ঢাকা, মঙ্গলবার 5 March 2019, ২১ ফাল্গুন ১৪২৫, ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

যুদ্ধাপরাধ করে চলেছে ইসরাইল

ইসরাইল নামক রাষ্ট্রের আগ্রাসন ও অপকর্ম সম্পর্কে বিশ্ববাসী অবহিত আছে। খ্যাতনামা ব্রিটিশ সাংবাদিক আমাদের জানালেন, সাম্প্রতিক পাক-ভারত উত্তেজনার পেছনেও বড় ভূমিকা পালন করেছে ইসরাইল। এই রাষ্ট্রটির আমলনামা মোটেও ভাল নয়। ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করে চলেছে অব্যাহতভাবে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভ দমনের নামে ২০১৮ সালে প্রায় ২শ’ ফিলিস্তিনীকে হত্যা করেছে ইসরাইল। জাতিসংঘ মনে করে, এসব ফিলিস্তিনীকে হত্যার দায়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা যেতে পারে। এমন অনেককে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী গুলী করেছে যারা স্পষ্টতই সহিংসতায় জড়িত নয়। এদের মধ্যে যেমন রয়েছে শিশু, তেমন রয়েছে চিকিৎসা কর্মী ও সাংবাদিক। ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি ৩শ’ জনেরও বেশি ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার এবং ড্রোনের ফুটেজসহ প্রায় আট হাজার প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।
উল্লেখ্য যে, গাজাতে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনীর বসবাস। এদের বেশির ভাগই ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ওই স্থান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া মানুষদের উত্তরসূরি। ইসরাইলের দখলদারিত্বের অবসান ও ইসরাইলে থাকা পূর্বপুরুষদের ঘর-বাড়ি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ২০১৮ সালের ৩০ মার্চ থেকে ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ কর্মসূচি শুরু করে ফিলিস্তিনীরা। এর অংশ হিসেবে ইসরাইল সীমান্তে প্রতি সপ্তাহে আয়োজিত হতে থাকে বিক্ষোভ কর্মসূচি।
জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইসরাইলী নিরাপত্তা বাহিনীর কারণে এমন অনেক ফিলিস্তিনী হত্যার শিকার হয়েছেন বা পঙ্গুত্ব করন করেছেন যাদেরকে গুলী করার সময় তারা কারও নিশ্চিত মৃত্যুর বা কাউকে গুরুতরভাবে আহত করার ঝুঁকি  তৈরি করছিল না বা সরাসরি সহিংসতায় যুক্ত ছিলেন না।’ গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮৯ জন ফিলিস্তিনী। এদের মধ্যে ১৮৩ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী ইসরাইলের নিরাপত্তা বাহিনী। আর বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ৬ হাজার ১০৬ জন গুলীবিদ্ধ হয়েছে সরাসরি। জাতিসংঘ তো ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী কাজের অভিযোগ এনেছে, কিন্তু এইসব অপরাধের বিচার করবে কে? জাতিসংঘ পারবে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ