ঢাকা, বৃহস্পতিবার 7 March 2019, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৫, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কলাপাড়ায় বৃষ্টির জন্য ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

 

এইচ, এম, হুমায়ুনকবির কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ২২৫০হেক্টর জমি তরমুজ চাষাবাদ করা হয়। কিন্তু দফাদফা অসময়ের অতিবৃষ্টি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তরমুজ চাষিরা। তরমুজের পাশাপাশি বিভিন্ন মওসুমি ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ফল কিছু আসছে এবং কিছু আসার আগ মুহুর্তে এ অবস্থায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ছেন কয়েক হাজার কৃষক। ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ৭০ শতাংশ কৃষক। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকেরা কোথায় জমির পানি অপসরন করছেন। এ চিত্র ছিল সর্বত্র। গত ২৫,২৬ ফেব্রয়ারী বসন্তের শুরুতেই হটাৎ মওসুমের প্রথম বৃষ্টি রবিশস্যের জন্য কিছুটা উপকারী হলে ও আবার গতকাল সোম ও মঙ্গলবারের দুই দিনের টানা বৃষ্টির পানিতে ২টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষকের স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। কয়েক দিন আগেও মাঠের দিকে তাকালে শুধু সবুজের সমারোহ ছিল। কিন্তু সেই সবুজ মাঠের মধ্যে এখন শুধুই পানি আর পানি। যে ফসলকে ঘিরে কৃষকের চোখে ছিল স্বপ্ন আজ সেই স্বপ্ন ভেঙে এখন তারা দিশাহারা। কৃষকদের অভিযোগ মাঠের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত খালে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণের ফলে পানি আটকে থাকায় খালের পানিই ফিরে আসছে তাদের আবাদি জমিতে। ক্ষেত থেকে পানি সরানোর জন্য কৃষক গামলা-জের দিয়ে পানি হেচার জন্য দিন-রাত আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ বা আবার পানি নিষ্কাশনের জন্য ক্ষেত থেকে লাইন কেটে পাশের খালের সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় তরমুজ বাম্পার হবে কৃষকদের মুখে হাসি ও ফুটেছিল। কিন্তু দফাদফা অতি বৃষ্টি তাদের সর্বনাশ ডেকে এনছে। এ অবস্থায় গত কয়েক মাসের শুধু নিরলস পরিশ্রমই নয় সে সাথে চরম লোকসানের আশংকা করছেন কৃষকেরা। অধিকাংশ চাষি বাংক থেকে লোন নিয়ে তরমুজ চাষাবাদ করছে ।তবে কৃষি বিভাগ বলছে ,বৃষ্টির কারনে জলাবদ্ধাতার বৃষ্টি হলে ক্ষতির পরিমান বাড়তে পারে। তবে আপাতত কৃষদের ক্ষেত থেকে দ্রুত পানি সড়িয়ে ফেরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

কথা হয় উপজেলার ধানখালী লোন্দা গ্রামের মো.অহিদুল সাথে। তিনি জানান, এ বছর তিনি এক একর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন।এ পর্যন্ত তার প্রায় ২০ শতাংশ তরমুজের ক্ষতি হয়েছে। দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ায় খেত থেকে পানি নামছেনা। 

তারিকাটা গ্রামের তরমুজ চাষি আলামিন খাঁনের সাথে কথা হয় তিনি বলেন, গত মঙ্গলবারের টানা বর্ষেই আক্রান্ত তরমুজ ফলন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তিনি গত বছরের তরমুজে লোকসান হয়েছে। এ বছর মওসুমের শুরু থেকে বেশ ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে তার ৪০কড়া জমির তরমুজ ক্ষেত।

পশ্চিম চাপলী ও গঙ্গামতি গ্রামের- জাকির চৌকদার, কালাম মোল্লা, রাজিব বেপারী কয়েক জন কৃষক জানালেন তাদের হতাশার কথা, সব তলিয়ে গেছে। এক হাত পানির নিছে তরমুজ গাছ। গাছ লাল হয়ে গেছে। পাতা পচে শিকর নষ্ট হয়ে যাবে। গোড়ায় পানি চিকচিকে আছে। তারপরও পানি কমছে না। আমাগো গাছে ফলন ও হয়েছে। কৃষি অফিসারেরা ঔষধের নাম লিখে দিচ্ছে।

ধুলাসার ইউপি চেয়াম্যান মো.আবদুল জলিল আকন জানান, কৃষকের যে ক্ষতি হয়েছে তা খুবই হতাশাজনক। দেশের তরমুজ উৎপাদনের জেলা হিসাবে খ্যাত পটুয়াখালীর কলাপাড়া উৎপাদিত তরমুজ, খেশারি, মুগডাল, মরিচ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মন্নান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২২৫০ হেক্টর বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর প্রায় ৭০ ভাগ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া মরিচ প্রায় ৬০ ভাগ, আলুসহ সকল প্রকার ডাল ৫০ ভাগ ক্ষতি হতে পারে। যদি এভাবে বৃষ্টি আরো দুদিন অব্যাহত থাকে তবে তরমুজসহ রবি ফসল নব্বই ভাগ নষ্ট হয়ে যাবে। বিষয়টি দেখার জন্য প্রত্যেক উপ সহকারীকে কৃষি অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কৃষকে ছক্তাক নাশক ওষধ দেয়ার পরামর্শ দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ