেজাউল করিম পলাশ (৩০) এর সাথে পরকীয়া প্রেমের জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামী রেজাউল করিম পলাশ ও মৃতের স্ত্রী- রিক্তা বেগম(২৫) পরামর্শ করে সহযোগী আসামী মাসুম(২৭) ও ইমরান(২৩)দের নিয়ে গত ১ মার্চ সন্ধ্যা অনুমান ৬ টায় বাড়ি হতে ডেকে এনে রাত্র অনুমান সাড়ে ৮ টায় ওই ঘটনাস্থলে ধারালো অস্ত্র (চাকু) দিয়া গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে চলে যায়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের হেফাজত থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা কালু হত্যা করার ঘটনার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ