ঢাকা, বৃহস্পতিবার 14 March 2019, ৩০ ফাল্গুন ১৪২৫, ৬ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দেশে ২ কোটিরও বেশি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত

মুহাম্মদ নূরে আলম: দেশে বাড়ছে কিডনি রোগীর সংখ্যা। সে অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে উঠছে না। বাংলাদেশে বর্তমানে ২ কোটিরও বেশি মানুষ কিডনি সমস্যায় ভুগছেন। কিডনি রোগের চিকিৎসার রোগের ব্যয় বেশি হওয়ায় দেশে বিনা চিকিৎসায় মারা যায় ৯০ শতাংশ মানুষ। সচেতনতার অভাবে এ রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রায় ৭৫ শতাংশ কিডনি বিকল হওয়ার পরই এ রোগ ধরা পড়ে। প্রতি বছর কিডনি রোগে আক্রান্তদের মধ্যে মারা যায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ। দেশে কিডনি রোগ বৃদ্ধি ও এ কারণে এত মানুষের মৃত্যুর হার খুবই উদ্বেগজনক ও আতঙ্কের বিষয়। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, শিগগিরই যদি কিডনি রোগের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব না হয়, তবে অচিরে দেশ ভয়াবহ দুর্যোগের মুখোমুখি হবে; দেশে মৃত্যুর হার বেড়ে যাবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয় প্রতিবছর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে যে পরিমাণ শিশু দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে যায়, তাদের ৫ থেকে ৭ শতাংশই কিডনি রোগী। সে অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৪০ থেকে ৫০ লাখ শিশু কিডনি রোগী রয়েছে। অথচ তাদের মধ্যে বছরে মাত্র দুই থেকে আড়াই হাজার শিশু কিডনি ডায়ালাইসিসের সুযোগ পাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

 দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ ও কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মামুন মোস্তাফিজ বলেন, প্রতিবছর বিএসএমএমইউর বহির্বিভাগে ৭ হাজার শিশু কিডনি রোগী চিকিৎসা নেয়। এর মধ্যে প্রায় ৬ শতাধিক শিশু কিডনি হাসপাতালে ভর্তি হয়। যাদের মধ্যে মৃত্যুর হার ১ শতাংশ। এত বিপুল পরিমাণ এই শিশু কিডনি রোগীদের চিকিৎসা প্রদানে দেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মাত্র ৬০-৭০ জন বিশেষজ্ঞ আছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, বিএসএমএমইউ, জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা শিশু হাসপাতালে শিশু কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস প্রদান করা হয়। সেখানে বছরে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার ডায়ালাইসিস দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ক্রনিক কিডনি রোগীদের প্রধান চিকিৎসা কিডনি প্রতিস্থাপন। এই চিকিৎসা শুধু বিএসএমএমইউতে ২০০৬ সাল থেকে প্রদান করা হচ্ছে।

কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কেবিএম হাদিউজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, কিডনি রোগ বাড়ার প্রধান কারণ খাদ্য এবং খাদ্যজাত দ্রব্যের সঙ্গে অতিরিক্ত কীটনাশক, রাসায়নিক, প্রিজারভেটিভসহ নানাবিধ উপকরণের মিশ্রণ। অপরদিকে কিডনি রোগীদের জন্য চিকিৎসাসেবায়ও রয়েছে ঘাটতি। বিশ্বের উন্নয়নশীল অনেক দেশে কিডনি রোগের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক ডায়ালাইসিস সেন্টার বা সেবাকেন্দ্র থাকলেও বাংলাদেশে তা পর্যাপ্ত নেই বললেই চলে। দেশে এখন এ ধরনের সেবা অনেকটাই সাধারণ হাসপাতালের মধ্যে রাখা হচ্ছে, তা-ও শহরকেন্দ্রিক। এখানে কিডনি রোগের চিকিৎসা এতই ব্যয়বহুল যে, অনেকেই এর চিকিৎসা ব্যয় চালিয়ে যেতে সমর্থ হন না। অথচ কিডনি অকেজো হয়ে গেলে নিয়মিত ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন না করলে কিডনি রোগীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। কিডনিজনিত রোগের ওষুধের মূল্য আকাশচুম্বী, চিকিৎসা ব্যয় জনগণের নাগালের বাইরে থাকায় দেশে শতকরা ১০ জন রোগী এ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারে না। যার ফলে দেশে প্রতি বছর এ রোগে ৪০ থেকে ৫০ হাজার লোক মারা যাচ্ছে। এ হিসেবে বাংলাদেশে প্রতি ঘণ্টায় ৫ জন কিডনি রোগী মারা যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিডনি রোগের চিকিৎসার রোগের ব্যয় বেশি হওয়ায় দেশে বিনা চিকিৎসায় মারা যায় ৯০ শতাংশ মানুষ। আর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারে না শতকরা ১০ জন রোগী।

কিডনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভিমত, জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশে পর্যাপ্তসংখ্যক ডায়ালাইসিস সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া উচিত, যাতে কিডনি রোগীরা কম খরচে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন। কিডনি রোগপ্রতিরোধে খাদ্যজাত দ্রব্যকে বিষমুক্ত ও নিরাপদ রাখার ব্যাপারেও সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কিডনি রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করলে ৬০ শতাংশ সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে যাতে কিডনি রোগ চিহ্নিত করা যায়, সে ব্যাপারে এ রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিডনি রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দানে ও এ রোগপ্রতিরোধে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবেনÑ এমনটাই সবার কাম্য।

গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ বছর বয়সে কিডনির রক্তপ্রবাহ ৬০০ সিসি প্রতি মিনিটে, পক্ষান্তরে ৮০ বছর বয়সে তা কমে দাঁড়ায় ৩০০ সিসি/মিনিট। ৭০ বছর বয়সে কিডনির ক্ষমতা অর্ধেক হয়ে যায়। বয়সের সঙ্গে বাড়ে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, প্রস্রাবপ্রবাহে বাধাজনিত রোগ, মূত্রতন্ত্রের প্রদাহ ইত্যাদি। এসব কারণে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের হার বয়স্কদের মাঝে অনেক গুণ বেশি। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যাদের বয়স ষাটের বেশি তাদের প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ বিদ্যমান। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সংখ্যা ২০৩০ সালে দ্বিগুণ এবং ২০৫০ সালে তিন গুণ হবে।

শিশু কিডনি বিশেষঞ্জ ডা. সোহেলি আহমেদ জানান, শিশুদের অতি সাধারণ চিকিৎসাযোগ্য কিডনি রোগ থেকে মারাত্মক কিডনি রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ১৮ বছরের নিচের বাচ্চাদের ৪৫ শতাংশ এ রোগে আক্রান্ত হয় বেশি। শিশুদের দুধরনের রোগ হয়ে থাকে। তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘস্থায়ী। একবার তাৎক্ষণিক রোগ হলে ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক গুণে বেড়ে যায়। কিডনি রোগ থেকে প্রতিরোধের সম্পর্কে তিনি জানান, একটু সচেতন হওয়া ও স্বাস্থ্যসম্মত লাইফ স্টাইল শিশুকাল থেকে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত মেনে চলা জরুরি। শুধু লাইফ স্টাইল পরিবর্তন করে ৬৮ শতাংশ মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব। লাইফ স্টাইল পরিবর্তনে ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরো বলেন, সবাইকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটতে হবে। আর শিশুদের প্রতিদিন ১ ঘণ্টা মাঠে খেলতে দিতে হবে। এর সঙ্গে ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়াসহ প্রতি ঘণ্টায় পানি খাওয়ালে কিডনি বিকল ৫০ থেকে ৬০ ভাগ কমিয়ে আনা সম্ভব।

কিডনি রোগ ভয়াবহ কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য: কিডনি মানুষের শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এটা সবারই জানা। ব্যক্তির শরীরে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ফলে যে বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়ে তাকে, সেগুলোকে প্রস্রাবের আকারে শরীর থেকে বের করে দেওয়াই কিডনির প্রধান কাজ। এছাড়াও কিডনি লোহিত কণিকা তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। কিডনি মানুষের শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এটা সবারই জানা। ব্যক্তির শরীরে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ফলে যে বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়ে তাকে, সেগুলোকে প্রস্রাবের আকারে শরীর থেকে বের করে দেওয়াই কিডনির প্রধান কাজ। এছাড়াও কিডনি লোহিত কণিকা তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। শরীরে যতো হাড় আছে, সেগুলোকে মজবুত করাও কিডনির একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা, রক্তের মধ্যে বর্তমান বিভিন্ন লবনের ভারসাম্য রক্ষা করা, শরীরের বিভিন্ন এসিড এবং ক্ষারের ভারসাম্য আনয়ন- এ সবই অসামান্য দক্ষতার সঙ্গে পালন করে চলেছে দুই কিডনি। 

কিডনি কী কারণে অসুস্থ হয়? বিভিন্ন কারণে আমাদের কিডনি অসুস্থ হতে পারে। যেমন-কিডনি ফেইলর বা কিডনি বিকল, ধীরগতির কিডনি বিকল, কিডনিতে ইনফেকশন বা প্রস্রাবের ইনফেকশন, উচ্চ রক্তচাপজনিত কিডনি রোগ, ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ, পাথরজনিত কিডনি রোগ, প্রস্রাবে বাধাজনিত কারণে কিডনি রোগ ইত্যাদি। 

ধীরগতির কিডনি রোগ: এখন ধীরগতির কিডনি রোগ নিয়ে কিছু কথা বলা প্রয়োজন। যদি কিডনি কোনো কারণে রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়, তবে ধীরে তার ক্ষয় চলতে থাকে। ক্রমান্বয়ে ক্ষতির এই প্রক্রিয়া যদি টানা দুই বা ততোধিক মাস ধরে চলতে থাকে, তাহলেই ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা ধীর গতির কিডনি রোগ দেখা দিতে পারে।  এতে ধীরগতিতে কিডনির কার্যকারীতা ব্যাহত হয়, এমনকি কিডনির মূল গঠনও আস্তে আস্তে ক্ষয় হতে থাকে। প্রশ্ন হলো, কীভাবে কিডনির এই ক্ষয় রোধ করা যায়। আসলে, কিডনি রোগ হলো নীরব ঘাতক বা সাইলেন্ট কিলার। এর মানে হচ্ছে, যতোক্ষণ পর্যন্ত না কিডনির ৭০ থেকে ৮০ ভাগ (শতকরা) নষ্ট না হচ্ছে, ততোক্ষণ পর্যন্ত শরীরে বিশেষ কোনো ধরণের উপস্বর্গ দেখা যায় না। অতি সঙ্গোপনে, আস্তে আস্তে চলতে থাকে কিডনির সর্বনাশ। কিন্তু যখন, শেষমেষ উপসর্গ দেখা দেয়, তখন এটা প্রতিরোধ করার আর কোনো উপায় থাকে না। 

কিডনি ফেইলর প্রতিরোধ করতে হলে কী করবেন? মূলত, কিডনি রোগের ঝুঁকির মধ্যে যারা আছেন, তাদের খুঁজে বের করে পরীক্ষা করে দেখতে হবে, তাদের কিডনি সুস্থ আছে কি না।  যারা এই রোগের ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করেন তারা হলেন- ১.যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে ২.যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে ৩.যাদের কখনো নেফ্রাইটিস বা কিডনি ইনফেকশন হয়েছে ৪.যাদের কিডনিতে কখনো পাথরজনিত রোগ হয়েছে ৫.যাদের প্রস্রাবে কখনো বাধাজনিত রোগ হয়েছে ৬.যারা কোনো কারণে দীর্ঘদিন বেদনা নাশক ঔষধ খেয়েছেন, বা কোনো ধরণের অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছেন ৭.শিশুকালে যাদের কিডনি রোগ হয়েছে এবং ৮.যাদের বংশে ডায়াবেটিকস, উচ্চরক্তচাপ এবং কিডনি রোগের পূর্ব ইতিহাস আছে। 

কী কী পরীক্ষা করতে হবে? কোনো ব্যক্তি কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা, কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা তা শনাক্ত করতে পারি। যে কোনো ল্যাবরেটরিতেই এই পরীক্ষাগুলো করানো সম্ভব। সাধারণত, তিনটি জিনিস পরীক্ষা করতে হয়- প্রস্রাবের পরীক্ষা, রক্তের পরীক্ষা, অন্যান্য পরীক্ষা কিডনিতে পাথর বা প্রস্রাবে বাধাজনিত রোগ থেকে থাকলে তা শনাক্ত করার জন্যে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়ে থাকে।

কিডনি রোগের প্রতিকার: যাদের কিডনিতে কোনো না কোনো সমস্যা রয়েছে অথবা যারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন, তাদের রোগমুক্তির জন্য কয়েকটি ব্যবস্থা রয়েছে। যাদের উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, নেফ্রাইটিস আছে- তাদের কিডনি রোগের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আমাদের দেশে শতকরা ৮০ ভাগ কিডনি এই তিন কারণে নষ্ট হয়ে থাকে। এই তিনটি রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই শতকরা ৮০ ভাগ কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, কোলেস্টেরল কমান, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান পরিহার করুন। 

মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন করা হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। সে আইনে অল্প কয়েকজন নিকটজন ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে কিডনি নেয়া যেত না। আইনটি সংশোধন করে নতুন   একটি আইন হয়েছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে কিডনি প্রতিস্থাপন বাড়বে। নতুন আইনে পুত্র, কন্যা, স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা, ভাই- বোন এবং রক্ত সম্পর্কিত আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা ও তাদের স্ত্রী বা স্বামী, চাচাতো ভাই বোন, ফুফাতো ভাই বেন, মামাতো ভাই বোন, খালাতো ভাই বোন এবং তাদের স্ত্রী বা স্বামী এবং সন্তানাদি কিডনি দান করতে পারবেন। এর বাইরে ব্রেইন ডেথ (জীবিত কিন্তু মস্তিষ্ক কাজ করছে না এমন) ঘোষিত ব্যক্তির দেহ থেকে তার আইনানুগ উত্তরাধিকারীদের ইচ্ছানুসারে অথবা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো মৃত ব্যক্তির দেহ কেউ দাবি না করলে তার দেহ থেকে প্রয়োজনীয় অঙ্গ নেয়া যাবে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, কিডনি রোগে তুলনামূলকভাবে পুরুষদের চেয়ে নারীরাই বেশি আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে কিডনি চিকিৎসার ক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে পড়া এবং অবহেলিত। চিকিৎসকরা জানান, বিশ্বব্যাপী কিডনি রোগ একটি ভয়াবহ স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ৬ লাখ নারী অকাল মৃত্যুবরণ করে কিডনি বিকল হয়ে। সারা বিশ্বে ১৪ শতাংশ নারী পক্ষান্তরে ১২ শতাংশ পুরুষ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত, অথচ চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নারীরা অবহেলিত, তারা পুরুষশাসিত সমাজে বৈষম্যের শিকার। 

কিডনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, দেশে ব্যাপকসংখ্যক কিডনি রোগীর তুলনায় ডায়ালাইসিস সেন্টার খুবই কম। মাত্র ৯৬টি। ১৮ হাজার রোগী এসব সেন্টারে সপ্তাহে ২ বার করে ডায়ালাইসিস পায়। বেসরকারি সেন্টারগুলোতে ৩৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত ডায়ালাইসিস মূল্য রাখা হয় যা নিম্নবিত্ত এমনকি মধ্যবিত্তের জন্য বহন করা অসম্ভব। তিনি বলেন, সাউথ এশিয়াতে মোট কিডনি রোগীর তুলনায় মাত্র ১৫ শতাংশ রোগী ডায়ালাইসিস এর সুযোগ পায় বাকি বিশালসংখ্যক রোগী অর্থাভাবে ডায়ালাইসিস নিতে পারে না। তাই বাংলাদেশে ডায়ালাইসিস খরচ কমাতে সরকারি বেসরকারিভাবে বাস্তবিক উদ্যোগ নিতে হবে। নারীদের কিডনি চিকিৎসায়  বৈষম্য দূরীকরণে স্বয়ং সরকারকে বিশেষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, কিডনি প্রতিস্থাপন অথবা ডায়ালাইসিস কোনোটাই সহজ ও সুলভ না। ফলে বাংলাদেশে বছরে ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। দেশে ৮ লাখ মানুষের কিডনি বিকল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ