ঢাকা, মঙ্গলবার 12 March 2019, ২৮ ফাল্গুন ১৪২৫, ৪ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কেন এই যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা

আমরা দেশে শান্তি চাই, শান্তি চাই আমাদের এই উপমহাদেশেও। কারণ উপমহাদেশের অশান্তির অভিঘাত এসে লাগে আমাদের প্রিয় স্বদেশেও। সেই ১৯৪৭ সাল থেকেই কাশ্মীরকে নিয়ে উত্তেজনা চলে আসছে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে। এই উত্তেজনা কখনও রূপ নিয়েছে সংঘর্ষে, কখনওবা যুদ্ধে। সম্প্রতি আমরা তা লক্ষ্য করলাম বালাকোটে বিমান হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায়। ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তো সংগ্রাম করেছে এই উপমহাদেশের হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সমগ্র জনতা। জনতার সংগ্রামের কাছে মাথা নত করে বিদায় নিতে হয়েছে অত্যাচারী ও শোষক ইংরেজ শাসকদের। কিন্তু যাওয়ার আগে তারা কেমন কাণ্ড করে গেলেন? ‘ডিভাইড এন্ড রুল’ পলিসির মাধ্যমে তো হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্বকে উস্কে দিয়ে ইংরেজরা ২০০ বছর শাসন করেছে আমাদের এই উপমহাদেশ। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, ইংরেজরা আসলে গিয়েছে কি? ওরা আসলে যায়নি, কাশ্মীর সংকট উদ্ভাবনের মাধ্যমে উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলিম বিদ্বেষ জিইয়ে রেখে তারা এখনও ‘ডিভাইড এন্ড রুল পলিসি’ জীবন্ত রেখেছে পাকিস্তান ও ভারতের শাসককূলের মধ্যে। তাই প্রশ্ন করতে হয়, ইংরেজ আসলে গিয়েছে কী? আর একটি প্রশ্ন, জাতিসংঘ কখনও কাশ্মীরে গণভোটের ব্যবস্থা করতে পারলো না কেন?
দেশ দুটির শাসকরা যদি স্বাধীনতার মর্মবাণীর আলোকে জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন, তাহলে তারা হয়তো যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলায় এতটা উৎসাহী হতেন না। রাজনীতির খেলোয়াড়রা ক্ষমতায় যাওয়ার ও থাকার পলিটিক্সে বার বার ব্যবহার করেছেন কাশ্মীর ইস্যুকে। এমন পলিটিক্সে তিতবিরক্ত হয়ে উঠেছেন উপমহাদেশের বিবেকবান ও স্বাধীনচেতা মানুষেরা। তাদের মনে এখন যেই প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো কাশ্মীর কি কাশ্মীরিদের হতে পারে না? কারণ কোনো সুস্থ মানুষই চাইবে না যে, কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তান জড়িয়ে পড়ুক পারমাণবিক যুদ্ধে। এতে বিপদগ্রস্ত হবেন পুরো উপমহাদেশের মানুষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ