ঢাকা, শুক্রবার 20 September 2019, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

ইবরাহীম খলিল :

আজ ৮ মার্চ শুক্রবার, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি পালিত হয় যথাযথ মর্যাদায়। পৃথিবীর কোনও অংশে এটি উদযাপনের দিন, কোথাও বা প্রতিবাদের। নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য- ‘সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো, নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো’। দিনটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ বিশিষ্টজনেরা বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করবে। 

দিনটির পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের ইতিহাস। অনেক দেশে তাই আজও দিনটি পরিচিত আন্তর্জাতিক নারী শ্রমিক দিবস হিসেবেই। ১৮৫৭ সালে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতো কারখানার নারী শ্রমিকেরা। রাষ্ট্রবিরোধী প্রতিবাদে অধিকাংশ সময়েই যেটা দেখা যায়, এক্ষেত্রেও তাই-ই হলো। সেই মিছিলে চলল সরকারি লেঠেল বাহিনীর দমনপীড়ন।

১৯০৮ সালে নিউইয়র্কে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ, জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এর পর ১৯১০-এ ডেনমার্কের কোপেনহ্যাগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি যোগ দেন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে। এখানেই প্রথম ৮ মার্চকে  আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন ক্লারা জেটকিন।

সিদ্ধান্ত হয়, ১৯১১ থেকে নারীদের সম অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে লাগল নিয়মিত। ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জ মার্চ মাসের এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পৃথিবীর অনেক দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ উপলক্ষে মার্চ মাসকে ‘নারী গ্রাহক বিশেষ সেবা মাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রয়ত্ত জনতা ব্যাংক। এ মাসে ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় নারী গ্রাহকদের সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেবা দিতে খোলা হয়েছে আলাদা কাউন্টার।

দিবসটি উপলক্ষে নেয়া কার্যক্রম যথাযথ মর্যাদায় পরিপালন নিশ্চিতে একটি অফিস আদেশও জারি করা হয়েছে, যা ব্যাংকটির সব শাখায় পাঠানো হয়েছে। শুধু নারী গ্রাহকদের নয়, এ ব্যাংকে কর্মরত নারী কর্মীদের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রতিটি শাখায় সংরক্ষিত ওয়াশরুম, টয়লেট ও বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে রয়েছে- সকাল ১০টায় ডিআরইউ চত্বরে র‌্যালি। বিকাল সাড়ে তিনটায় সাগর-রুণী মিলনায়তনে আলোচনা সভা এবং সাবেক নারী বিষয়ক সম্পাদককের সংবর্ধনা।  

এদিকে সমাজ ও পরিবারের সর্বত্র দলিত নারীরা জাতপাত ভিত্তিক বিভাজন, বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার হচ্ছে অভিযোগ করে তাদের প্রতি সকল বৈষম্য বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘দলিত নারী ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের নারীরা দীর্ঘ সংগ্রাম করলেও এখন পর্যন্ত নারীর যথাযথ মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সমাজে দলিতদের অবস্থা আরও নাজুক। নিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন ধরনের বঞ্চনা, শারীরিক নির্যাতন, অপহরণ ইত্যাদি একজন দলিত নারী এবং কিশোরীর জীবনের নির্মম বাস্তবতা। বক্তারা আরও বলেন, দলিত নারীরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাদের একটি বিরাট অংশ সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করে। তারা সমাজের বর্জ্য পরিষ্কার করে সমাজকে পরিচ্ছন্ন রাখে। কিন্তু সমাজের দলিতরাই সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হয়। অথচ বাংলাদেশের সংবিধানে সকল নাগরিকের জন্য সমান মর্যাদা, অধিকার ও সম্ভাবনা নিশ্চয়তা দেয়া আছে। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি রাধারানী, সাধারণ সম্পাদক মনি রানী দাস, দলিত নারী ফোরামের সদস্য কৈলাস, তামান্না রানী প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ